কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ
উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ। এবার শোলাকিয়ায় সকাল ১০টায় ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের বড় জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। তাঁর বিকল্প হিসেবে হয়বতনগর, হয়বতনগর এ. ইউ কামিল মাদ্রাসার তাফসির বিভাগের প্রভাষক মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাইকে মনোনীত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি ইতোমধ্যে জামাত আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
তবে এবারের ঈদের জামাত নির্বিঘেœ শেষ করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে প্রশাসন। ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন সকালে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে দুই পুলিশ সদস্য, এক এলাকাবাসী ও এক হামলাকারী নিহত হয়। ভয়ানক ওই জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ব্যাপক সংখ্যক পুলিশসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দাদের বিশেষ টিম মাঠের চারদিকে অবস্থান করবে।
এছাড়া ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনসহ গতিবিধি পর্যবেক্ষণে মাঠে ৬টি ওয়াচ টাওয়ার এবং সিসি ক্যামেরা দ্বারা পুরো মাঠ মনিটরিং করা হবে। ২৮টি গেটে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশ করানো হবে। নামাজের সময় ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের আকাশে নজরদারি করবে শক্তিশালী ৪টি ড্রোন ক্যামেরা। এছাড়া ৬টি অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম, ফায়ার ব্রিগেডের ২টি ইউনিট সার্বক্ষণিক মোতায়েন এবং বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ পুলিশের কুইক রেস্পন্স টিম থাকবে।
জামাতে অংশ নেয়া মুসল্লিদের ঈদগাহে জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া কিছু সঙ্গে না আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাতিল করা হয়েছে এ জেলায় পুলিশের ছুটি। বুধবার সকালে শোলাকিয়া ঈগগাহ মাঠ পরিদর্শন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে মাঠে কাতারে নামাজের জন্য দাগ কাটা হয়েছে, বানানো হয়েছে পর্যাপ্ত অজুখানা। মাঠের মিম্বরে আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সীমানা প্রাচীরে চুনকাম করাসহ মাঠ সংলগ্ন রাস্তাগুলোর সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এবারও শোলাকিয়া মাঠ থেকে জামাত সরাসরি সম্প্রচার করবে বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল। এদিকে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিদের আগমনের সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঈদের দিন ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে সকাল ৮টায় পৌঁছবে।
আর কিশোরগঞ্জ থেকে বেলা ১২টায় ফিরতটি ট্রেনটি ভৈরব পৌঁছবে দুপুর ২টায়। অপর ট্রেনটি ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে সকাল ৮টায়। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ইতোমধ্যে ঈদকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ নির্মাণ, ব্যানারে সাজানো সড়ক দ্বীপ স্থাপন করা হয়েছে।
প্যানেল হু








