মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়াচ্ছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ইরানের কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে হামলা চালানোয় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। এ সংঘাত এখন আর আঞ্চলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গিয়েও পড়েছে। ট্রাম্প এই যুদ্ধের কারণ হিসেবে কখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, কখনো ক্ষেপণাস্ত্র, আবার কখনো শাসন পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্য কিন্তু শুধু ইরানের শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তন নয়। মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে একটি দুর্বল ও বিভক্ত রাষ্ট্রে পরিণত করা। ইসরাইলের ‘গ্রেটার ইসরাইল’ পরিকল্পনার সঙ্গে এই লক্ষ্য সংযুক্ত। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরাইলের প্রভাব মিসরের নীল নদ থেকে ইরাকের ফোরত নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই মন্তব্য করেছেন, ইরানকে ভাগ করে এর তেলসম্পদ দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনা করছে। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও বড় ধরনের হামলা আরম্ভ করেছে। তেলের বাজারসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল চলমান যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল এবং বিভাজন করতে চায়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ প্রসঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নিস্ট গোষ্ঠী অশুভ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুসরণ করে ইরান এবং বড় ইসলামি রাষ্ট্রগুলোকে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন করতে চায়। এমন চাপ ও হামলার মধ্যেও নিজেদের অবস্থান থেকে ইরান সরে আসবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আর এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খামেনির শাসনকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে এবং এর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান। এমনকি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র তীব্র হামলা চালাতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ট্রাঙ্কারগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র পাহারা দেবে এবং উপসাগরীয় মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অসাধারণ ঐক্য রয়েছে বলেও ট্রাম্প মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে নতুন করে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ১৩ তারিখ হুমকি দিয়ে বলেন, ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সর্বোচ্চ সংখ্যক হামলার দিন হবে আজ। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ১৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সকল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এমন আগ্রাসন শুধু কূটনৈতিক উদ্যোগকে কেবল বিপর্যস্তই করেনি, আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক কাঠামোকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করাটাই স্বাভাবিক। ইসরাইলের সেনাবাহিনীও ইরানে নতুন করে বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের বর্তমান শামনব্যবস্থা এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং রাষ্ট্রের জনগণের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ২ সপ্তাহ হামলার পরও অদূর ভবিষ্যতে ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি নেই বলেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মন্তব্য করেছে। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায়ও স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। সংঘাতের শুরুর দিকেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলে, ইরানের বিশেষজ্ঞ পর্ষদ তারই পুত্র মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা পাওয়ার প্রচেষ্টার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কুর্দিদের কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপে অবস্থিত মিত্র রাষ্ট্রগুলোর এ সংঘাতে সম্পৃক্ত হওয়ার আভাস পেয়ে রাশিয়া সমালোচনা করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আরব রাষ্ট্রগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য টেনে আনছে। অন্যদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে আরবদের একটি যুদ্ধের মধ্যে টেনে আনার চেষ্টা হচ্ছে বলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে।
ব্রিটিশ সরকার বলছে, ইরানের ওপর প্রাথমিক হামলায় তারা কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়। তবে যেসব দেশ শুরুতে হামলায় অংশগ্রহণ করেনি, সেখানে ইরান হামলা চালানোয় যুক্তরাজ্য বাধ্য হয়েই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রতিরক্ষামূলক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে মিত্রদের সমর্থনে ফ্রান্সের অবস্থান সম্পূর্ণভাবে আত্মরক্ষামূলক থাকবে বলে জানেিয়ছেন। এতে বুঝা যাচ্ছে, ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা ও আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যেও ধীরে ধীরে মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোও চলমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান কেন্দ্রিক সহিসংতা যাতে আর বৃদ্ধি না পায়, সেজন্য তুরস্ক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ যুদ্ধ যে শিক্ষা দেয় তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। বরং বিপরীতে উদীয়মান এশিয়ার অর্থনৈতিক সুযোগ প্রতিনিয়তই আরও উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র রাষ্ট্রগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে যে নিরাপত্তা এবং নিশ্চয়তার ওপর ভর করে এ যুদ্ধ তা এখন মিথ্যা প্রমাণ হচ্ছে। তাদের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কৌশলও যে নিরাপদ অবকাঠামো এবং নির্ভরযোগ্য রপ্তানির ব্র্যান্ডিংকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে তাও একইসঙ্গে মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে। এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। তবে প্রস্তাবটিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের হামলার কোনো উল্লেখ না থকায় এমন পক্ষপাতদুষ্ট প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন অনেকে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদের ইতিহাসে এমন প্রস্তাব গ্রহণ করাকে একটি ‘স্থায়ী কলঙ্ক এবং নিরাপত্তা পরিষদের ‘চরম অপব্যবহার’ বলে মন্তব্য করেন। