ছবি: দৈনিক জনকন্ঠ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি নতুন প্রশাসনিক অধ্যায় শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ প্রথম কয়েকটি সপ্তাহই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রথম এক মাসকে অনেক পর্যবেক্ষক একটি প্রাথমিক কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সময়কাল হিসেবে দেখছেন। নানা পত্র-পত্রিকা ও বিশ্লেষণে এই সময়টিকে মূলত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা, অর্থনীতি সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক স্থিতি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
প্রথমত, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু প্রতীকী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ জনমনে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুপ করার যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষি সহায়তার এই দুই উদ্যোগকে অনেকেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির সূচনা হিসেবে দেখছেন।
দ্বিতীয়ত একই সঙ্গে ইমাম ও পুরোহিত ভাতা চালু করার মাধ্যমে ধর্মীয় নেতাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সামাজিক সংহতির একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা লক্ষ করা গেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রচনার এই উদ্যোগ নাগরিক সমাজে আস্থা ও স্বস্তির জন্ম দিয়েছে।
তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা। বাজার তদারকি, সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, তবুও বাজারে আতঙ্ক বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানোর ক্ষেত্রে সরকারের সক্রিয়তা অনেকের দৃষ্টিতে ইতিবাচক হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।
চতুর্থত, মধ্যপ্রাচ্য সংক্ট ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও তেল সরবরাহ সংকট মোকাবেলা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যেও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে করে দেশে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে—যা অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি তারেক রহমানের অন্যতম কুটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেশ বিদেশে সমাদৃত হয়েছে।
প্রশাসনিক দিক থেকেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নীতি বাস্তবায়নে গতি আনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয় তৈরি করার দিকে সরকারের মনোযোগ রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। যদিও এটি সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া, তবে প্রথম মাসে এর সূচনা অনেকের কাছে আশাব্যঞ্জক।
এ সময়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারতের সঙ্গে দাসত্ব ও শত্রুতার পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সেই দিক থেকে এই এক মাসে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা ইতিবাচক সংকেত বহন করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, তারেক রহমানের শাসনের প্রথম এক মাসকে দেশের সিংহভাগ মানুষ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতি বজায় রাখার প্রচেষ্টার সফল সময়কাল হিসেবে দেখছেন। অবশ্যই এটি একটি দীর্ঘ পথের কেবল শুরু। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়ে একটি সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে উঠুক এটাই সবার প্রত্যাশা।
এফএ








