ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ইরান যুদ্ধে একা হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প, যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না দুই মিত্র

প্রকাশিত: ১৫:০৪, ১৫ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধে একা হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প, যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না দুই মিত্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পরিস্থিতিতে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা চাইলেও জাপান ও ফ্রান্স তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি উত্তেজনা শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ পার হয়েছে। এই সময়ে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে জানানো হচ্ছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে মিত্রদের সহায়তা চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য এ উদ্যোগে যুক্ত হবে। তবে জাপান ও ফ্রান্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা নতুন করে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে না।

জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা জানান, সাংবিধানিক ও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নৌবাহিনী মোতায়েন করা তাদের জন্য কঠিন। জাপানের সংবিধান সামরিক অংশগ্রহণ বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখে, তাই দেশটি কূটনৈতিক পথেই অটল থাকবে।

অন্যদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে না। তাদের বিমানবাহী রণতরী বর্তমানে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের প্রত্যাশিত সামরিক সমর্থন এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। গবেষণা সংস্থার মতে, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে সার উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্য উৎপাদনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ইরান বলছে, তারা নিজেদের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত চলাচল বজায় রাখছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এই জলপথ কেবল শত্রু দেশ ও তাদের সহযোগীদের জন্য সীমিত থাকবে। ভারত ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা শেষে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এ.এইচ

×