ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ছক্কার রেকর্ডে তানজিদের প্রথম সেঞ্চুরি

শাকিল আহমেদ মিরাজ

প্রকাশিত: ২৩:৫৬, ১৫ মার্চ ২০২৬

ছক্কার রেকর্ডে তানজিদের প্রথম সেঞ্চুরি

৩০ ওয়ানডেতে ফিফটি ৫টি, ৪৫ টি২০তে ১১। রঙিন পোশাকে আড়াই বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রতিভার ছাপ রাখলেও ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারছিলেন না তানজিদ হাসান তামিম। একজন ওপেনারের তার জন্য এটি কম পীড়াদায়ক নয়। সেই তিনি জ্বলে উঠলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘ফাইনালে’ রূপ নেওয়া সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে। ছক্কা মেরে সেঞ্চুরিতে পা রাখা ক্রেজি বাঁহাতি ব্যাটার জীবনের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকালেন ছক্কার রেকর্ড গড়ে। রবিবার হোম অব ক্রিকেটে মিরপুরের শেরেবাংলায় সমান ১০০ স্ট্রাইক রেটে ১০৭ বলে উপহার দিলেন ১০৭ রানের নান্দনিক এক ইনিংস। ৬ চারের বিপরীতে ছক্কা ৭টি। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশি কোনো ব্যাটারের সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড এটি, রেকর্ড মিরপুরেও। সঙ্গে লিটন দাসের ৫১ বলে ৪১ ও তাওহিদ হৃদয়ের ৪৪ বলে অপরাজিত ৪৮ রানে ভর করে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রানের ‘চ্যালেঞ্জিং’ স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় ৮৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কাঁপছিল পাকিস্তান!
ওয়ানডেতে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের কোনো ওপেনারের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড একটুর জন্য ছুঁতে পারেননি তানজিদ। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭৬ রানের ইনিংসে লিটন দাস ছক্কা মেরেছিলেন ৮টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম শতরানের স্বাদ পেলেন তানজিদ, প্রায় ২৭ মাস পর ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করতে পারলেন বাংলাদেশের কোনো ওপেনার। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচেও দুর্দান্ত ব্যাট করেছেন তানজিদ। ৮ উইকেটের বড় জয়ের পথে সেদিন মাত্র ১১৫ রানের লক্ষ্যেই ৫ ছক্কায় ৪২ বলে খেলেন অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস। পরের ম্যাচে ভালো করতে পারেননি। হাঁহাকার ঘোচানো সেঞ্চুরিতে জ্বলে উঠলেন সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে। তার এই শতরানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি খরাও কেটে গেল। প্রায় ২৭ মাস ও ২৩ ম্যাচ পর এই সংস্করণে সেঞ্চুরি পেলেন বাংলাদেশের কোনো ওপেনার। সর্বশেষটি ছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌম্য সরকারে ১৬৯। ১১ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির অপেক্ষা ঘুচল বাংলাদেশের। ২০১৫ সালে মিরপুরে সৌম্য সরকারের ১১০ বলে ১২৭ রানের ইনিংসের সুবাদেই পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। মিরপুরে এদিন টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই তানজিদের ব্যাট থেকে ঠিকরে বেরিয়েছে আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই হারিস রউফকে চার ও ছক্কা মারেন তিনি। একটু পর রউফকেই আরেকটি ছক্কা মারেন চোখ ধাঁধানো আপার কাটে। পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ৪৭ বলে।
ওপেনিংয়ে সঙ্গী সাইফ হাসান অবশ্য স্বস্তিতে খেলতে পারছিলেন না। তানজিদের সৌজন্যে তবু শতরানের জুটি গড়ে ওঠে। দ্বিতীয় উইকেটে অর্ধশত রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে। তানজিদ একই গতিতে খেলে এগিয়ে যান শতরানের দিকে। ৯৪ থেকে সালমান আলি আগার বলে লং অফের উপর দিয়ে ওই ছক্কায় পেয়ে যান প্রথম শতরানের অনির্বচনীয় স্বাদ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করতে তাঁর লেগেছে ৯৮ বল। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তামিম। ৩৭তম ওভারের তৃতীয় বলে আবরারকে কাট করতে যান তামিম। ব্যাটে-বলে ঠিকমতো সংযোগ না হওয়া বল সোজা কাভারে শাহিন আফ্রিদির হাতে চলে যায়। তার আগে শান্ত ৩৪ বলে ২৭ রান করে হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বিদায় নিয়েছেন। আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা রিভিউ নষ্ট করে গেছেন শান্ত। শান্ত-তামিমের বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৩৬.২ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৪ রান। চতুর্থ উইকেটে লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয় করেন ৬১ বলে ৬৮ রানের জুটিতে। ৪৭তম ওভারের তৃতীয় বলে লিটনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন হারিস রউফ। ৫১ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ রান করেন লিটন। লিটনের উইকেট নেওয়ার পরের বলেই রিশাদ হোসেনকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন রউফ। তবে হ্যাটট্রিকটা তিনি করতে পারেননি। পাঁচ নম্বরে নামা তাওহিদ হৃদয় ৪৪ বলে ৪ চারে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের ২৯০ রানের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৭ রান আসে তানজিদ তামিমের ব্যাটেই। পাকিস্তানের রউফ ১০ ওভারে ৫২ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। একটি করে শিকার শাহিন শাহ আফ্রিদি ও আবরার আহমেদের।

প্যানেল / জোবায়ের

×