ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত

সাইফুজ্জামান

প্রকাশিত: ২১:৪০, ১৭ মার্চ ২০২৬

আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ফিরে এলো খুশির ঈদ ঈদুল ফিতর

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ফিরে এলো খুশির ঈদ ঈদুল ফিতর। রমজানের শুরু থেকেই ঈদুল ফিতরের জন্য  প্রতীক্ষা থাকে কখন এ মাহেন্দ্রক্ষণ ফিরে আসবে? পবিত্র এ দিনটির জন্য বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমান দিন গোনে। যে যার সাধ্যমতো এই দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে চায়। 
 মহানবী যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় প্রত্যক্ষ করেন  মদিনাবাসী ‘নওরোজ’ ও ‘মিহরজান’  উৎসব পালন করে।
এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হয় এবং একই বছরে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে মুসলিমদের বিজয়। সংযমের সমাপ্তি এবং আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি শুকরিয়া আদায় ইতিহাসে স্মরণীয়। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ফিরে এলো খুশির ঈদ ঈদুল ফিতর। রমজানের শুরু থেকেই ঈদুল ফিতরের জন্য  প্রতীক্ষা থাকে কখন এ মাহেন্দ্রক্ষণ ফিরে আসবে? পবিত্র এ দিনটির জন্য বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ  মুসলমান দিন গোনে। যে যার সাধ্যমতো এই দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে চায়। 
মহানবী যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় প্রত্যক্ষ করেন মদিনাবাসী ‘নওরোজ’ ও ‘মিহরজান’  উৎসব পালন করে।
এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হয় এবং একই বছরে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে মুসলিমদের বিজয়। সংযমের সমাপ্তি এবং আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি শুকরিয়া আদায় ইতিহাসে স্মরণীয়।
ঈদুল ফিতরের সূচনা দ্বিতীয় হিজরিতে (৬২৪ খ্রিস্টাব্দে)। 
মহানবী যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় প্রত্যক্ষ করেন মদিনাবাসী ‘নওরোজ’ ও ‘মিহরজান’  উৎসব পালন করে।
এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হয় এবং একই বছরে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে মুসলিমদের বিজয়। সংযমের সমাপ্তি এবং আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি শুকরিয়া আদায় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
ঈদের নামাজ ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই কাছে নতুন বার্তা প্রেরণ করে। ঈদের নামাজের আগেই ‘সাদাকাতুল ফিতর’ আদায় করা ওয়াজিব। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যাতে সমাজের দরিদ্র মানুষগুলোও অভাব ভুলে সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে।
ঈদের উদযাপনের মধ্যে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে একাত্ম হওয়ার সুযোগ  হয়।  বিচ্ছিন্ন হয়ে  সামাজিক সম্পর্কগুলো জোড়া লাগে হাদিসে উল্লেখ আছে ‘যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ 
ঈদুল ফিতর, দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা শেষে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। আত্ম সংযম, শুদ্ধি ও নিজেদের কলুষতা, দীনতা দূর করার শপথ শুরু হয় রমজান মাসে। এক মাস শেষে পৃথিবীর মুসলিম জাহান এক মিলনের সময় ফিরে পেয়ে আনন্দিত। ঈদুল ফিতর উদযাপনের নির্দিষ্ট নিয়মরীতি নেই। যে যার সাধ্যমতে পালন করে  এই দিনটি। বলা হয়ে থাকে ঈদুল ফিতরের তিনদিন মহিমান্বিত। পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ লালসা তিরোহিত হয়। আনন্দের বন্যা বয়ে যায় ঘরের ঘরে।
প্রতিবেশী, প্রতিবেশীতে, স্বজন-পরিজনের মধ্যে সৌহার্দ্যময়। ধর্মানুযায়ী জাকাত বিতরণ, নতুন উপহার বিনিময় ও মজাদার খাবারের উপাদেয় স্বাদ গ্রহণ ঈদুল ফিতরের অনুষঙ্গ। শহর থেকে গ্রামে ছুটে যাওয়া মানুষদের ঢল দীর্ঘ হয়ে ওঠে। বাস, ট্রেন স্টেশন পরিবহন উপচে পড়ে জনস্রোতে- সবাই ফেরে প্রাণের টানে আপন ঠিকানায়।
