ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

ঢাকার দিনরাত

মারুফ রায়হান

প্রকাশিত: ২১:৩৬, ১৬ মার্চ ২০২৬

ঢাকার দিনরাত

ঢাকার প্রতিটি ঈদ-বাজার এখন রমরমা

ঢাকার প্রতিটি ঈদ-বাজার এখন রমরমা। অনেক রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। মধ্যবিত্তের ঈদ শপিংয়ের ভরসার জায়গা নিউমার্কেট দিনভর থাকে প্রচ- ভিড়। চানরাতে চূড়ান্ত বিকিকিনি হয়। দোকানিদের বড় অংশই সকালে ঈদের নামাজ পড়ে দেশের বাড়ি যান। অভিজাত এলাকার শপিং মলের বাহারি স্টলের অনেক মালিক সেহরি পর্যন্ত তার কর্মচারীদের নিয়ে বিকিকিনিতে ব্যস্ত থাকেন। 
বইমেলা শেষ হলো। আঠেরো দিনের মেলা। তবে শেষ দিকে শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়েছিল মেলা। ওদিকে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনের জন্য যাত্রার ভোগান্তি এড়াতে কিছুটা আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ। এছাড়া সময়মতো ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশও করছেন। 

ভবন নির্মাণ এবং অপমৃত্যু
ভবন নির্মাণকালে কেবল নির্মাণ শ্রমিকরাই কখনো কখনো অপমৃত্যুর শিকার হন না, ভবনের নিচ দিয়ে চলাচলকারী মানুষও বিপদাপন্ন হয়ে ওঠেন। মগবাজারের মধুবাগ এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে মাথায় ইট পড়ে রাশেদা বেগম (৩৫) নামের এক নারী মারা গেছেন। শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রাশেদা বেগম সপরিবার মধুবাগ ৩ নম্বর গলির একটি বাসায় থাকতেন। তিনি বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। রাশেদার দেবর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাশেদা বেগম রাত সোয়া ৮টার দিকে মধুবাগের একটি বাসা থেকে কাজ শেষে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় বৃষ্টি হচ্ছিল।

একপর্যায়ে সেখানের একটি নির্মাণাধীন ভবনের দেয়ালের একাংশ ধসে একটি ইট রাশেদার মাথায় পড়ে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্বজনেরা রাশেদা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ঢামেক ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুক।  তিনি বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রাশেদার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে। তার স্বামী সাইফুল ইসলাম পেশায় রিকশাচালক। এই দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। ঢাকার মতো মহানগরীতে কোথায় যে মানুষ কিভাবে অপমৃত্যুর শিকার হবেন, তা অনুমান করাও কঠিন। 

ঈদসংখ্যা ও ইফতার পার্টি
রমজানের মাঝামাঝি একে একে বেরুতে থাকে ঈদসংখ্যা, সর্ববৃহৎ বার্ষিক সাহিত্য সাময়িকী। অবশ্য ঈদসংখ্যায় এখন সাহিত্য ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ও থাকে যথেষ্ট পরিমাণে। তবু ঈদসংখ্যায় সাহিত্যই প্রধান, আরও স্পষ্ট করে বললে বলতে হয় পাঠকের কাছে ঈদসংখ্যার প্রধান আকর্ষণ উপন্যাস। দেড়শ’ থেকে দুশ’ থেকে ৩০০-৪০০ টাকা দাম থাকে একেকটি ঈদসংখ্যার। এই টাকায় পাঁচ থেকে দশটি উপন্যাস পাওয়া যায়। এটাই নগদ লাভ পাঠকের। তবে একথার পাশাপাশি আরেকটা সত্যও উচ্চারণ করতে হবে। সেটি হলো ‘একটি সম্পূর্ণ উপন্যাস’ টাইটেলে লেখা থাকলেও আসলে এসব উপন্যাস সম্পূর্ণ বা পূর্ণাঙ্গ হয় না অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। সেটা সম্ভবও নয়।

