ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সৌদি আরবের

ওয়াহেদ রাজু

প্রকাশিত: ১৮:০০, ১৫ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সৌদি আরবের

দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা শেষে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সংঘাত এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের পাল্টা আক্রমণে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরব এই যুদ্ধের কেন্দ্রে চলে আসায় দেশটি নজিরবিহীন আর্থিক ও কৌশলগত সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু যখন তেলের খনি
সংঘাতের শুরুতেই সৌদিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের নিশানায় পরিণত হয়। এরপরই হামলার শিকার হয় দেশটির বৃহত্তম তেল শোধনাগার। যদিও ইরান এই নির্দিষ্ট হামলার দায় সরাসরি স্বীকার করেনি, তবে এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের ওয়াশিংটন-ঘেঁষা নীতিই তাদের জন্য আজ 'কাল' হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৫ দিনে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি
জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার ও উড ম্যাকেঞ্জির দেওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধের মাত্র ১৫ দিনে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৫১০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৌদি আরব।

সৌদির রপ্তানি আয় হ্রাস: প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার।

আঞ্চলিক প্রভাব: কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরাকের অর্থনীতিতেও ধস নেমেছে।

বৈশ্বিক প্রভাব: জোগান কমায় সাধারণ গ্রাহকদের চড়া মূল্যে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।

হরমোজ প্রণালী ও বিকল্পহীন সৌদি আরব
ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসন ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা। সৌদি আরামকো তাদের 'ইস্টার্ন অয়েল ফিল্ড' থেকে লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প পাইপলাইনে তেল পাঠানোর পরিকল্পনা করলেও বিশ্লেষকরা একে 'উচ্চাভিলাষী' বলে আখ্যা দিয়েছেন। উড ম্যাকেঞ্জির মতে, এই পাইপলাইন সিস্টেমটি কখনোই পূর্ণ ক্ষমতায় পরিচালনার উপযোগী ছিল না, ফলে এটি দিয়ে বৈশ্বিক চাহিদা মেটানো অসম্ভব।

"ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা এবং প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা সৌদি আরবের জন্য কৌশলগত ভুল হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।" — সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক।

মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিকুণ্ডে কেবল রাজনৈতিক মানচিত্রই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

 

রাজু

×