ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্য

ময়লা ও দখলে ধুঁকছে সোনাই নদী

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাধবপুর, হবিগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৩:৫৪, ১৭ মার্চ ২০২৬

ময়লা ও দখলে ধুঁকছে সোনাই নদী

ঐতিহ্যবাহী সোনাই নদী

মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোনাই নদী আজ ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে। এক সময়ের প্রবহমান এই নদী এখন ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীতে অবাধে বর্জ্য ফেলা, দখল এবং অপরিকল্পিত কর্মকান্ডের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নদীটি দিন দিন তার অস্তিত্ব হারানোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, কয়েক দশক আগেও সোনাই নদী ছিল এলাকার মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

নদীতে সারাবছর পানি থাকত, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত এবং নৌকা চলাচল ছিল স্বাভাবিক দৃশ্য। নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষকরা জমিতে সেচ দিতেন, অনেক জেলে পরিবার মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীটি ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক রূপ হারাতে শুরু করে। সরেজমিনে নদীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, নদীর তীরে গড়ে ওঠা বাজার, দোকানপাট এবং বসতবাড়ি থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। প্ল­াস্টিক, পলিথিন, গৃহস্থালির বর্জ্য এমনকি নির্মাণকাজের মাটি ও বালুও নদীতে জমা হচ্ছে।

এসব বর্জ্যের কারণে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে পানি প্রবাহে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে নদী এতটাই ভরাট হয়ে গেছে যে বর্ষা মৌসুম ছাড়া সেখানে পানির অস্তিত্বই দেখা যায় না। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, নদীর কিছু অংশে অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনাও ঘটছে। কোথাও দোকানঘর, কোথাও আবার বসতবাড়ি তৈরি করে নদীর জায়গা সংকুচিত করা হচ্ছে। ফলে নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ‘আব্দুল করিম বলেন, ’আমরা ছোটবেলায় এই নদীতে সাঁতার কাটতাম, মাছ ধরতাম। নদী ছিল আমাদের আনন্দের জায়গা।

এখন নদীর দিকে তাকালে কষ্ট লাগে। ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, কয়েক বছরের মধ্যে নদীটির অস্তিত্বই হয়তো থাকবে না। ‘নদীটি একসময় এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার বড় উৎস ছিল। এখন সেখানে ময়লা ছাড়া কিছু দেখা যায় না। নদী বাঁচাতে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার মাধবপুর পরিবেশ কর্মী ওমাইয়া ফেরদৌস বলেন,, নদী দখল ও দূষণ রোধে কার্যকর নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

নদীর তীর রক্ষা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। নদী রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ বিন কাশেম বলেন,। একটি নদী শুধু পানি প্রবাহের উৎস নয়; এটি একটি অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। নদী শুকিয়ে গেলে বা দূষিত হয়ে গেলে আশপাশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। সোনাই নদীর অবস্থা খুবই করুন। নদী খনন করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমরা সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরব।

প্যানেল হু

×