গোলের পর উদ্যাপন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়রের
সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৩-০ গোলের হারের পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ফিরতি দেখায় এই তিন গোল শোধ দিয়ে আরও গোল করতে হতো ম্যানচেস্টার সিটিকে। কিন্তু পেপ গার্দিওলার সিটিজেনদের সেই যৌবন যে আর এখন নাই, সেটি আরও একবার প্রমাণ হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় লেগেও ২-১ গোলের হারে বিদায় নিয়েছে ইংলিশ জায়ান্ট সিটি। স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়ালের জার্সিতে ২২ ও ৯৩ মিনিটে গোলের পর কান্নার ভঙ্গিতে উদ্যাপন করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। দুই লেগ মিলিয়ে তাদের জয় ৫-১ ব্যবধানে।
কিংবদন্তি অ্যালেক্স ফার্গুসনকে (১৯০) পেছনে ফেলে এই টুর্নামেন্টে নিজের ১৯১তম ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে রেকর্ড গড়ার দিনে বড় হারের পর সিটি কোচ গার্দিওলা আক্ষেপ করেছেন বার্নার্দো সিলভার লালকার্ড নিয়ে। আরেক ম্যাচে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আরেক বিগ ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে জিতে ৮-২ গোলের অগ্রগামিতায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফরাসি প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। এ নিয়ে পাঁচ মৌসুমের মধ্যে চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় করল রিয়াল মাদ্রিদ। সিটি এদিন অসম্ভবকে সম্ভব করার আশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল।
তবে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খেয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। অধিনায়ক বার্নাডো সিলভার লাল কার্ডে দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় রিয়াল। মাঝমাঠ থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস পেয়ে ফাঁকায় বল পান ফেদে ভালভের্দে, তবে তার দুর্বল শট সহজেই ঠেকান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। এরপরই পাল্টা আক্রমণে সিটির দুটি নিশ্চিত সুযোগ রুখে দেন থিবো কোর্তোয়া। রায়ান চেরকি ও রদ্রির শট ঠেকিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন বেলজিয়ান এই গোলরক্ষক।
১৭তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ভিনিসিয়ুসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মুহূর্তেই বলটি সিলভার হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে রিয়াল। ভিএআরের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর মনিটরে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। একই সঙ্গে সিলভাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি ভিনিসিয়াস জুনিয়র। গোল হজমের পর উত্তেজনায় চতুর্থ অফিসিয়ালের সঙ্গে আচরণে হলুদ কার্ড দেখেন সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা।
যোগ করা সময়েও (৯৩ মিনিট) ভিনি একবার বল জালে জড়ালেও সেটি গণ্য হয়নি একই কারণে। তবে শেষ মুহূর্তে আর ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। নিজের দ্বিতীয় গোলে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি এবং সিটির স্বপ্ন চূর্ণ করে রিয়ালকে তুলে দেন কোয়ার্টার-ফাইনালে। ম্যাচে বল দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল সিটি (৪৭ শতাংশ), তবে আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল রিয়াল। সিটির ২২ শটের ৮টি লক্ষ্যে থাকলেও রিয়ালের ১৪ শটের ৭টিই ছিল অন টার্গেটে।
অন্যদিকে পিএসজির পিবক্ষে নিজ আঙিনায় চেলসিও শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করে। যার মূল্যও দিতে হয়। প্রথমার্ধে জালের দেখা পেয়েছেন খাভিচা কাভারাৎস্খেলিয়া (৬ মিনিট) ও ব্র্যাডলি বারকোলা (১২ মিনিট)। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়িয়েছেন সেনি মায়ুলু (৬২ মিনিটে)। ম্যাচের শুরুটা ইতিবাচক ছিল চেলসির। তবে প্রথম সুযোগেই গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে আসা একটি বল ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে না পেরে বিপদ ডেকে আনেন মামাদু সার। সেই সুযোগে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে কাভারাৎস্খেলিয়া দলকে এগিয়ে দেন। এরপরও আক্রমণ চালিয়ে যায় চেলসি, কিন্তু কার্যকর ছিল পিএসজির রক্ষণ।
উল্টো দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দ্বিতীয় গোল তুলে নেয় অতিথিরা। আশরাফ হাকিমির পাস থেকে শক্তিশালী শটে লক্ষ্যভেদ করেন বারকোলা। বাকি সময়ে বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোল আদায় করতে পারেনি তারা। ৬২তম মিনিটে দারুণ ফিনিশিংয়ে তৃতীয় গোল করেন সেনি মায়ুলু। এতে দুই লেগ মিলিয়ে চেলসির বিপক্ষে পিএসজির গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটে। একই সময়ে শুরু হওয়া আরেক ম্যাচে এমিরেটস স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। এবেরেচি এজের চমৎকার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর, দারুণ নৈপুণ্যে ব্যবধান বাড়ান ডেক্লান রাইস। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল আর্সেনাল। প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।
প্যানেল হু








