ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

যে শোকের সান্ত্বনা নেই

প্রকাশিত: ২৩:২৪, ১৫ মার্চ ২০২৬

যে শোকের সান্ত্বনা নেই

সদ্য পরিণীতা নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতুর হাতের মেহেদীর রং শুকাতে না শুকাতেই তার সদ্যপ্রস্ফুটিত স্বপ্নের জীবন অকালে ঝড়ে গেল মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায়। একই দুরঘটনায় নিহত হয়েছেন তার বর আহাদুর রহমান ছাব্বিরও। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকার খুলনা- মোংলা মহাসড়কে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে বর-কনেসহ স্বজনদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন ১৪জন। দুটি পরিবারের মা ও শিশুসহ এতজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বভাবতই বর-কনের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সোনালি পাড়ের বিয়ের ওড়না পেচানো বেনারসি পরা হাতে মেহেদির রং নববধূ মার্জিয়ার মরদেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে নেমে আসে শোকের আবহ। প্রশ্ন জাগে, সড়ক দুর্ঘটনায় আর কত মৃত্যু? এর শেষ কোথায়? ঘটনা তদন্তে  তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাই করা হোক না কেন প্রকৃতপক্ষে এই মর্মান্তিক শোকের আদৌ কোনো সান্ত্বনা নেই।
অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু কারও কাম্য নয়। যে পরিবার থেকে তরতাজা এক একটি প্রাণ ঝরে, তাদের জীবনের অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়ের খবর আর জানা হয় না। নিহতের স্বজনদের আর্তচিৎকার আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করলেও আমাদের বিবেককে নাড়া দিতে পারছে না। যে মানুষটি ছিল পরিবারের অবলম্বন, একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু সেই পরিবারের অন্য সদস্যদের সব স্বপ্ন-আশা-আকাক্সক্ষা ভেঙে চুরমার করে দেয়। তাদের ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী, রাজধানীতে ২০২৪ সালে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৬ জন নিহত এবং ৪৮২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৬ শতাংশ। বাকিদের মধ্যে নারী ১৩ এবং শিশু প্রায় ১০ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পথচারী ৫১ শতাংশের বেশি। এ ছাড়াও আছে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ৩৯ শতাংশ এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও আরোহী ৯ শতাংশের বেশি।
দেশে সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো কমবেশি সবারই জানা। চালকের অসতর্কতা, অসচেতনতা, বেপরোয়া বা অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ রাস্তা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া চালকরা অনেক সময় ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালায়। যার ফলে, এক সময় নিজের অজান্তেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। তাই চালকদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কোনোভাবেই অসুস্থ বা ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ ওভারটেকিং প্রবণতা। সাধারণত রাস্তায় ধীরগতির গাড়িগুলোকে ওভারটেকিংয়ের প্রয়োজন পড়ে। এ সময় হর্ন বাজিয়ে সামনের গাড়িকে সঙ্কেত দিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় সঙ্কেত না দিয়ে একজন আরেকজনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে দুর্ঘটনা ঘটায়। তাই সঠিক নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে ওভারটেক করা উচিত। সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ হলো, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা। মহাসড়কগুলোতে বাঁক থাকার কারণে সামনের দিক থেকে আসা গাড়ি দেখতে না পেয়ে অনেক চালক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণেও ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। সেক্ষেত্রে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে। সড়ক-মহাসড়কগুলোকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন।

প্যানেল / জোবায়ের

×