দেশের প্রথম ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’
দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে সরকারের প্রধান বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলো যৌথভাবে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এ পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দেশের প্রথম ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ প্রতিষ্ঠা।
জানা যায়, গত রবিবার চারটি প্রধান বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট সংস্থা- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ এই রোডম্যাপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করে।
পরিকল্পনাটিতে মোট ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে, যা তিনটি স্তম্ভের আওতায় সাজানো মজবুত অবকাঠামো, বিনিয়োগ সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন। এর লক্ষ্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মৌলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
অবকাঠামো খাতে অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে বন্দর আধুনিকীকরণ, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন, প্রস্তুত-ব্যবহারযোগ্য শিল্পপার্ক প্লট সম্প্রসারণ, ফ্রি ট্রেড জোন এবং প্রস্তাবিত ডিফেন্স ইকোনমিক জোনে অগ্রগতি, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ও বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের পুনরুজ্জীবন এবং বিকল্প জ্বালানির সম্ভাবনা অনুসন্ধানসহ জ্বালানি খাতের উদ্যোগ।
বিনিয়োগ সহায়তা স্তম্ভের আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষকে একীভূত করা; আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করা; প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন এবং সিঙ্গেল-উইন্ডো ভিত্তিক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাবিজ’ চালু করা।
এছাড়া রোডম্যাপে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি এবং চীনে বিডার প্রথম বিদেশি কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তৃতীয় স্তম্ভ ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন’-এর লক্ষ্য নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ চিহ্নিত করা এবং তা আকর্ষণ করা। পরিকল্পিত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী শিল্প মানচিত্র প্রণয়ন, কৃষি-ব্যবসা, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়া, বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক দেশগুলো থেকে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) পাইপলাইন গড়ে তোলা। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, সামুদ্রিক চাষ (মেরিকালচার) এবং রপ্তানিমুখী চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো ব্লু ইকোনমি উদ্যোগও জোরদার করা হবে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এই কৌশলের লক্ষ্য বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ত্বরান্বিত করা।
তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান দ্রুত বাড়ানো এবং বাস্তবায়নভিত্তিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে সরকার দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ সহজতর করতেও কাজ করছে।
এদিকে দেশের প্রথম ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিডার কর্মকর্তারা। বিডার নির্বাহী সদস্য ও ব্যবসা উন্নয়ন প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি জানান, ডিফেন্স ইকোনমিক জোন বাস্তবায়নের কাজ তিন ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে নীতিগত অনুমোদন নেওয়া হয়েছে, যা বিডার সর্বশেষ গভর্নিং বোর্ড সভায় পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় ধাপে বিনিয়োগ ও রপ্তানি কার্যক্রম সক্ষম করতে প্রয়োজনীয় আইন, নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর যে পরিবর্তন প্রয়োজন তা চূড়ান্ত করা হবে। এসব কাজ আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করা গেলে তৃতীয় ধাপে ডিফেন্স ইকোনমিক জোনে শিল্প স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করা যাবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সংক্রান্ত সংস্থাগুলোর গভর্নিং বোর্ড সভায় দেশে প্রথমবারের মতো ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে এই পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য প্রায় ৮৫০ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা শিল্পে চাহিদা বাড়ছে এবং সরবরাহ সংকটের সময় নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্যানেল হু








