ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

বাগাতিপাড়ায় জ্বালানি তেল সংকটে অচলাবস্থায় কৃষি ও পরিবহন

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাগাতিপাড়া, নাটোর

প্রকাশিত: ২২:৩১, ১৭ মার্চ ২০২৬

বাগাতিপাড়ায় জ্বালানি তেল সংকটে অচলাবস্থায় কৃষি ও পরিবহন

নাটোরের বাগাতীপাড়ায় জ্বালানী তেল মিলছে না দোকানগুলোতে

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় কৃষি ও পরিবহন খাতে চরম অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সেচনির্ভর কৃষকরা এবং মোটরসাইকেলসহ ছোট ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের চালকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চারটি ডিলার পয়েন্টের মাধ্যমে সাধারণত ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনসহ অন্যান্য জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। এছাড়া ছোট ছোট ব্যবসায়ীরাও ডিলারদের কাছ থেকেই তেল সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রি করেন।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ডিলাররা কোনো জ্বালানি তেল না পাওয়ায় পুরো উপজেলায় তেলের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৬৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে সেচের জন্য ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হয়। পাশাপাশি গম, সরিষা, মসুর ও খেসারির মতো রবি শস্য মাড়াই কার্যক্রমও জ্বালানি তেলনির্ভর যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। জ্বালানি সংকটের কারণে সেচ পাম্প চালানো ব্যাহত হচ্ছে, ফলে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে। সময়মতো সেচ দেওয়া ও ফসল ঘরে তোলা না গেলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। জামনগর ইউনিয়নের ভিতরভাগ গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, “অনেক দিন ধরে কোনো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সেচ দিতে পারছি না, আবার পেকে যাওয়া ফসল মাড়াই করতেও সমস্যা হচ্ছে।
সামনে ঝড়-বৃষ্টির সময়Ñএভাবে চললে বড় ক্ষতি হবে।” পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। ছোট ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, “ ডিলারের কাছে তেল নেই। অনেক জায়গা ঘুরেও তেল পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে খুচরা বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে, তাও সব সময় পাওয়া যায় না।” একই অভিযোগ করেন মোটরসাইকেল চালক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, “প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কোথাও কোনো তেল পাচ্ছি না। প্রতিদিন কাজের জন্য মোটরসাইকেল চালাতে হয়, কিন্তু তেলের অভাবে সেটি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ডিলারদের দাবি, সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারাও বিপাকে।

বিহাড়কোল বাজারের ডিলার মো. ফজলুল হক জানান, প্রায় ১৫ দিন ধরে কোনো জ্বালানিবাহী গাড়ি না আসায় তারা গ্রাহকদের তেল দিতে পারছেন না। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় বলেন, জ্বালানি সংকটের বিষয়টি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে চলতি বোরো মৌসুমে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষকদের বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্যানেল হু

×