ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা

-

প্রকাশিত: ২১:৩৩, ১৬ মার্চ ২০২৬

ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশে কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্য রয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের। সময়ের পথপরিক্রমায় এ দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশাপাশি বসবাস করেছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তাদের মাঝে সম্পর্ক সম্প্রীতির। সেই ঐতিহ্য রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো রাষ্ট্রকে সব ধর্মানুসারীদের প্রতি সমান নজর রাখা। সম্প্রতি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানের পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

এ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের দান-দক্ষিণা নিয়েই মূলত তাদের জীবিকা চলত। সে অবস্থায় রাষ্ট্রীয় এ উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। আমাদের সমাজে ধর্মবেত্তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তাদের কথা সাধারণ জনগণ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে শোনে। নিঃসন্দেহে এ উদ্যোগ তাদের সম্মান জানাবে। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তাদের। রাষ্ট্র, ধর্ম ও রাজনীতির জটিল সমীকরণে সম্ভাবনার আলো ছড়াবে। ধর্মীয় অনুভূতি ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাসের গভীরে গ্রথিত। ধর্মবেত্তাদের একটি অংশ মনে করে, ইসলাম কেবলমাত্র ধর্ম নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাবতীয় প্রয়োজনের সমাধান এখানে রয়েছে। তার আলোকে তারা তাদের রাজনৈতিক বয়ান জনগণের কাছে উপস্থাপন করেন।

মানুষের এ অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ওয়াজ-নছিহত ও জুমার খুৎবায় আলোচনা করে নাগরিকদের চরিত্র উন্নয়নে রাখতে পারেন অনন্য ভূমিকা। বছরে ৫২টি জুমা, ২টি ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় দিবসে এ দেশের মানুষরা কুরআন-হাদিসের আলোচনা খুব গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করেন। এ দেশের সাধারণ জনগণের ওপর আলেমদের প্রভাব অনস্বীকার্য। আবার কেউ কেউ এও মনে করছে, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সমর্থন অর্জনের প্রবণতা নতুন কিছু নয়। 
আরেকটি পক্ষ মনে করছে, রাষ্ট্র যদি ধর্মকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে, তবে তা সমাজে বিভাজন, প্রতিযোগিতা এবং অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। আমরা মনে করি, রাষ্ট্র যদি সত্যিই সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে তার প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো নিশ্চিত করা। ইমাম, খতিব, পুরোহিতদের নিজস্ব রাজনৈতিক চিন্তাধারা অবশ্যই থাকবে। এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।

কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না তাদের বয়ান বা আলোচনা কোনো রাজনৈতিক কর্মীর মতো যেন না হয়ে, একজন দরদি পথ প্রদর্শকের মতো বাস্তবিক, হয় জীবনমুখী এবং যুক্তিগ্রাহ্য। কারো মনে আঘাত না দিয়ে কেবল কুরআন হাদিসের দলিল ও ঐতিহাসিক প্রমাণাদির ভিত্তিতে হয়। ধর্মীয় নেতাদের প্রভাবশালী সামাজিক ভূমিকা রয়েছে। সেদিক বিবেচনায় সরকার মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা সভায় ইমাম বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ইতিবাচক দিক। সে ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইনকানুন সম্পর্কে তাদের জ্ঞাত হতে হবে।

প্যানেল হু

×