জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের এক ছাত্রীকে সাভারের ইসলামনগর এলাকার নিজ বাসা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোববার ১৫ মার্চ বিকেলে আশুলিয়া থানাধীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ওই ছাত্রীর নাম শারমিন জাহান (২৩)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম আবর্তনের (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া এলাকার বাসিন্দা। বিশ্ববিদ্যালয় সুত্র থেকে জানা যায়, শারমিন তার স্বামী ফাহিম আল হাসানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শারমিনের স্বামী ফাহিম হাসান বিকেল তিনটার দিকে বাইরে থেকে এসে বাসার দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা শারমিনকে মাথায় গুরুতর আঘাত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে বিকেল চারটার দিকে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বামী ফাহিম হাসান জানান, সকালে মোবাইল ফোন কেনার জন্য তাদের ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। তবে শারমিনের রক্তচাপ কম থাকায় তিনি একাই ঢাকায় যান। ঢাকায় থাকা অবস্থায় তিনি কয়েকবার শারমিনকে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর পাননি। পরে বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ দেখে বাড়িওয়ালাকে জানিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। তিনি আরও জানান, শারমিনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে।
পরবর্তীতে বাসার মালিক ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় শারমিনকে দ্রুত উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে এনাম মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতালের ডিউটি অফিসার ইউসুফ আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, 'ওনাকে (শারমিন) সোয়া পাঁচটার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। তখন তিনি মৃত অবস্থায় ছিলেন। আমরা তাকে ব্রট ডেড ঘোষণা করি।'
খবর পেয়ে এনাম মেডিকেল কলেজে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী।
প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, 'আমরা ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং যথাসম্ভব সহযোগীতা করেছি। পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি এর প্রপার ইনভেস্টিগেশন করার।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।








