ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান পোশাকের বাজার তুঙ্গে

বেচা- কেনা জমজমাট হলেও বাড়তি দামে নাখুশ ক্রেতারা

শেখ আব্দুল আওয়াল, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ২২:৫৫, ১৫ মার্চ ২০২৬

বেচা- কেনা জমজমাট হলেও বাড়তি দামে নাখুশ  ক্রেতারা

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শেষ সময়ে পুরোপুরি জমে উঠেছে ময়মনসিংহের ঈদ বাজার। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে ময়মনসিংহের বিপনি-বিতানগুলোতে। এবারের ঈদে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানী পোশাকের চাহিদা তুঙ্গে। দাম নিয়ে ক্রেতা- বিক্রাতাদের দর কষাকষি চললেও ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পোশাক। তবে শাড়ীর বাজার মন্দা থাকায় কিছুটা অখুশি ব্যবসায়ীরা। এদিকে শপিংমল ও বিপনি-বিতানসহ বিভিন্ন পয়েন্ট চিহৃিত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ।

সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন ফুটপাত, মার্কেট শপিংমল  ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর তাজমহল, স্টেশন রোড, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, চরপাড়াসহ বিভিন্ন শপিংমল ও বিপনি-বিতানগুলো সেজেছে নতুন সাজে। বাহারি নামে ও ডিজাইনে শাড়ী, থ্রি-পিছ, টপস, শার্ট, প্যান্ট, টিশার্ট শোভা পাচ্ছে শোরুমগুলোতে। গাঙ্গিনারপাড় এলাকার ফুটপাতেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। দাম কষাকষি করে পছন্দের পোষাক কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর পোষাকের দাম বেশি বলে অভিযোগ তাদের।

ক্রেতারা জানান, প্রত্যেকটি শপিংমল, বিপনি-বিতানসহ ফুটপাতে পছন্দের পোশাক কিনছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা।  এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। তারা কিছুটা কম দামে কিন্তে এক শোরুম থেকে আরেক শোরুমে ছুটে যাচ্ছেন । অনেকে কম দামে পছন্দের পোশাক পেতে ফুটপাতকে বেছে নিচ্ছেন।

শহরের বাড়িপ্লাজা শপিংমল থেকে পরিবারের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছিলেন আবু বকর ।  কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি  বলেন, 
যেসব থ্রী পিছ গত বছর দাম চেয়েছিল ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা । সেই থ্রী পিছ এখন ১৫শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মেয়ের জন্য এক থ্রী পিছ কিনেছি। এখন পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাচ্ছি। তবে বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রি করায় পকেটে টাকার হিসেবে মেলাতে হিমসিম খাচ্ছি।

গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় ফুটপাত থেকে বাচ্চার টিশার্ট ও প্যান্ট কিনছিলেন সানিয়া  আক্তার । তিনি বলেন, এক দরের শোরুমগুলোতে  দাম লিখে রাখা হয়েছে। অন্য শোরুমেও দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এঅবস্থায় নিজের বাজেটের মধ্যে পোশাক কিনতে ফুটপাতে এসেছি।

বিক্রেতারা জানান, ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। তবে মানুষের হাতে টাকা না থাকায়, দামি কাপড় কিনতে সাহস পাচ্ছেন না।  ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বেশি বিক্রি হচ্ছে সারারা, গারারা, সিল্ক, শিফন, সুতির সালোয়ার-কামিজ, কুর্তিসহ বাহারি ডিজাইনের কাপড়। শিশুদের পোশাক, নারীদের শাড়ি, লেহেঙ্গার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে গভীর  রাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা। দাম একটু বেশি থাকলেও ভালো বিক্রি হওয়ায় খুশি দোকানীরা।

আজাদ  শপিংমলের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম  বলেন, ইতোমধ্যে বেচাকেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। গতবছরের চেয়ে এবার পোশাকের পাইকারি দাম একটু বেশি। তাই ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বিক্রি কমছে না। শেষ সময়ে বেচাকেনা আরও জমজমাট হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

ফুটপাতের ব্যবসায়ী  আব্দুল  জলিল জনকন্ঠকে বলেন, শপিংমল ও বিপনি-বিতানগুলোতে দাম বেশি থাকার কারনে অনেকেই কিনাকাটা করতে পারছেন না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা ফুটপাতে ভিড় করছেন। তারা কম দামে পছন্দের পোশাক কিনতে পারছেন। এতে আমাদেরও ব্যবসাও ভালোই হচ্ছে  ।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে কোনোকিছু বিক্রি করা যাবে না। দেশে তৈরি পোশাক ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি বা অন্য কোনো দেশের বলেও বিক্রি করা যাবে না। ক্রেতা ঠকিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পকেট ভারি করতে চেষ্টা করলে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
আবদুল্লাহ-আল্-মামুন বলেন, বিভিন্ন শপিংমলের সামনে পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশের টহল রয়েছে। চুরি- ছিনতাই রোদে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঈদে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।
 

×