ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ইরান যুদ্ধ নিয়ে গণমধ্যামকে কড়া বার্তা: ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবিরোধী সংবাদ প্রচার করলে সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করা হবে

ওয়াহেদ রাজু

প্রকাশিত: ২০:২৮, ১৫ মার্চ ২০২৬; আপডেট: ২০:৩৩, ১৫ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধ নিয়ে গণমধ্যামকে কড়া বার্তা: ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবিরোধী সংবাদ প্রচার করলে সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করা হবে

ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের আভাস দিয়েছে নবনির্বাচিত ট্রাম্প প্রশাসন। যুদ্ধের সংবাদ প্রচারে প্রশাসনের সমালোচনা বা বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (FCC) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, সম্প্রচার মাধ্যমগুলোকে অবশ্যই 'জনস্বার্থে' কাজ করতে হবে; অন্যথায় তারা লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে উসকে দিচ্ছে।

ট্রাম্প ও পেন্টাগনের অবস্থান
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং কয়েকটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘ফেক নিউজ’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন।

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট: সৌদি আরবে ইরানি হামলায় মার্কিন ‘রিফুয়েলিং’ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, সব বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য: মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ অভিযোগ করেছেন যে, গণমাধ্যম যুদ্ধ পরিস্থিতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে।

তীব্র প্রতিবাদ ও জনমত
প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে বাক-স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের মতে:

সাংবিধানিক লঙ্ঘন: মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সরকার যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য এভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

জনমত: সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৫৩% মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল যৌথ হামলার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। তবে গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের এই হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের চিরাচরিত ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা’র ইমেজকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

 

রাজু

×