ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

এবার নিজের ঘনিষ্ঠ লোকদের সমর্থন হরাচ্ছে ট্রম্প!

প্রকাশিত: ১৪:০৩, ১৫ মার্চ ২০২৬

এবার নিজের ঘনিষ্ঠ লোকদের সমর্থন হরাচ্ছে ট্রম্প!

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এই সামরিক অভিযানের পক্ষে কোনো জোরালো প্রকাশ্য সমর্থন দেননি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অতীতে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ভ্যান্সের এই রহস্যজনক নীরবতা ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গত শুক্রবার নর্থ ক্যারোলাইনায় সংবাদকর্মীরা যুদ্ধের বিষয়ে তাঁর পরামর্শ জানতে চাইলে তিনি অত্যন্ত কৌশলে উত্তর এড়িয়ে যান এবং সিচুয়েশন রুমের কোনো গোপন তথ্য ফাঁস করতে অস্বীকৃতি জানান।

গত বছরের জুনে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল, তখন ভ্যান্স এক মিনিটেরও কম সময়ে চারবার ‘অবিশ্বাস্য’ শব্দটি উচ্চারণ করে অভিযানের সাফল্য উদযাপন করেছিলেন। এমনকি গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় মাদুরো বিরোধী অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মাথায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বৈধতা দিয়েছিলেন। অথচ বর্তমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পোস্টের সংখ্যা মাত্র আটটি, যার একটিও সরাসরি যুদ্ধের সমর্থনে নয়।

সিনেটর থাকাকালীন জেডি ভ্যান্সের অবস্থান ছিল মূলত অন্য দেশের ওপর সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালে এক নিবন্ধে তিনি লিখেছিলেন যে ট্রাম্প সফল প্রেসিডেন্ট কারণ তিনি নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াননি। ২০২৪ সালেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে ইরানের সাথে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়। তবে সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প যখন চূড়ান্তভাবে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন, তখন ভ্যান্স নিজের অবস্থান বদলে প্রেসিডেন্টকে দ্রুত ও কঠোর হামলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বর্তমানের এই নীরবতা মূলত ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং নিজের ব্যক্তিগত ‘আইসোলেশনিস্ট’ ভাবমূর্তি রক্ষার এক কঠিন ভারসাম্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকরা ভ্যান্সের এই অবস্থানকে নিছক ‘রাজনীতির খেলা’ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ইরান যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, তবে ভবিষ্যতে এর দায়ভার যেন তাঁর ওপর না পড়ে, সে জন্যই তিনি দূরত্ব বজায় রাখছেন। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেকে নিরাপদ রাখতেই কি ভ্যান্সের এই সাবধানী চাল—এখন এমন প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রেসিডেন্টের প্রতি এই প্রকাশ্য সমর্থনের অভাব তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

এফএ

×