বইয়ের হিসাবে তিনশ’ পাতার একটি উপন্যাস ছাপাতে ম্যাগাজিনের প্রয়োজন হবে একশ’ থেকে সোয়াশ’ পৃষ্ঠা। কিংবা ছোট উপন্যাস হলে তার অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। পাতা গুনে দেখলে দেখা যাবে ঈদসংখ্যায় সাধারণত একেকটি উপন্যাস হয় গড়ে কুড়ি পাতার মধ্যে। আসলে এটি উপন্যাসের শর্ট ভার্সন বলা যায়। পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসটি বর্ধিত কলেবরে বেরোয় পরের বছর ফেব্রুয়ারির বইমেলায়। যা হোক, পাঠক টি২০ ম্যাচের মতো শর্টটাইম আনন্দ পান, উত্তেজনায় থাকেন ঈদসংখ্যার এসব উপন্যাস নিয়ে। এই চল এখন প্রতিষ্ঠিতই হয়ে গেছে।  
আমাদের দেশে প্রথম দিকে সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোই ঈদসংখ্যা প্রকাশ শুরু করে। পরে এতে যুক্ত হয় দৈনিক সংবাদপত্র। বর্তমানে সংবাদপত্রের ঈদসংখ্যাই প্রাধান্য বিস্তার করে চলেছে। এখনো মধ্যবিত্ত পড়ুয়া শ্রেণির ভেতর ঈদসংখ্যা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ আছে। ঈদের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে ঈদসংখ্যা। ঈদের নতুন পোশাাকের পাশাপািশ বহুজন অন্তত একখানা ঈদসংখ্যা কিনে থাকেন। সে বিচারে ফেব্রুয়ারির বইমেলার পর বাঙালি পাঠক সমাজে রমজান মাসই আরেকটি নতুন সাহিত্যপাঠের মৌসুম হয়ে ওঠে। 
আশি ও নব্বই দশকে সাপ্তাহিক পত্রিকার ভেতর বিচিত্রা ও সন্ধানী, এমনকি রবিবার ও পূর্বাণীরই ছিল ঈদসংখ্যা ম্যাগাজিন প্রকাশের ধারাবাহিকতা। এখন এগুলোর মধ্যে একটি পত্রিকাও বেঁচে নেই। এখন সাপ্তাহিক-পাক্ষিক পত্রিকার ভেতর দৃষ্টিনন্দন ঢাউস ঈদ ম্যাগাজিন প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘অন্যদিন’ সুনাম অর্জন করেছে। ৪০০ পাতা দিয়ে শুরু করলেও এখন এ ঈদসংখ্যার পৃষ্ঠা ৭০০ ছুঁয়েছে। এতে নিয়মিত উপন্যাস বেরুতো হুমায়ূন আহমেদের। এখন দুটি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও সমকাল ঢাকা ক্লাবে ইফতার ও প্রীতি সম্মিলনীর আয়োজন করে তাদের ঈদসংখ্যা প্রকাশ উপলক্ষে।

ঈদসংখ্যার লেখক হিসেবে দুটি আয়োজনে আমন্ত্রিত হয়ে বিশেষ অভিজ্ঞতা লাভ করেছি এবারও। বহুজনের আড্ডায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তন। এ ধরনের প্রীতি সমাবেশ লেখক-শিল্পীদের জন্য অক্সিজেনস্বরূপ। দল বেঁধে তারা আড্ডা দেন, ছবি তোলেন। লেখকদের ভেতরে এভাবে প্রীতির সম্পর্ক প্রগাঢ় হয়। আরও আকর্ষণ হলো সদ্য প্রকাশিত ঈদসংখ্যা হাতে পাওয়ার পাশাপাশি নগদ বা চেকে লেখক সম্মানীও মেলে। সবটাই আনন্দের উপলক্ষ।
নব্বুই পার করেছেন কথাশিল্পী হাসনাত আবদুল হাই। দুটো আয়োজনেই তিনি এসেছেন এবং নিজে থেকেই প্রতিটি টেবিলে গিয়ে অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। এমন সৌজন্য শিক্ষণীয়। 
এ ধরনের সামাজিক সমাবেশে দেখাসাক্ষাৎ কুশল বিনিময় গল্পগুজব ঘুরে ঘুরে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। তবে লাজুক লেখকরা টেবিলেই বসে থাকেন, নড়াচড়া করেন না। সমকালের অনুষ্ঠানে লেখক ও ভিডিও নির্মাতা শাকুর মজিদ বড় ক্যামেরা নিয়ে এসেছিলেন এবং লেখকদের অজান্তেই তাদের ক্যামেরাবন্দী করেন। পরে ফেসবুকে তা ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। 

