ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

পিরোজপুরে সরিষার বাম্পার ফলন

নাছরুল্লাহ আল-কাফী, পিরোজপুর

প্রকাশিত: ২৩:০৪, ১৫ মার্চ ২০২৬

পিরোজপুরে সরিষার বাম্পার ফলন

দিগন্তজোড়া হলুদ ফুলে ঢেকে গেছে মাঠ। যেন প্রকৃতি নিজেই মেখে দিয়েছে সোনালি রঙের চাদর। আর সেই রঙিন দৃশ্যের মাঝেই ফুটে উঠেছে কৃষকের হাসি। চলতি মৌসুমে পিরোজপুরে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের সুবাতাস। কম খরচে বেশি লাভ এবং ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য সামনে রেখে জেলায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে এবছর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরিষার আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে মাঠে মাঠে এখন সোনালি স্বপ্নের বাস্তব রূপ। কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানায়- পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর, কাউখালী, মঠবাড়িয়া ও ভান্ডারিয়াসহ জেলার সাতটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৫৫৪ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বারি সরিষা ১৪ ও ১৮ জাতের চাষ বেশি হয়েছে।
এসব জমি থেকে প্রায় ২৬১৮ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই সরিষা থেকে প্রায় ১৫০০ মেট্রিক টন ভোজ্য তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলায় বর্তমানে ১০ থেকে ১২টি তেলকল সরিষা থেকে তেল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এই শিল্পের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছেন প্রায় ১৭০০ শ্রমিক, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল সরিষার বীজ বিতরণ করা হয়েছে, যা ফলন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাউখালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেউন্দ্রিয়া গ্রামের কৃষক মো. শাওন জানান, ভোজ্য তেলের দাম বেশি হওয়ায় নিজেদের চাহিদা পূরণ ও বাজারে বিক্রির জন্য তিনি ৩৩ শতাংশ জমিতে বিনা সরিষা-১১ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এবার ফলন ভালো হয়েছে। খরচ কম, তাই লাভও ভালো হওয়ার আশা করছি।’ নাজিরপুর উপজেলার কৃষক মিজানুর রহমান, আবুল বাসার ও আল আমিন জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার ফলন আরও বেশি হবে বলে তারা আশাবাদী। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, ‘জেলায় প্রায় ৫৫৪ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এর উৎপাদন হবে প্রায় ২৬১৮ টন। এখান থেকে প্রায় ১৫০০ মেট্রিক টন তেল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি এবং প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে তাদের উদ্বুদ্ধ করছি।’
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানান, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন ও দারিদ্র বিমোচনে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সহযোগিতা করে আসছে।
সোনালি সরিষার ফুলে ভরে ওঠা পিরোজপুরের মাঠ যেন এখন শুধু কৃষকের স্বপ্নই নয়Ñদেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণেও হয়ে উঠছে সম্ভাবনার উজ্জ্বল প্রতীক। তবে কিছু শ্রমিকরা কৃষি বিভাগের সহায়তা পান না বলেও অভিযোগ করেন।

প্যানেল / জোবায়ের

×