ছবি: সংগৃহীত
গণহত্যাকারী ও দখলদার হিসেবে অভিহিত ইসরায়েল এবং তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ১৬তম দিনে পালটা আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে ইরান। আজ রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে ইরানি বাহিনী ইসরায়েলি ভূখণ্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে তারা ইসরায়েলের বিশেষ পুলিশ ইউনিট ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের ড্রোন বাহিনী ইসরায়েলের কুখ্যাত বিশেষ পুলিশ ইউনিট ‘লাহাভ ৪৩৩’-এর সদর দপ্তরকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেছে। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতিরক্ষা কাজে ব্যবহৃত ‘গিলাত’ স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রেও শক্তিশালী ড্রোন আঘাত হেনেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে দখলদার বাহিনীর আগ্রাসনের সমুচিত জবাব হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে হামলার সুনির্দিষ্ট ফলাফল বা লক্ষ্যবস্তুগুলোর বর্তমান ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লাহাভ ৪৩৩ এবং গিলাত স্যাটেলাইট কেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলা সফল হলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ দিন ধরে চলা এই সংঘাত এখন ক্রমশ আকাশপথের ড্রোন যুদ্ধের চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে।
ইরান শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অবৈধভাবে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছে। ১৬তম দিনে এসে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এই গভীর হামলা প্রমাণ করে যে, ব্যাপক সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যতদিন পর্যন্ত আগ্রাসন বন্ধ না হবে, ততদিন পর্যন্ত ইসরায়েলি ভূখণ্ডে এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে।
এফএ








