ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধের সমর্থনে পাশে না দাঁড়ানোয় পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিত্রদের ওপর অসন্তুষ্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। এমনকি এ সিদ্ধান্তের জন্য তার কংগ্রেসের কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ওভাল অফিসে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ন্যাটোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার এই প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। খবর আলজাজিরা অনলাইনের।
ন্যাটো মূলত একটি রক্ষণাত্মক বা আত্মরক্ষামূলক সামরিক জোট। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা। কিন্তু ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোকে সমর্থন দিয়ে আসছে, তাই এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ন্যাটোর উচিত ছিল সেই ঋণের প্রতিদান দেওয়া।
ট্রাম্প বলেন, ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই আমাদের ভাবা উচিত। এই সিদ্ধান্তের জন্য আমার কংগ্রেসের প্রয়োজন নেই।
তিনি ন্যাটোর প্রত্যাখ্যানকে ‘হতাশাজনক’ এবং ‘অংশীদারিত্বের জন্য ক্ষতিকর’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মাথায় সুনির্দিষ্ট কিছু নেই, তবে ন্যাটোর ভূমিকায় আমি মোটেও রোমাঞ্চিত নই।’
তিনি আরও বলেন, এটি ন্যাটোর জন্য একটি বড় পরীক্ষা ছিল। আমাদের তাদের প্রয়োজন নেই, কিন্তু তাদের এখানে (ইরান যুদ্ধে) থাকা উচিত ছিল। ন্যাটো একটি অত্যন্ত বোকামিপূর্ণ ভুল করছে।
সদ্য পদত্যাগ করা শীর্ষ সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্টের কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। কেন্ট দাবি করেছিলেন যে যুদ্ধের আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, কেন্ট ব্যক্তিগতভাবে ‘ভালো মানুষ’ হলেও ‘নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত দুর্বল’। ট্রাম্পের মতে, কেন্টের পদত্যাগ একটি ‘ভালো দিক’। তিনি বলেন, যারা মনে করে ইরানের ওপর হামলা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, আমাদের প্রশাসনে তেমন লোক দরকার নেই।
হোয়াইট হাউসে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের দুজন শীর্ষস্থানীয় নেতা মার্কিন হামলায় নিহত হয়েছেন। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ইরানের ‘আসল শীর্ষ নেতা’ এবং অন্যজন সাম্প্রতিক সপ্তাহে ৩২ হাজার ইরানি বিক্ষোভকারীকে হত্যার জন্য দায়ী। ট্রাম্প বলেন, তাদের নেতারা শেষ। এটি একটি অশুভ গোষ্ঠী।
এর আগে ইসরাইল দাবি করেছিল যে, তাদের সোমবার রাতভর হামলায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের বাসিজ বাহিনীর প্রধান জেনারেল গোলাম রেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন। তবে ইরান এখনও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
ইরান যুদ্ধের জেরে ট্রাম্পের বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফরও পিছিয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিং ও অন্যান্য বিশ্বশক্তিকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় সফরটি এই মাসের শেষে হওয়ার বদলে আগামী পাঁচ বা ছয় সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হবে।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই সাক্ষাৎকে দুই পরাশক্তির মধ্যে ভঙ্গুর বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিলো। কিন্তু ইরান যুদ্ধের শেষ পরিণতি খুঁজতে গিয়ে এটি এখন জটিল রূপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য চীনসহ অন্য দেশগুলোকে চাপ দিলেও পরে ট্রাম্প কিছুটা সুর পাল্টে বলেন, মিত্ররা মুখ ফিরিয়ে নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের আসলে ‘কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই’।
প্যানেল হু








