দৈনিক জনকণ্ঠ || Daily Janakantha

ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

waltonbd
waltonbd
Sopno
Sopno
adbilive
adbilive
কিছু লোক রাজনীতিকদের দুর্নীতিবাজ প্রমাণের চেষ্টা করছে ॥ কাদের

কিছু লোক রাজনীতিকদের দুর্নীতিবাজ প্রমাণের চেষ্টা করছে ॥ কাদের

আওয়ামী লীগের রাজনীতি এই দেশের মানুষের জন্য উল্লেখ করে দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বার্তা হলো, নতুন প্রজন্মের উপযোগী বাংলাদেশ গড়া ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন। আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্য, মানুষের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ছিল, আছে ও থাকবে। শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিবাজ ও ব্যর্থ প্রমাণ করতে কিছু মানুষ উঠেপড়ে লেগেছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা কথা বলতে চাই, এক এগারোর সময়ে যেটা দেখেছি, সেটা হলো সুপরিকল্পিতভাবে দেশের রাজনীতিবিদদের নিন্দিত করা, কুৎসা রটানো। এ দেশ স্বাধীন করেছে, দেশের উন্নয়ন করছে রাজনীতিবিদেরা। এখন সেই রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করতে ও তাদের ব্যর্থ হিসেবে তুলে ধরতে কিছু লোক তৎপরতা চালাচ্ছে। আমরা সেটা বুঝি, এর বিরুদ্ধে প্রস্তুতও আছি। এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজনীতি করলে কি ব্যবসা করার অধিকার থাকবে না? রাজনীতিবিদরা চাঁদা তুলে ভাত খাবে? চাঁদা তুলে পরিবার চালাবে? ব্যবসা করলে তো আপত্তি নেই। সৎ ব্যবসা করলে আপত্তি নেই। অসৎ ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। ৭৫ বছরে আওয়ামী লীগের কোনো অপ্রাপ্তি রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অপ্রাপ্তির বিষয় সেভাবে দেখছি না। প্রাপ্তির খাতা হিসাব করে এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপ্রাপ্তিটা রাজনৈতিক। আমাদের অসমাপ্ত কাজ হলো, বিজয়কে সুসংহত করতে পারিনি। সাম্প্রদায়িকতা বিজয়কে সুসংহত করার পথে অন্তরায় হয়ে আছে। এই সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী শক্তিকে পরাজিত করাই আমাদের বিজয়কে সুসংহত করবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকলে প্রস্তুত রয়েছে। শুক্রবার থেকে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বশ্রেষ্ঠ এ অর্জন, দেশের স্বাধীনতা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জন এ দেশের উন্নয়ন। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত আমরা প্রস্তুত। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন সম্পন্ন।

SomajVabna
আসন্ন নির্বাচনে সুনাকের দলের ভরাডুবির শঙ্কা

আসন্ন নির্বাচনে সুনাকের দলের ভরাডুবির শঙ্কা

যুক্তরাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের দল কনজারভেটিভ পার্টি। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ প্রকাশিত সাভান্তা জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। জরিপে দেখা যায়, আগামী ৪ জুলাইয়ের নির্বাচনে আসন হারাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী সুনাক নিজেই। ৬৫০ সদস্যের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে কনজারভেটিভদের ভাগ্যে জুটতে পারে মাত্র ৫৩টি আসন। খবর বিবিসির। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ২০২৫ সালের বদলে আগামী ৪ জুলাই সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর, সে অনুযায়ী প্রার্থীরা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার। বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা মন জয়ের চেষ্টা করছেন ভোটারদের। আর নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই সাভান্তা জনমত জরিপের ফল প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

লেবাননকে গাজায় পরিণত হতে দেওয়া যাবে না ॥ গুতেরেস

লেবাননকে গাজায় পরিণত হতে দেওয়া যাবে না ॥ গুতেরেস

লেবাননকে আরও একটি গাজায় পরিণত হতে দেওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেছেন তিনি। এ সময় ইসরাইল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে গুতেরেস বলেন, এই পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং ভুল গণনা রোধ করতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা কাজ করছেন। খবর এএফপির। এদিকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে ইসরাইলকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে ইসরাইলকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন সেনাদের সেখানে সরাসরি মোতায়েন করা হবে না। গত বছর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হলে এতে যোগ দেয় হিজবুল্লাহ।

