ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

সর্বোচ্চ মূল্য পৌঁছেছে পাঁচ লাখ টাকায়

ঈদে জমজমাট রাজধানীর পাঞ্জাবির বাজার

নাজমুল ইসলাম

প্রকাশিত: ০০:৪০, ১৮ মার্চ ২০২৬

ঈদে জমজমাট রাজধানীর পাঞ্জাবির বাজার

জমে উঠেছে পাঞ্জাবির বাজার

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর বিপণিবিতান, শপিং মল ও সড়কপথজুড়ে জমে উঠেছে পাঞ্জাবির বাজার। অভিজাত ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল ডিজাইন থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তের নাগালের সাশ্রয়ী পোশাক সব ধরনের পাঞ্জাবিই এখন ক্রেতাদের নজরে। ফলে বাজারজুড়ে যেমন বেড়েছে ক্রেতার ভিড়, তেমনি আলোচনায় এসেছে দামের বিস্ময়ও।
রাজধানীর বনানীর অভিজাত বুটিক ব্র্যান্ড হাউস অব আহমেদ- এ বছর পাঞ্জাবির দাম শুরু হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা থেকে, আর সর্বোচ্চ মূল্য পৌঁছেছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকায়। বনানীর ১২ নম্বর সড়কের সিবিএল ডেলভিস্টা ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় এই শোরুমে প্রদর্শিত পাঞ্জাবিগুলোর বেশির ভাগই উন্নত মানের কাপড়ের ওপর জারদোসি ও সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারির কাজ করা। 
একেকটি পোশাক তৈরি করতে সময় লাগে কয়েক মাস, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছরও। বিশেষ নকশার এসব পাঞ্জাবি কিনতে ক্রেতাদের আগেভাগেই ক্রয়াদেশ দিতে হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিজাইনার আহমেদ তুহিন রেজা জানান, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কারিগরদের দীর্ঘ সময়ের শ্রমের কারণে এসব পোশাকের খরচ বেশি পড়ে। আভিজাত্যপূর্ণ নকশা ও উন্নত মানের কাপড়ের মাধ্যমে দেশের মানুষের ফ্যাশন রুচিতে পরিবর্তন আনাই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ক্রেতারা চাইলে পাঞ্জাবিগুলোকে শেরওয়ানিতে রূপান্তরের সুযোগও পাচ্ছেন, যদিও সে ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা বাড়বে।
বনানীর আশপাশের এলাকাজুড়ে আরও বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের শোরুম রয়েছে। এর মধ্যে আড়ং, ইনফিনিটি, মান্যবর, শপার্স ওয়ার্ল্ড এবং ইলিয়েনের মতো শোরুমগুলোতে দুই হাজার থেকে শুরু করে অর্ধলাখ টাকা পর্যন্ত দামের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে।
শুধু বনানী নয়, গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত শপিং মলেও ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের মতো বড় বিপণিবিতানেও রয়েছে নামী ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবির সমাহার।
অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ভরসার জায়গা অ্যালিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাব, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট, কাঁটাবন, মৌচাক ও নয়াপল্টনের বাজারগুলোতেও জমে উঠেছে কেনাবেচা। এসব এলাকায় ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। সুতির পাশাপাশি সফট লিনেন, কাবুলি ও প্রিন্টের পাঞ্জাবির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। পাঞ্জাবির সঙ্গে মানানসই পায়জামার দাম ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা মূল্যের পাঞ্জাবিও উল্লেখযোগ্য হারে বিক্রি হচ্ছে। সাভার থেকে পরিবারসহ কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা জানান, এবার পাঞ্জাবির দাম কিছুটা বেশি হলেও যাচাই-বাছাই করে ভালো মানের পোশাক কেনার চেষ্টা করছেন তিনি।
ফ্যাশন হাউসগুলোও ঈদকে সামনে রেখে বাহারি ডিজাইন ও রঙের পাঞ্জাবি বাজারে এনেছে। রঙ বাংলাদেশ, লা রিভ, টুয়েলভ ক্লথিং ও কে ক্র্যাফটের বিশেষ ঈদ সংগ্রহ ও ছাড়ের কারণে শোরুমগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কেনাকাটার চাপ। অভিজাত ব্র্যান্ডের বিলাসী পোশাক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নাগালের সাশ্রয়ী পাঞ্জাবি, সব মিলিয়ে রাজধানীর ঈদবাজারে এবার বৈচিত্র্য ও দামের বিস্তর পার্থক্যই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

প্যানেল হু

×