মারধর করে আলোচনায় মডেল 
রাজধানীর গুলশানে এক পথচারীকে মারধর ও হয়রানির অভিযোগে রুশ বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনিকা কবিরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে মামলাটি করেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১০ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে গুলশান-২ এলাকার একটি রাস্তায় এক বৃদ্ধ পথচারী হেঁটে যাচ্ছিলেন। ওই সময় রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভিডিও (টিকটক) করছিলেন মনিকা কবির। হাঁটার সময় অসাবধানতাবশত ওই বৃদ্ধের ব্যাগের কোনা মনিকার গায়ে লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো উসকানি ছাড়াই ওই বৃদ্ধকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং তাঁর ব্যাগটি ছুড়ে মারেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পুরো ঘটনাটি মনিকা নিজেই ভিডিও করার ব্যবস্থা নেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ওই বৃদ্ধকে সামাজিকভাবে  ‘হেয়প্রতিপন্ন’ করা হয়।

মশা যানজট জনচাপ
রাতে মশা, দিনে মাছি/এই নিয়ে ঢাকায় আছিÑ ছড়া কেটে মহানগরবাসীর দুর্দশার কথা বলা হতো আগে। এখন মশা-মাছি, নোংরা আবর্জনার সঙ্গে আরও এমন কিছু অনুষঙ্গ যুক্ত হয়েছে যে বেহাল দশা বোঝাতে দুই লাইনের ছড়ায় কুলোবে না; আস্ত মহাকাব্যই রচনা করতে হবে। ঢাকা হলো রাজধানী শহর, যেখানে তিন কোটি মানুষের বাস। দেশের আর কোনো মহানগর দূরে থাক, আর কোনো জেলাতেও এত বেশি সংখ্যক মানুষ বসবাস করে না। সঙ্গত কারণেই রাস্তায় যানবাহনের চলাচলও বেশি। কালো ধোঁয়া এবং যানজটও বেশি। ভারাক্রান্ত এই মহানগরী বারবারই বিশ্বের নানা মান সূচকে এমন অবস্থানে চলে আসে যে রীতিমতো লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দেখা যায় বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট বায়ুমানের দৃষ্টান্ত হয় আমাদের প্রিয়নগরী ঢাকা। ঢাকার দূষিত বাতাস নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়। নীরব ঘাতক হিসেবেই শঙ্কাটি নিশ্বাস ফেলে বারবার আমাদের ঘাড়ের ওপর। জল ছাড়া মাছ যেমন বাঁচে না, তেমনি বাতাস ছাড়া মানুষ বাঁচে না। বাতাস থেকেই শ্বাসের অক্সিজেন গ্রহণ করতে হয় আমাদের। এই গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের সঙ্গে আমরা কত কিছুই না টেনে ফুসফুসে নিচ্ছি। ফুসফুস থেকে সেটি আমাদের রক্তে মিশে যাচ্ছে। এভাবেই নিঃশব্দে আমরা ব্যাধিগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। 
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মশকনিধন অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। শনিবার সকালে ‘শনিবারের অঙ্গীকারÑ বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ শীর্ষক এ বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। প্রতি শনিবার এ অভিযান চলবে। অভিযানে নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য প্রচারপত্র বিতরণের কথা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারী কারও কাছে কোনো প্রচারপত্র দেখা যায়নি। ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ডে এ বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত পাত্র অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নগরবাসীকে বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
ফাঁকা জায়গা আমাদের যেন কিছুতেই সহ্য হয় না। খাল-ঝিল-জলাশয় আমাদের চক্ষুশূল। আমাদের মানসপটে উঁচু উঁচু দালান ভেসে ওঠে। তাই আমরা সব খালি জায়গাকে অনুবাদ করে ফেলেছি টাকায় অর্থাৎ অট্টালিকায়। আকাশের দিকে উঠে গেছে আমাদের সব অট্টালিকা। তাতে স্কয়ার ফিটের মাপে খোপ খোপ কামরা। কিন্তু সেখান থেকে নেমে যে আমাদের মাটিতেই পা রাখতে হবে। হেঁটে বা যানবাহনে চেপে আমাদের যেতে হবে কর্মস্থলে, হাটেবাজারেÑ এই চিন্তা এই পরিকল্পনা আমাদের মাথাতেই নেই। ফলে গিজগিজ নগরীতে আমাদের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে সংকটাপন্ন। একটা শহর কীভাবে বসবাসযোগ্যতা হারাতে পারে তার বিশ্বরেকর্ডের মতো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি আমরা। রমজান মাসে এবার মশার আধিক্য ও যানজটের নতুন ফাঁদ মানুষকে হাঁসফাঁস দশায় ফেলেছে। 

