ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

বসন্তে ভাঁটফুলে সেজেছে চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল

নিজস্ব সংবাদদাতা: শ্রীমঙ্গল,মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ২৩:৩৪, ১৫ মার্চ ২০২৬

বসন্তে ভাঁটফুলে সেজেছে চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল

বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যখন নতুন রূপে সেজে ওঠে, তখন দেশের চায়ের দেশ ও পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে ফুটে ওঠা ভাঁটফুল সেই সৌন্দর্যে যোগ করেছে অনন্য মাত্রা। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, বড়লেখা ও কুলাউড়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলের পথঘাট, চা-বাগানের পাশ, নদী-খাল ও জলাশয়ের পাড় সবখানেই এখন চোখে পড়ে সাদা-হালকা বেগুনি রঙের থোকা থোকা ভাঁটফুল। প্রকৃতির এই শুভ্র সাজে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারী ও দর্শনার্থীরা।

গ্রামীণ মেঠোপথের দুই পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর ফুটে থাকা ভাঁটফুল দূর থেকে দেখলে মনে হয় সবুজের ওপর যেন সাদা তুলোর আস্তরণ বিছিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি। বসন্তের রঙিন আবহে যখন পলাশ ও শিমুল আগুনরাঙা রূপে প্রকৃতিকে সাজায়, তখন ফাল্গুন ও চৈত্রজুড়ে ভাঁটফুলের শুভ্রতা সেই রূপকে আরও স্নিগ্ধ করে তোলে।

ভাঁটফুল মূলত গ্রামবাংলার পরিচিত এক বুনো ফুল। অঞ্চলভেদে এটি ভাইটা ফুল, ঘেঁটু ফুল, ভাত ফুল, বনজুঁই বা ঘণ্টাকর্ণ নামেও পরিচিত হলেও শ্রীমঙ্গলের অনেক এলাকায় এটি ভাঁটফুল নামেই বেশি পরিচিত। ছোট আকারের পাঁচ পাপড়িবিশিষ্ট ফুলটির মাঝখানে থাকে লালচে আভা ও লম্বা পরাগদ-, যা এর সৌন্দর্যে আলাদা মাত্রা যোগ করে। বিকেলের পর থেকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এর মৃদু সুবাস, যা গ্রামীণ পরিবেশকে করে তোলে আরও স্নিগ্ধ ও প্রাণবন্ত।

উদ্ভিদবিদদের মতে, ভাঁট বা বনজুঁই একটি শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট বহুবর্ষজীবী গুল্ম জাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঈষবৎড়ফবহফৎঁস ারংপড়ংঁস এবং ইংরেজি নাম হিল গেন্টারি বা বোয়ার ফ্লাওয়ার। ভারতীয় উপমহাদেশকে এই উদ্ভিদের আদি নিবাস ধরা হয়। সাধারণত বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে এবং গ্রামীণ পরিবেশে ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত ভিটেবাড়ি, চরাঞ্চল কিংবা জলাশয়ের ধারে স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নেয় এই গাছ।
স্থানীয়দের মতে, একসময় গ্রামবাংলার প্রায় সর্বত্র ভাঁটফুলের দেখা মিললেও আবাদি জমি বৃদ্ধি ও বনজঙ্গল পরিষ্কারের কারণে ধীরে ধীরে এর বিস্তার কমে যায়। তবে চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার  বিভিন্ন নির্জন এলাকায় আবারও ভাঁটফুলের ব্যাপক উপস্থিতি ফিরিয়ে এনেছে হারানো সৌন্দর্যের স্মৃতি।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, ভাঁটফুল শুধু নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; এটি জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মৌমাছির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মধু উৎস। বসন্তের এই সময়টাতে  গ্রামীণ পথঘাটে ভাঁটফুলের শুভ্রতা যেন যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার এক নীরব আহ্বান জানায়।

×