ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

পেছাচ্ছে পে স্কেল বাস্তবায়ন

প্রকাশিত: ১৭:৪০, ১৫ মার্চ ২০২৬

পেছাচ্ছে পে স্কেল বাস্তবায়ন

দেশের চলমান অর্থনৈতিক চাপে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের আর্থিক সংকটের কারণে আপাতত পে স্কেল বাস্তবায়নে ধীরগতির নীতি নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। একই সময়ে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হওয়ায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ব্যয় মোকাবিলায় ৪০ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থের প্রায় পুরোটা ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা জ্বালানি খাতে ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কৃষকদের ঋণ সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পেও ব্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা। ফলে সংরক্ষিত অর্থের মধ্যে প্রায় ৩৯ হাজার ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৯৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থ ব্যয় সাপেক্ষ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য অস্থিরতা এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ সরকারের আর্থিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

তবে নতুন পে স্কেল বিষয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে হতাশা দেখা দিলেও তারা আশা করছেন, অন্তত আংশিক সমন্বয় করা হলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে।

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট ২০টি গ্রেডে এই বেতন কাঠামো সাজানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা।

গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ সরকারকে জমা দেয়।

Mily

×