দিনভর সাধনা
শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বেশির ভাগই নিজের শিল্পচর্চার ক্ষেত্রকে উপার্জনের উৎসস্থল করে নিতে পারেন না। তারা কোনো না কোনো পেশায় যুক্ত থাকেন। তাই দলবদ্ধ বা একক চর্চার জন্য ছুটির দিনগুলোকে কাজে লাগান। যাদের ছুটি একদিন, মানে শুধু শুক্রবার, তাদের জন্য সময় বের করা কঠিনই বটে। যাহোক, রোজার মধ্যেও থেমে নেই শিল্প পরিবেশনার জন্য মহড়া বা প্র্যাকটিস। ঈদ উপলক্ষে নতুন সিনেমার মতো নতুন গান রিলিজ দেওয়ার একটা চল রয়েছে। টেলিভিশনও ঈদ উপলক্ষে প্রচুর বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নির্মাণ করে থাকে রমজানে। যারা ইউটিউব চ্যানেলে নতুন গান উপহার দেন ঈদ উপলক্ষে, তাদের ব্যস্ততা থাকে বেশি। আর যারা ভাবেন সুবিধামতো সময়ে গানের প্রডাকশনে যাবেন, তারাও রোজার আপাত শান্ত ধীরস্থির সময়টা কাজে লাগান দলবদ্ধ চর্চার মাধ্যমে।

গত শুক্রবার বনানীর একটি প্র্যাকটিস স্টুডিওতে ব্ল্যাক মুন নামের এই দলের ভোকাল আর্টিস্টসহ প্রতিটি বাদ্যযন্ত্রের যন্ত্রী, মানে যন্ত্রসংগীত শিল্পী তথা ব্যান্ড দলের প্রতিটি সদস্য রোজা রেখেই দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা টানা প্র্যাকটিস করেন। জানি না তারা এত শক্তি পান কোথা থেকে? হতে পারে নিজ কাজের প্রতি কমিটমেন্ট কিংবা রোজায় নিয়মিত অফিস করার মতোই হয়তো বিষয়টা। রোজার দিনে অসুস্থতার কারণ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্করা রোজা রেখে থাকেন, এ কথা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের পারিবারিক সংস্কৃতিতে বিষয়টি অবধারিত। যার যে কাজই থাকুক না কেন, যত ব্যস্তই তিনি থাকুন না কেন, রোজা ভাঙতে চান না কেউ।

কোনো পরিসংখ্যান নেই, তবে বাংলাদেশে যারা রোজা রাখেন সংখ্যায় তারা বিপুল এতে কোনো সন্দেহ নেই।এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রোজা রেখে কণ্ঠচর্চায় বেশি কষ্ট হয়। দলের একমাত্র ভোকালিস্ট দলপ্রধান সাব্বির নাসির নিজে সক্রিয় থেকে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার ব্রত পালন করছিলেন বলেই টানা প্র্যাকটিস চালানোর পক্ষে ছিলেন। সুর সংযোজনায়ও দেশি মেলোডির পাশাপাশি বিদেশি বিশ^খ্যাত সুরভঙ্গি, যেমন জ্যাজ, ব্লুজ এসবও যুক্ত করছেন। ফলে একটা নতুনত্ব বা অভিনবত্ব যে আসছে গানে, তাতে কোনো দ্বিমত নেই। 
১৬ মার্চ ২০২৬
[email protected]

প্যানেল হু

×