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন কেবল একটি আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা নিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সমালোচনা করে বলেন, আমেরিকানরা ইরানের যে পারমাণবিক বোমা অর্জনের বিষয়টি এড়াতে চায়, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ইরান তা অর্জন করবে। সাম্প্রতিক দিনের অভিজ্ঞতার কারণে আরব রাষ্ট্রগুলোও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে করে পারমাণবিক বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে তিনি মনে করেন। এদিকে মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স মনে করেন, ইসরাইল ও সৌদি আরবের চাপের মুখেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পনা ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং ধর্মীয় ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যা করা গেলে, ইরানের সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু তাদের এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের অন্যতম সুবিধাভোগী হিসেবে রাশিয়া সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানের হামলার কারণে তেলের দাম হয়েছে আকাশচুম্বী। যা রাশিয়ার আয়ের প্রধান উৎসকে চাঙা করে দিয়েছে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়া সহজ করে তুলেছে। কারণ, ইউক্রেনে গত ৪ বছরের যুদ্ধের খরচের জন্য রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট তৈরির উপক্রম হয়েছিল। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, উচ্চ সুদের হার, শ্রমিকের সংকটে অর্থনীতি যখন চাপে ছিল তখন ক্ষয়ক্ষতি কীভাবে হ্রাস করা যায়, তা নিয়ে রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার উত্তেজনা ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়াকে আর কম দামে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে না। বরং অপরিশোধিত তেল এখন চড়া দামে বিক্রি করতে পারবে। কারণ, চীন ও ভারতের মতো প্রধান ক্রেতা রাষ্ট্রগুলো তাদের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
রাশিয়া গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করে ইরানকে সহযোগিতা করছে, যাতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। রাশিয়া আর একটি কারণে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবার প্রত্যাশা করতে পারে। কারণ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসবে। আবার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের ফলে চীনের জন্য আরও বৃহৎ পরিসরে কৌশলগত ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ইরানকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র যদি গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাইওয়ানসহ এশিয়ার বিভিন্ন ইস্যুগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ হারাবে। এই সুযোগটাকে চীন কাজে লাগাবে। চীন একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহের ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধিতে কাজে লাগাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের ফলে চীনের জন্য আরকেটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করবে। নতুন করে ইরানের আক্রমণ চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে যাবে। তবে এ সংঘাতের কারণে চীনের জ্বালানি খাতে ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ, ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করে। এটি চীনের সমুদ্র পথে আমদানি করা মোট তেলের প্রায় ১৩ শতাংশ। ভারত এদিকে ইসরাইলের ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। বর্তমান সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে ভারত হচ্ছে ইসরাইলের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র রাষ্ট্র। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও উভয় রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে ভারত ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন অস্ত্র তৈরি করছে। ভারতের এই সহযোগিতা ইসরাইলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে ইসরাইল অস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তি ও শ্রমশক্তির ক্ষেত্রে ভারতকে অংশীদার হিসেবে পাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের এই মিত্রতার লক্ষ্য শুধু নিরাপত্তা সহযোগিতা নয়, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা। আর ইরান যদি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন করে ক্ষমতার বলয় তৈরি হবে। আর ইসরাইল হবে এক্ষেত্রে প্রধান সামরিক শক্তি। আর তাই ইসরাইল তাদের ঐতিহ্যগত সমারিক কৌশল ‘দাহিয়া নীতি’ প্রয়োগ করছে। ২০০৬ সালের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় থেকেই লেবাননে এই নীতি প্রয়োগ করছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে এই নীতি প্রয়োগ করে প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি হত্যা করেছে এবং গাজার বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। ইরানের অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এমন ক্রমবর্ধমান হামলা তারই প্রমাণ।
লেখক : অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্যানেল / জোবায়ের








