নারায়ণগঞ্জের বিপনি বিতানগুলোতে ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে ক্রেতার আনাগোনা
নারায়ণগঞ্জ শহরসহ ৫টি উপজেলায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদের আর মাত্র দু’তিনদিন বাকী। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল ও বিপুণী বিতানগুলোতে চলছে ঈদের বেচাকেনা। এ বছর ১৫ রোজার পর থেকেই পুরোদমে নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীরবাজার এলাকার ফ্রেন্ডস মার্কেট, চাষাঢ়া সমবায় মার্কেট, জিরো বাজার সুপার স্টোর, আলমাছ পয়েন্ট, মার্ক টাওয়ার, টপটেন মার্ট, হক প্লাজা, সান্তনা মার্কেট, আল জয়নাল ট্রেড সেন্টার, জিরো বাজার, লুৎফা টাওয়ার, পানোরামা প্লাজা, ইজি ফ্যাশন, সায়াম প্লাজা ও হাসনাত স্কয়ারসহ বিভিন্ন মার্কেট, বিপুণী বিতান, শপিং মল ও ফুটপাতগুলোতে চলছে ঈদ বাজারের কেনাকাটা। মেয়েদের থ্রি-পিছ, ছেলেদের শার্ট, প্যান্ট পাঞ্জাবি, ছোট ছোট সোনামণিদের বাহারি রকমের পোশাক দিয়ে সাজিয়েছেন তাদের বিপণিবিতান।
এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জের হাজী আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেট, চম্পক মার্কেট, চান সুপারমাকেট, কাসসাফ মার্কট, এ রহমান মার্কেট, সোনা মিয়া মার্কেট, এমএস টাওয়ার, মোজাফফর টাওয়ার, আদমজীনগরের বিপণী বিতানসহ আশপাশের বিভিন্ন বিপণি বিতান ও শপিংমলগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বাহারি রঙের নতুন নতুন পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। ঈদকে ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বড়দের জন্যও এসেছে নানা ডিজাইন ও ফ্যাশনের নতুন পোশাক। জেলার বিভিন্ন মার্কেট, শপিং মল ও বিপুণী বিতানগুলোতে আলোক সজ্জাও করা হয়েছে। মার্কেটগুলোর সামনে নিরাপত্তায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সরেজমিন এলাকার মার্কেটগুলো ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে আসা ক্রেতাদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। নারীদের পছন্দের শীর্ষ তালিকায় থ্রি-পিস, গাউন ও লেহেঙ্গার জুতার সহ প্রসাধণী সামগ্রীর চাহিদা বেশী। অন্যদিকে পুরুষদের পাঞ্জাবি, পায়জামা ও জুতাই চলছে বেশি। কেনাকাটায় ব্যস্ত নুরজাহান পলি নামে এক নারী। তিনি বলেন, পছন্দের পোশাক আমি নিয়েছি ও বাচ্চাদের জন্যেও কিনেছি।
তবে ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সকল পণ্যের দাম বেশী। নি¤œ ও মধ্যবিত্তদের পছন্দের পোশাক কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজেটের মধ্যে পোশাক কিনতে হলে দোকানে দোকানে ঘুরতে হয়। আবু আসলাম মিয়া, দুই ছেলে ও নিজের জন্য পাঞ্জাবি কেনার জন্য দোকানে দোকানে ঘুরছিলেন । তিনি বলেন, আমি মার্কেট ঘুরছি আর দেখছি, অন্য বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম অনেক বেশি।
শহরের সমবায় মার্কেটের এক দোকানী সাইদুর ইসরাম বলেন, এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরে ক্রেতার চাহিদা মাথায় রেখে ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক উঠিয়েছি। ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় পোশাক সাজানো হলেও দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কিছু কিছু ক্রেতা তাদের পছন্দের পোশাক গুলো লুফে নিচ্ছেন। যদিও গত বছরের তুলনায় এ বছর সব জিনিসের দাম বেশি। তাই অনেক ক্রেতারা পোশাকের দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও বিক্রি হচ্ছে না। তবে ঈদের যেহেতু আর দু’তিন বাকি আশাকরি পুরোদমে বেচাকেনা জমে উঠবে।
ক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, অনেকে আগে পোশাক সেলাই করে ব্যবহার করতেন। এবার রেডিমেড পোশাকের চাহিদা বেশি। ঈদের জন্য বাহারি ডিজাইনের পোশাকই বেশি পছন্দ করছেন নারী ক্রেতারা। আর ছেলেদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট। পাশাপাশি দেশীয় কাপড়ের কদরও রয়েছে বেশ। বাবা-মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করতে এসেছেন সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করেছি। পছন্দ মতো রেডিমেড প্যান্ট, শার্ট ও পাঞ্জাবি কিনেছি। বাবা ও মায়ের জন্যও জামাকাপড় কিনেছি।
চাষাঢ়ার বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিঃ কমপ্লেক্স ভবন মার্কেট এলাকায় গিয়ে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখতে পাওয়া যায়। দোকানীরা বলেন, ১৫ রোজার পর থেকে বেচাকেনা বেড়েছে। যতই ঈদের দিন ঘনিয়ে আসছে ততই ক্রেতাদের ভিড় আরো বেড়ে যাচ্ছে। মার্কেটগুলো এখন আর তীল ধারণের ঠাঁই নেই। এ মার্কেটের ইজি ফ্যাশনের এক কর্মচারী বলেন, সকাল ১০ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা। ইজি ফ্যাশনে ছেলেদের শার্ট ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় ও গেঞ্জি ৭০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এভাবেই শহরের প্রতিটি মার্কেট, বিপুণী বিতানগুলোতে ঈদের কেনাকাটায় ধূম পড়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহর ছাড়াও জেলার ৫টি উপজেলা সদর, বন্দর, সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের বিভিন্ন মার্কেট ও বিপুণী বিতানগুলোও শেষ মুহূর্তে চলছে ঈদের কেনাকাটা। এ সব মার্কেট ও বিপুণী বিতানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
প্যানেল হু








