ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ দিন যত গড়াচ্ছে, পরিস্থিতি ততই জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের পাল্টা হামলায় যখন চাপে পড়েছে ইসরাইল, ঠিক সেই সময় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই প্রস্তাবের মধ্যেই ইরান তাদের হামলার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইরান এখন আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যার ফলে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা Iron Dome নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানকে প্রযুক্তিগতভাবে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল চীন–এর বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্ক আরও প্রকাশ্যে এসেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে যুদ্ধের কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন–এর নামও বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের সময় ওই স্কুলে হামলা চালানো হয়, যাতে বহু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে Agence France-Presse–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চীন ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে Chinese Red Cross Society–এর মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের জন্য সহায়তা পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, স্কুল ও শিশুদের ওপর হামলা মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন।
অন্যদিকে The New York Times–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক সামরিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে লক্ষ্য নির্ধারণে ভুলের কারণে একটি মার্কিন Tomahawk missile ইরানের ওই স্কুলে আঘাত হানতে পারে।
যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইসরাইল–ও এ হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত এখন কেবল আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং বড় শক্তিগুলোর অবস্থান ও প্রতিক্রিয়ার কারণে এটি বৈশ্বিক রাজনীতির জন্য নতুন এক অনিশ্চয়তার জন্ম দিচ্ছে।
নুসরাত








