ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আলম বলেছেন, বর্তমান সরকার ১৮০ দিনে ১ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবে এবং ৫ বছরে ৩০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতি পাল্টে যাবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গীর ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিমতলী বালুর মাঠ এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাল পুনঃখনন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কাজের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আলম স্বপন এমপি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গাজীপুর এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহির উদ্দিন এর সঞ্চালনায় গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভারপ্রাপ্ত আহাম্মদ হোসেন ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক (মেয়র) শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালী-উল-হক, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন।
মন্ত্রী বলেন, একসময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি উন্নয়ন ও সেচ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে যে খাল কাটা কর্মসূচি চালু করেছিলেন, তা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও এই কর্মসূচি পুনরায় জোরদার করা হয়। দেশের পরিবেশ সুরক্ষা, কৃষি উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল কাটার কর্মসূচি শুরু করে দেশে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান সাহেব ক্ষমতায় এসে সর্বপ্রথম এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এতে দেশের অর্থনীতি পাল্টে যাবে।
মন্ত্রী স্বপন আরো বলেন, নির্বাচনের কালির দাগ মুছে যাওয়ার আগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং আগামী কিছুদিনের মধ্যে কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হবে। বিএনপি সরকার শুধু কথায় না কাজে বিশ্বাসী গাজীপুরকে একটি মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গাজীপুরকে একটি মেগাসিটি হিসাবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের খাল, বিল, নদী-নালা দূষণমুক্ত করতে হলে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন তাদের বর্জ্য সরাসরি খাল বিল নদী-নালায় ফেলে নদীকে দূষিত না করতে পারে সেদিকে সিটি করপোরেশন নাগরিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশ সুরক্ষা, কৃষি উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একসময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি উন্নয়ন ও সেচ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে যে খাল কাটা কর্মসূচি চালু করেছিলেন, তা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও এই কর্মসূচি পুনরায় জোরদার করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অনেক খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে কৃষি জমিতে সহজে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে এবং উৎপাদনও বাড়বে। পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এ উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দ্রুত নগরায়নের ফলে গাজীপুরে খাল-নদী দখল ও দূষণের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষা, দূষণ বন্ধ এবং শিল্পকারখানাগুলোতে ইটিপি স্থাপনের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সবুজায়ন এবং পর্যটন সম্ভাবনাও তৈরি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, টঙ্গী-গাছা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ গাছা খাল পুনঃখনন হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি জানান, সরকারের উদ্যোগে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা দেশের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজু








