ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

কক্সবাজারে নির্বিচারে পাহাড় কাটছে দুর্বৃত্তরা

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

প্রকাশিত: ২৩:৫৫, ১৭ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে নির্বিচারে পাহাড় কাটছে দুর্বৃত্তরা

কক্সবাজারে খুরশকুল এলাকায় নির্বিচারে পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা

পিএমখালী রেঞ্জের খুরশকুল এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে।  প্রতিরাতে ডাম্পার ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মাটি। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পাহাড় কাটার জন্য মৌখিক চুক্তি করেছে বিট কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের সঙ্গে। 
অবৈধ ডাম্পার মালিকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন পিএমখালী রেঞ্জের খুরশকুল বন বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন ঘুষ নেওয়ার কথা সত্য নয় বলে দাবি করেন।
নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে বেশ কয়েকটি পাহাড় ইতোমধ্যে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। আরও বেশ কয়েকটি পাহাড়-টিলা দিনে- রাতে কেটে পরিবেশ হুমকির মুখে ফেলে পাহাড়ের ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
জানা যায়, কক্সবাজার সদরের খুরশকুলের পূর্বের হুল্লার ডেইল, পূর্ব হামজার ডেইল, আদর্শ গ্রাম, বনাকাটা, পূর্ব ইসলামবাদ, কদমতলী, ঘোনারপাড়া, তেতৈয়া এলাকায় কয়েকটি পাহাড় ইতোমধ্যে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্ব ইসলামবাদ মসজিদের সামনে, কদমতলী মুজিব বর্ষের ঘরের পেছনে, আদর্শগ্রাম বটগাছ তলা এলাকায়, ঘোনারপাড়া এলাকায়, তেতৈয়া এলাকায়, পূর্ব রুহুল্লার ডেইল এলাকায় দিনে-রাতে পাহাড় কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে এই চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা। 
স্থানীয়রা এই পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেছে। তারপরও ঘুষখোর বিট কর্মকর্তার টনক নড়েনি। এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পাহাড় বিলুপ্ত হয়ে খুরশকুলবাসী চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন সমাজ।
খুরশকুল রুহুল্লার ডেইল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমরা পাহাড় কাটা বন্ধ করার জন্য সামাজিকভাবে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারছি না। পাহাড় খেকোরা অনেক প্রভাবশালী। তারা বন কর্মকর্তাদের মাসিক/সাপ্তাহিক চুক্তিতে টাকা দিয়ে নির্ভয়ে দিনে-রাতে পাহাড় কাটছে। আমরা তাদের কাছে অসহায়। খুরশকুল বনাকাটা এলাকার মো. রুবেল বলেন, আমাদের এলাকায় আগে বড় বড় পাহাড় ছিল, যেগুলোতে উঠলে সাগর দেখা যেত, সেসব পাহাড় এখন আর নেই।

পাহাড়খেকোরা সব শেষ করে দিয়েছে এবং এখনো প্রতিনিয়ত পাহাড় কাটছে তারা। কিন্তু বন কর্মকর্তারা কিছু বলে না। খুরশকুল তেতৈয়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমরা ছোট থাকতে আমাদের এলাকায় বড় বড় পাহাড় দেখেছি কিন্তু এখন তা আর  নেই। পাহাড়খেকোরা বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি করে এসব পাহাড় দিনে-রাতে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তারা স্থানীয় প্রভাবশালী লোক হওয়ায় এলাকার কেউ বাধা দিতে পারে না।
একজন ডাম্পার মালিক জানান, খুরশকুলে প্রায় ২০টি ডাম্পার গাড়ি আছে। তারা এত সহজে পাহাড় কাটতে পারে না। পাহাড় কাটতে হলে বিট অফিসারের সঙ্গে মাসিক চুক্তি করে নিতে হয়। বিট অফিসারকে প্রতিমাসে ডাম্পার প্রতি ৫ হাজার টাকা করে দিলে মাটি সরবরাহ করার অনুমতি মেলে। তারা সারারাত ঘুমাবে আর আমরা সারারাত পাহাড় কেটে মাটি নিয়ে যাই। কোন অসুবিধা  নেই। 
তিনি  জানান, যদি উপরের কোনো অফিসার এলাকায় অভিযানে ঢুকে তাহলে আমাদের বলে দিতে হবে এই শর্তে আমরা বিট কর্মকর্তাকে হাজার হাজার টাকা দিয়ে থাকি। তারপরেও মাঝে মাঝে কয়েকটি ডাম্পার আটক হয়ে গেলেও আমরা জামিন করে নিয়ে আসি। আমরা যেহেতু ব্যবসা করি, সেহেতু বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা করি।
এ বিষয়ে খুরশকুলের বন বিট কর্মকর্তা মো: মোশারফ হোসেন ঘুষ নেওয়ার কথা সত্য নয় দাবি করে বলেন, আমি আসার পর থেকে পাহাড় কাটা বন্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেহেতু পাহাড়খেকোরা রাতে পাহাড় কাটে, সেহেতু আমি সীমিত জনবল নিয়ে রাতে অভিযানে যেতে পারি না। 
পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা অনেক প্রভাবশালী হওয়ায় হামলার ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নিতে পারছি না। তবে কয়েকটি মাটি কাটার পয়েন্ট আমরা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছি।

প্যানেল হু

×