ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

গ্যাস সংকটে আশার আলো

প্রকাশিত: ১৯:১২, ১৭ মার্চ ২০২৬

গ্যাস সংকটে আশার আলো

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ নম্বর কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে আরো ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। উল্লেখ্য, শনিবার এই কূপ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় গ্রিডে শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের পাঁচটি কূপ থেকে প্রতিদিন ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে, যা এ সময়ে অর্থাৎ ভয়াবহ গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশার আলো হয়ে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল কর্তৃক যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধাবস্থায় সারাবিশ্বে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি, এলপিজিসহ সবরকম জ্বালানির দাম বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী। এর পাশাপাশি ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জ্বালানি বিশ্বে। 
বাংলাদেশও এই সংকটের বাইরে নয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জ্বালানি তেল ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে দেখা যায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রতীক্ষা। অনেক স্টেশনে তেল ও পাওয়া যায় না। এ নিয়ে হাতাহাতি, মারামারিসহ একাধিক হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। গ্যাসের অভাবে কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাসাবাড়িতে চলছে গ্যাস সংকট। দেখা দিয়েছে লোডশেডিং। গ্যাসের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প-কারখানার উৎপাদন। চড়ামূল্য এবং পরিবহন সংকটে আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানিতে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এমতাবস্থায় ভোলাসহ দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করে চাহিদা মেটানোর বিকল্প নেই। এর পাশাপাশি সবিশেষ মনোযোগ দিতে হবে নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানসহ নতুন কূপ খননের দিকে। 
গ্যাস সংকটের কথা স্বীকার করেছেন সাবেক বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীও। তবে কোনো আশ্বাসের বাণী শোনাতে পারেননি কেবল দুঃখ প্রকাশ ব্যতিরেকে। মার্চ মাস নাগাদ গ্যাস সংকটের সমাধান হতে পারে বলে জানিয়েছেন গণমাধ্যমে। এর পাশাপাশি বলেছেন, ২০২৬ সাল নাগাদ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায় গত ১ নভেম্বর থেকে চট্টগ্রামের ভাসমান আমদানীকৃত দুটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ রয়েছে। এলএনজি প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরিত করে পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের স্থলে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলেও দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট। উল্লেখ্য, এ সংকট দীর্ঘদিন থেকে চলমান। এর জন্য তিতাসের সিস্টেম লসসহ অনিয়ম-দুর্নীতি এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ কম দায়ী নয় কোনো অংশে।
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অনেক স্থানে গ্যাসের চাপ এবং সরবরাহ প্রায় সময়ই স্বাভাবিক থাকে না। দিনরাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকে গ্যাস সরবরাহ। অথচ গ্রাহকদের বর্ধিত হারে গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হয় প্রতি মাসে। সিলিন্ডার গ্যাসের দামও চড়া- প্রায় লাগামহীন। বাড়তি উপদ্রব হিসেবে রয়েছে যখন-তখন তিতাসের পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণের নামে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা। দৈনিক প্রায় ৪০০ ঘনফুট গ্যাসের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২৭০ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে এসব স্থানে। ফলে গ্যাস সংকট খুব সহসাই কাটবে বলে মনে হয় না।

প্যানেল/মো.

×