যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়া। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম দেশ হিসেবে ইরানে বড় আকারের মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে মস্কো। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে পাঠানো এই সহায়তা মূলত যুদ্ধের ফলে বিপর্যস্ত ইরানের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সচল করার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সহায়তার মূল বিবরণ:
পরিমাণ: ১৩ টনের বেশি চিকিৎসা সামগ্রী।
উপকরণ: জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম এবং হাসপাতালের জরুরি যন্ত্রপাতি।
রুট: সমুদ্রপথে উত্তেজনা থাকায় বিশেষ কার্গো বিমানে প্রথমে আজারবাইজান, এরপর সেখান থেকে স্থলপথে ইরানে পৌঁছায় এই ত্রাণ।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তা কেবল মানবিক নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে:
১. নেতৃত্বের স্বীকৃতি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোস্তফা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মস্কোর এই দ্রুত সহায়তা মোস্তফা খামেনির নতুন প্রশাসনের প্রতি ক্রেমলিনের প্রকাশ্য সমর্থন ও স্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়।
২. পশ্চিমাদের পাল্টা বার্তা: পশ্চিমা বিশ্ব যখন ইরানকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, তখন রাশিয়ার এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত জোট আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
৩. বিকল্প করিডোর: হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকি বাড়ায় আজারবাইজান হয়ে স্থলপথের ব্যবহার আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এই ত্রাণ গ্রহণ করেছে। ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তেহরানের প্রতি মস্কোর অটল সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
রাজু








