ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

৪০ বছর ক্ষমতায় থেকে আবারও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে সাসু!

প্রকাশিত: ১৪:২৮, ১৫ মার্চ ২০২৬

৪০ বছর ক্ষমতায় থেকে আবারও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে সাসু!

কঙ্গো-ব্রাজাভিলে রোববার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির ৮২ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ডেনিস সাসু ন্গুয়েসো চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছেন এবং এবারও তিনি আরও পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিপক্ষে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে প্রধান বিরোধী দল বিভক্ত এবং কার্যত অনুপস্থিত থাকায় তার জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই অনেকে মনে করছেন।

সাবেক প্যারাট্রুপার কর্নেল সাসু ন্গুয়েসো আফ্রিকার দীর্ঘমেয়াদি শাসকদের একজন হিসেবে পরিচিত। এই তালিকায় আরও রয়েছেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনিয়ার তেওদোরো ওবিয়াং ন্গুয়েমা এম্বাসোগো এবং ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রেসিডেন্ট সাসু দেশজুড়ে ঘুরে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান।

শুক্রবার নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়। ব্রাজাভিলে তার শেষ সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে তিনি নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন। যদিও তার শাসনামলে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিরোধী দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ নিয়মিত জানিয়ে আসছে।

২০১৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিরোধী নেতা জ্যঁ-মারি মিশেল মোকোকো ও আন্দ্রে ওকম্বি স্যালিসা বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি’ তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছিল।

প্রচারণায় সাসু তার সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস খাত ও কৃষি খাতে সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে আরও স্বনির্ভর করার চেষ্টা চলছে। তেলের রপ্তানি দেশের রাজস্বের বড় অংশ জোগায় এবং এ খাত থেকেই প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আয় আসে। ২০২৫ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে এত আয় থাকা সত্ত্বেও দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

সরকারের সমালোচকদের অভিযোগ, তেল থেকে অর্জিত বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ দুর্নীতির কারণে সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এ নিয়ে ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশে মামলা ও তদন্ত চলছে।

সংবিধান অনুযায়ী ২০৩১ সালের পর সাসু আর নির্বাচন করতে পারবেন না। তিনি বলেছেন, তিনি চিরকাল ক্ষমতায় থাকতে চান না এবং ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মের জন্য সুযোগ তৈরি হবে। তবে সম্ভাব্য উত্তরসূরি সম্পর্কে তিনি এখনো কোনো নাম ঘোষণা করেননি।

সাসু প্রথমবার ১৯৭৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত একদলীয় ব্যবস্থার অধীনে দেশ পরিচালনা করেন। প্রথম বহুদলীয় নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। পরে ১৯৯৭ সালে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে তিনি আবার ক্ষমতায় ফেরেন। সাব-সাহারান আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ কঙ্গো-ব্রাজাভিল হাইড্রোকার্বন খাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ভোটকেন্দ্রগুলো স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ হবে।

এ.এইচ

×