ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

দাম্পত্যে অশান্তি!

সচেতন হোন

ডা. জাহেদ পারভেজ

প্রকাশিত: ২২:১৪, ১৬ মার্চ ২০২৬

সচেতন হোন

দাম্পত্যে অশান্তি!

সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়েই চলেছে। লেখাটির উদ্দেশ্য জনসচেতনতা সৃষ্টি ও কিছু ভুল ধারণা খ-ন। আমাদের দেশে পাশ্চাত্যের মতো হাইস্কুল-কলেজগুলোয় যৌন শিক্ষাব্যবস্থা নেই। তাই অনেক ভুল ধারণা ও বিশ্বাস নিয়ে তরুণ-তরুণীরা সংসার জীবনে প্রবেশ করে। প্রধানত দাম্পত্য জীবনে যে শারীরিক সমস্যা দেখা যায়, তা দুধরনের ইরেকটাইল ডিজফাংশন (ইডি) ও প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন (পিই)। ইরেকটাইল ডিজফাংশন পুরুষাঙ্গে রক্ত চলাচল ও নার্ভের সমস্যা বা উভয় সমস্যা থেকে হয়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপেও হতে পারে। এসব রোগ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

আরেক ধরনের অক্ষমতাকে বলা হয়ে থাকে সাইকোজেনিক ইমপোটেন্স। এটি বিবাহের পর-পর প্রায়ই দেখা যায়। এটি সাইকোলজিক্যাল বা নার্ভাসনেসের কারণে হয়ে থাকে। কিছু সাপোর্টিভ চিকিৎসায় অল্পদিনেই এটি ভালো হয়। তবে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে। দ্রুত বীর্যপাত (পিই) আমরা তখনই বলি, যখন এক মিনিটের মধ্যে এটি ঘটে। তবে এটি দীর্ঘায়িত করার আধুনিক চিকিৎসা বর্তমানে আছে।
চিকিৎসা : সমাজে ভ্রান্ত ধারণা থাকায় অনেকে এসব সমস্যায় নানা অপচিকিৎসার শিকার হন। পুরুষের এ ধরনের দুর্বলতার চিকিৎসার জন্য সঠিক চিকিৎসক হলেন একজন যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ। কখনও ইউরোলজিস্ট ও অ্যান্ড্রোলস্টির পরামর্শ নিতে হতে পারে। অ্যান্ড্রোলজিস্টের কাছে গেলে তিনি রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করবেন। কিছু ইনভেস্টিগেশন বা ল্যাব পরীক্ষা ও ডপলার আলট্রাসনোগ্রাম করা লাগতে পারে। ডপলার করা হলে রক্ত চলাচলজনিত বা ভাসকুলোজেনিক ইমপোটেন্স নিশ্চিত হওয়া যায়। পরীক্ষার সময় পুরুষাঙ্গে পেরোনিজ ডিজিজ বা অন্য কোনো রোগ আছে কিনা, দেখা হয়।

ইডি ও পিইটিরই ভালো চিকিৎসা আছে। সঠিক পরামর্শ, ওষুধ ও ইনজেকশন বা পিনাইল প্রসথেসিস/ ইমপ্ল্যান্টের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে হরমোন চিকিৎসা নিতে হবে। বিয়ের আগে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকে। উন্নত অনেক দেশে এখন প্রাকবিবাহ কাউন্সেলিং চালু হয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদ ও দাম্পত্য অশান্তি কমাতে এ-জাতীয় সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিসৎকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ওষুধে চিকিৎসা : নির্দিষ্ট ফসফোডাইষ্টারেজ-৫ বিরোধী ওষুধ (সিলডেনাফিল), ভার্ডনাফিল, টাডালাফিল) প্রয়োজনীয় ওষুধ। এগুলো নানা বিক্রিয়ার মাধ্যমে পুরুষাঙ্গের ক্যাভারনাস টিস্যুতে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং প্রয়োজনীয় মুহূর্তে পুরুষাঙ্গ শক্ত করে তোলে। কিন্তু এসব ওষুধের রয়েছে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। সবার জন্য নিরাপদও নয়। এমনকি হার্ট অ্যাটাকের কারণও হতে পারে ওষুধ সেবনের পর। যারা হার্টের জন্য নাট্রোগ্লিসারিন জাতীয় ওষুধ সেবন করেন অথবা বুকের ব্যথা ওঠে, হার্টফেইলিউর আছে, সম্প্রতি বুকব্যথা (গ.ও) হয়েছে, যাদের অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন (arrythmia) আছে কিংবা যাদের নি¤œ রক্তচাপ (৯০/৫০) অথবা উচ্চ রক্তচাপ আছে, যাদের স্ট্র্রোক হয়েছে তারা এসব ওষুধ সেবন করবেন না। তবে যে কোনো ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেবন করুন।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ত্বক-চর্ম-যৌন ও হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগ, সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগর।
চেম্বার : ডা. জাহেদ’স হেয়ার অ্যান্ড স্কিনিক সেন্টার,
সাবামুন টাওয়ার, পান্থপথ মোড়, পুলিশ বক্সের সঙ্গে,  ঢাকা, হটলাইন : ০১৭০৭০১১২০০, ০১৭১৫০৫০৯৪৯

প্যানেল হু

×