ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

শুকনো তিস্তায় হঠাৎ কি হলো?

স্টাফ রিপোর্টার,নীলফামারী

প্রকাশিত: ২০:০৫, ১৫ মার্চ ২০২৬

শুকনো তিস্তায় হঠাৎ কি হলো?

খটখটে, শুষ্ক আবহাওয়ার জন্যে এতদিন  অস্বস্তি চলছিল। তিস্তা নদী ছিল শুকনো। নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার  সীমানা ডালিয়া ও দোয়ানীর মাঝামাঝি দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের অবস্থান।

ব্যারাজের  স্লইজগেট বন্ধ রাখা হয়। ফলে উজানের আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহে চলছে সেচ কার্যক্রম। এতে নদীর ভাটিতে দেখা দেয় বিশাল বালুময় চর। সামনে ঈদ। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ বিনোদনে তিস্তাপাড়ে প্রস্তুতি চলছিল বিভিন্ন দোকানের পসরা সাজানোর। তিস্তা ব্যারাজের ভাটির চরে গড়ে তোলা হয় এই আয়োজন। এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তিস্তা ব্যারাজের ভাটির চরে বাঁশ ও টিন দিয়ে দোকান ঘর তুলছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ঘটলো অবাক করা কান্ড।

রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরের পর  উজানের বৃস্টিপাতের রেশে তিস্তায় জোয়ার নেমে আসতে শুরু করে।  উজানের পানির চাপে তিস্তা ব্যারাজের স্লুইচ গেটগুলো খুলে দিতে থাকেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর এই জোয়ারে কপাল পুড়ে তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে বিশাল বালু চরে গড়ে উঠা ঈদ বিনোদনের প্রস্তুতির দোকান ঘরগুলো। একে একে ডুবতে শুরু করে নদীর চর।

ডালিয়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রশিদুর মিয়া জানান, এর আগে এমনটি ঘটেনি। শুস্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে এমন জোয়ার এলো সব লন্ডভন্ড করে দিলো। বাধ্য হয়ে ব্যারাজের ভাটিতে যারা দোকান তৈরী করছিলাম সব ভেঙ্গে সরিয়ে নিতে হচ্ছে। এবার আকাশের অবস্থাও ভাল না। তিনি জানালেন শুনেছি উজানে নাকি মাঝারী বৃস্টিপাতের রেশে তিস্তায় ঢল নেমেছে। দুপুরের পর সেই ঢলে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে।

তবে নদীর পানি বাড়লেও ফসলের ক্ষতি হবে না বলে জানালেন  পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিবিশনের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি বলেন, কিছু পানি বেড়েছে। এতে ফসলের ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা যায় উজানের দেশ ভারতে জেলাগুলিতে আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিঙপং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারএই পাঁচটি জেলায় অধিকাংশ জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই বৃস্টির পানি তিস্তা দিয়ে প্রবাহিম হবে। তাই তিস্তাপাড়ের মানুষজনকে সর্তকাবস্থায় থাকার জন্য বলা হয়েছে। স্থানীয় কৃষক রাকিবুল ইসলাম বলেন, তিস্তার চরে তামাক, ভুট্টা আলু,পেঁয়াজ আর মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে তার ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে, বিকালের পর থেকে নীলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেলেও  বিপৎসীমার অনেকে নিচে রয়েছে পানি প্রবাহ। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সর্তকীকরন ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপক  (গেজ রিডার) নুরুল ইসলাম জানান তিস্তানদীর বিপৎসীমা হলো ৫২ দশমিক ২৫ মিটার। নদীর পানি প্রবাহ ছিল ৪৮ দশমিক ৫০ মিটারের মতো। রবিবার সকালে সেই পানি বৃদ্ধি পায় ৫০ দশমিক ৮০ মিটার। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫১দশমিক ০০ মিটার হয়েছে। এতে নদীর চরগুলো তলিয়ে গেছে। রাতে পানি চাপ বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাবনায় তিস্তা ব্যারাজের স্লুইচ গেটগুলো খুলে রাখা হয়েছে তবে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার কোন সম্ভাবনা নেই।

 

রাজু

×