ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড ভুট্টাক্ষেত, দিশেহারা কৃষক

আরএম সেলিম শাহী, নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝিনাইগাতী, শেরপুর

প্রকাশিত: ১৮:১৭, ১৫ মার্চ ২০২৬

শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড ভুট্টাক্ষেত, দিশেহারা কৃষক

শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ঝিনাইগাতী উপজেলায় ভুট্টার ক্ষেত লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক' শ কৃষক। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঝিনাইগাতীতে ৩৩০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্তত ১০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ঝড়ে ভুট্টার গাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং শিলাবৃষ্টিতে অপরিপক্ব ভুট্টা পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই ঋণ নিয়ে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন। 

ঝিনাইগাতী সদর উপজেলার প্রতাবনগর গ্রামের কৃষক রাজিবুল ইসলাম বলেন, “এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পাঁচ একর জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছিলাম। ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি শোধ করব কীভাবে, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।” 

ভয়েজ অব ঝিনাইগাতীর আহ্বায়ক জাহিদুল হক মনির জানান, শিলাবৃষ্টি এতটাই তীব্র ছিল যে অনেক বাড়ির টিনের চাল ছিদ্র হয়ে গেছে। রাতের অন্ধকারে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র পাওয়া না গেলেও সকালে খেতে গিয়ে কৃষকেরা ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পারছেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ১০ হেক্টর জমির ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বন্যা পরবর্তী সময়ে লাভজনক ফসল হিসেবে ভুট্টার চাষ শেরপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল। তবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রান্তিক কৃষকদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা এখন সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি আর্থিক সহায়তার দাবি জানাচ্ছেন।

রাজু

×