ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

শেষ সময়ে দাম বাড়ানোর অভিযোগ

খুলনায় জমজমাট ঈদবাজার

প্রবীর বিশ্বাস, খুলনা অফিস

প্রকাশিত: ২২:৫১, ১৫ মার্চ ২০২৬

খুলনায় জমজমাট ঈদবাজার

মাহে রমজানের প্রথম সপ্তাহ থেকেই খুলনায় জমে উঠতে শুরু করে ঈদ বাজার। ফুটপাত থেকে শুরু করে বিপণি বিতান ও আউটলেটেও বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়। অনেকেই ভিড় ও গরম এড়াতে আগেভাগেই সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সেরে নিয়েছেন কেনাকাটা। তবে শেষ সময়ে জমজমাট ঈদ বাজার। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধুমছে চলছে কেনাকাটা। ক্রেতাদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিক্রেতারা। তবে বরাবরের মতোই দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ ক্রেতাদের। আর দোকানিদের দাবি পারতপক্ষে এবার পণ্যে দাম বাড়েনি। অপরদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা যাতে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে সেজন্য বাজার তদারকি করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি নজরদারি।
খুলনার ছোট-বড় মিলে শতাধিক মার্কেট রয়েছে। মহানগরী ও নয়টি উপজেলায় রয়েছে এসব মার্কেট । ঘুরে ঘুরে দেখা যায় সবখানেই ক্রেতা-বিক্রেতারা ব্যস্ত বেচাকেনায়। এমন কোনো মার্কেট নেই যেখানে ক্রেতাদের ভিড় নেই। কেউবা একা আবার কেউ সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যসহ এসেছেন ঈদের বাজার করতে। কারও কারও আবার গার্মেন্টের তৈরি পোশাকে বিশ্বাসী নন।
তাদের পছন্দ ছিট কাপড় কিনে পোশাক তৈরিতে। অনেকে সেটি করেও ফেলেছেন। আবার কেউ কেউ পরিবারের জন্য কেনাকাটা করে পুনরায় এসেছেন আত্মীয়স্বজনের জন্য কিনতে। ঈদে চাই নতুন পাঞ্জাবি। তাই ভিড় রয়েছে সেখানেও। কেউ আবার শাড়ির দোকানে ব্যস্ত। নগরীর বিভিন্ন আউটলেটেও ধুমছে চলছে ঈদ বাজার। এছাড়া সমানে কেনাবেচা চলছে ফুতপাত কিংবা ভ্যানের ওপর দোকানেও। বরাবরের মতোই সেখানে ভিড় দেখা যায় স্বল্প আয়ের মানুষের।
দেখা যায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নানা রং ও ডিজাইনের পোশাকে সাজিয়েছেন দোকান। বরাবরের মতোই ঈদ উপলক্ষে এসেছে নতুন নতুন কালেকশনও। বাংলাদেশী পোশাকের সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তান থেকে এসেছে বাহারি নামের পোশাক। কানি, গাদোয়ান, জিমিচু ও কারচুপির নানা শাড়ি আর ইবাদত, মালহার, কারিজমা, বিন মাহমুদ, আগানুর, জমজম নামের থ্রিপিস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া সারারা, নায়রা, গায়রা, ফার্সি লেহেঙ্গা, আফগানী পোশাক তো রয়েছেই। তবে গরমের কথা মাথায় রেখে হালকা রং ও সুতির কাপড়ের দিকে আগ্রহ অনেকের।
নগরীর বাগমারা এলাকার বাসিন্দা কাজী মফিজুর রহমান বলেন, ঈদে সকলকেই নতুন পোশাক দিতে হয়। তাই রোজার আগ থেকেই কেনাকাটা শুরু করেছি। যা এখনো চলমান রয়েছে। তবে অনেক দোকানদার দাম বেশি চাইছে। রোজার শুরুতে এক দাম আর এখন একই পণ্যের বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন। ক্রেতাদের প্রয়োজনের সুযোগ নিচ্ছেন অনেক দোকানদার।
নিক্সন মার্কেটের বিক্রেতা গোপাল সাহা বলেন, শুরু থেকেই এবার বেচাকেনা ভালো হয়েছে। এখন তো আমরা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছি। ক্রেতা সামলাতে অতিরিক্ত লোকবল নিয়েছি। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি বলেন, গত বছরের মতোই দাম রয়েছে। তবে নতুন কিছু পণ্য আমাদেরই বেশি দামে কিনতে হয়েছে বিধায় সেইসব পণ্যের দাম কিছুটা বেশি নিতে হচ্ছে।
খুলনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে অতিরিক্ত মূল্য নিতে না পারে সেজন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মূল্যায়ন করা হচ্ছে ক্রয়মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের রসিদ। কোথাও ব্যত্যয় ঘটলে নেওয়া হচ্ছে আইনি ব্যবস্থা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হচ্ছে।
অপরদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ঈদ কেনাকাটা করতে পারে সেজন্য বিশেষ পুলিশিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির পাশপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। যত সময় মার্কেটগুলো খোলা থাকে তত সময় চলছে এই কার্যক্রম।

প্যানেল / জোবায়ের

×