ঈদের আরবি শব্দ  আউদ অর্থাৎ যা বারবার ফিরে আসে ফিতর- ভেঙে দেওয়া। অর্থাৎ সিয়াম ভেঙে বারবার ফিরে যাওয়ার আবর্তন হলো ঈদুল ফিতর।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামগঞ্জের মহল্লায় জরি, কলা গাছ ও অন্যান্য দ্রব্যাদি দিয়ে ঈদ জামায়াতের স্থান সাজাতে দেখেছি। নামাজ শেষে কোলাকুলি, বাড়ি বাড়ি ঘুরে মুরব্বিদের কদমবুজি করে মিষ্টান্ন- পোলাও, কোরমাতে শাহীভোজন করা আনন্দের, এখন অনেক স্মৃতি। আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যক্তি কেন্দ্রিক, মনোযোগ ঈদ উৎসবকে পরিবর্তন করে। হাতে বানানো ঈদ কার্ড কত মমতার, ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, এখনকার তরুণরা বুঝবে না সেই দিনের দিনের প্রতীক্ষার প্রহর উদযাপনের অনুভূতি। চিঠি লেখছিল এক অমোঘ, অমোচনীয় বন্ধন। মুঠোফোন সচল থাকে। 
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামগঞ্জের মহল্লায় জরি, কলা গাছ ও অন্যান্য দ্রব্যাদি দিয়ে ঈদ জামায়াতের স্থান সাজাতে দেখেছি। নামাজ শেষে কোলাকুলি, বাড়ি বাড়ি ঘুরে মুরব্বিদের কদমবুজি করে মিষ্টান্ন- পোলাও, কোরমাতে  শাহীভোজন করা আনন্দের। অনেক কিছু এখন স্মৃতি। আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যক্তি কেন্দ্রিক মনোযোগ ঈদ উৎসবকে পরিবর্তন করে হাতে বানানো ঈদকার্ড কত মমতার, ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ এখনকার তরুণরা বুঝবে না সেই সময়ের প্রতীক্ষার প্রহর উদযাপনের অনুভূতি। চিঠি লেখা ছিল এক অমোঘ, অমোচনীয়। 
সুশৃঙ্খল আচার, আচরণ, অন্তরিক অথচ আত্মিক কল্যাণ বলিয়ান করে ঈদ। তাকওয়ার শক্তিতে উদ্বুদ্ধ মুসলিম সমাজ বৈরিতার অবসান উদ্বুদ্ধ ঘটিয়ে মিত্রতার বাহুডোর বেঁধে  হাত।  নিজেদের বিলিয়ে দেওয়ায় বুদ হয়ে থাকা আনন্দের। শাওয়াল মাসের মুসলিম জাহান ১ তারিখে সিয়াম ভাঙে। সবাই যার যার কর্ম জগতে ফেরে ঈদকে ইয়ামুল জয়েজ যা পুরস্কারের দিবস হিসেবে বর্ণনা করা হয়। 
শ্রেণি বৈষম্য বিসর্জন, নিজের ক্ষুদ্রত্বকে বৃহতে মিলিয়ে দেওয়া এক সুনির্মল আনন্দ-এতো আমরা ভুলতে পারি না।
শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ঈদুল ফিতরের আগমন-যা মুসলিম উম্মাহর জন্য অশেষ তাৎপর্যময় ও মহিমান্বিত। ঈদ দিন-অনন্য। ধনী-দরিদ্র শ্রেণি বিভেদ ভুলে আমরা এক মোহনায় মিলি। দরিদ্র ও আত্মীয়দের মধ্যে জাকাত বিতরণ আপরিহার্য বিষয়। কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করা, সোহার্দ্য ও সম্প্রীতিতে উজ্জীবিত করে ঈদুল ফিতর। ঈদ মানেই আনন্দ অনিঃশেষ। এতিমখানায় রোজার মধ্যে ইফতার বিতরণ ও শেষে ঈদে নতুন জামা কাপড় দেওয়া হয় বিভিন্ন মহল থেকে। আত্মীয়-স্বজনেরা যান্ত্রিক জীবনে দূরবর্তী হলেও কাছাকাছি আসে। চান রাতে কেনা কাটার ধুম পড়ে যায়। মান-অভিমান ভুলে এক কাতারে আনে ঈদ। সৃষ্টিকর্তার কৃপা ও রহমত প্রার্থনা করা হয়। সমাজ বিনির্মান ও দিন বদলের কথা  বললেও বাস্তবে মানুষের মানুষে  ব্যবধান খুচছে না।
আমাদের নতুন  পৃথিবী গড়ার শপথ নিতে হবে। পৃথিবী জুড়ে চলছে হানাহানি- রক্তপাত।  এ বন্ধ না করতে না পারলে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগতে হবে। অর্থনৈতি রাজনৈতিক, সামাজিক উন্নয়ন শৃঙ্খলা বিঘিœত হলে মানুষে মানুষে দূরত্ব বাড়তেই থাকবে।
কাজী নজরুল ইসলাম বলেছন:
 আমির ফকির  এক হয়ে যায় ঈদে/
আয় না সবাই যাই ছুটে যাই সে ঈদে। এমনি করে থাকি সবাই জীবন/যাই ভুলে যাই উঁচু-নিচু/আপন-পর।
ঈদের দিন মসজিদে, ময়দানে ঈদের নামাজে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম হয়ে থাকে। সবাই সুশৃঙ্খলভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে ঈদের নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে ধনী-নির্ধন, পরিচিত-অপরিচিত সবাই সানন্দে কোলাকুলি করেন। রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাতে পার্থিব সুখ-শান্তি, স্বস্তি আর পারলৌকিক মুক্তি কামনা করে আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সেই সঙ্গে বিশ্বশান্তি এবং দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও সংহতি কামনা করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ঈদ ধনী-দরিদ্র, সুখী-অসুখী, আবালবৃদ্ধবনিতা সব মানুষের জন্য কোনো না কোনোভাবে নিয়ে আসে নির্মল আনন্দের আয়োজন।
ঈদের আলোয় আলোকিত হবো আমরা। পৃথিবীর সকল মানুষ এক মিলনের ছাতার নিচে সমবেত হবে-এই-ই প্রার্থনা। সাম্যের বার্তা স্থাপন করুক মৈত্রী ও কল্যাণ।

প্যানেল হু

×