যশোর ও মাগুরায় চামড়ার বাজারে ধস

যশোর ও মাগুরায় চামড়ার বাজারে ধস

যশোর সদরের ইছালি গ্রামের বিশ্বজিৎ কুমার ১২২ পিস গরু ও ২০ পিস ছাগলের চামড়া নিয়ে শনিবার যশোরের চামড়ার মোকাম রাজরহাটে এসেছিলেন। কিন্তু কাক্সিক্ষত দাম না পেলেও সব চামড়া বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, গত ২০ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে আমি জড়িত, কিন্তু চামড়ার এরকম দরপতন গত ৩-৪ বছর ধরে চলছে। সরকার নির্ধারিত ৫০ টাকা ফুট হলেও দাম পাওয়া যাচ্ছে ২৫ টাকা ফুট হিসেবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করা, লবণ লাগানো এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে যে চামড়ার দাম প্রতি পিস ৮-৯শ’ টাকা পড়েছে, সেই প্রায় একই দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। খুলনার পাইকগাছার স্বপন দাস জানান, তিনি ২৪৮ পিস গরুর চামড়া ও ৪৪ পিস ছাগলের চামড়া রাজারহাটে এনেছেন। বড় চামড়া বিক্রি করেছেন ৮-৯শ’ টাকায়, আর ছাগলের চামড়া প্রতি পিস ২০ টাকা করে। অর্থাৎ গরুর চামড়া বিক্রি করেছি ২৫ টাকা ফুট হিসেবে। অথচ সরকার নির্ধারণ করেছে ৫০ টাকা ফুট করে। যেকারণে আমাদের মতো খুচরা ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেনা। লাভের মুখ দেখছেন আড়তদার আর ট্যানারি মালিকরা। খুলনা বিভাগের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে চামড়ার দাম ছিল কম। ঈদের প্রথম হাটবার ছিল শনিবার। যদিও আড়তদাররা বলছেন, ভালোমানের চামড়া সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে। খারাপ চামড়া বিক্রি হচ্ছে কম দামে। ঈদ পরবর্তী প্রথম হাটে রাজারহাট ছিল ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম। তবে সেই তুলনায় চামড়ার জোগান ছিল কম। গরু ও ছাগলের প্রায় ৭০ হাজার পিস চামড়ার হাতবদল হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে।  এদিকে নিজস্ব সংবাদদাতা, মাগুরা জানান, ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়ার  বাজারে দাম কম হওয়ায় বিক্রীত চামড়ার মূল্য পাননি বলে বিক্রেতারা অভিযোগ করেছেন। এখানে প্রতিটি গরুর চামড়া প্রকার ভেদে মাত্র ৩০০-৬০০ টাকা এবং খাসির চামড়া ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এবারও চামড়া ক্রয় করে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। জেলায় সংগৃহীত চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

কৃষিতে নারীর শ্রম ॥ প্রয়োজন নিবন্ধন ও প্রণোদনা

কৃষিতে নারীর শ্রম ॥ প্রয়োজন নিবন্ধন ও প্রণোদনা

কৃষক পরিবারের নারীরা উদয়-অস্ত পরিশ্রম করেন। শুধু  তাই নয়- কখনো কখনো গভীর রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করেন। তাদের পরিশ্রম পরিবার প্রধান কৃষক পুরুষের চেয়েও কোনো অংশে কম নয়। বরং ক্ষেত্র বিশেষে পরিশ্রম বেশি হয়ে থাকে। কৃষক পরিবারে নারীরা ধানকাটা মৌসুমে নাওয়া খাওয়ার সময় পান না।  তবে পরিবারের সদস্যদের জন্য নিত্যদিন রান্না করে তিন বেলা খাবারের জোগান নারীরাই দেন।  কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘নারী’ কবিতায় লিখেছেন, ‘জ্ঞানের লক্ষ্মী, গানের লক্ষ্মী, শস্য-লক্ষ্মী নারী,/ সুষমা-লক্ষ্মী নারী ওই ফিরিছে রূপে রূপে সঞ্চারী।/ শস্যক্ষেত্র উর্বর হলো, পুরুষ চালালো হাল,/ নারী সেই মাঠে শস্য রোপিয়া করিল সু শ্যামল।/ নর বাহে হাল, নারী বহে জল, সেই জল মাটি মিশে/ ফসল হইয়া ফলিয়া উঠিল সোনালী ধানের শীষে।’ যে নারী কৃষিতে শ্রম দেন, যে নারী আমাদের কৃষি, সমাজ ও সংসারকে মহিমান্বিত করেছেন জীবনের সবটুকু বিনিয়োগ দিয়ে; তার কষ্ট আসলেই এখনো অমানবিক। সমাজে সংসারে তাদের মর্যাদা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ জনপদে কৃষিতে নারীর সংশ্লিষ্টতা অন্যতম নিয়ামক শক্তি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কৃষি পরিবারে নারীরা ঘরে বীজ সংরক্ষণ করে থাকেন। তবে এখন বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়াটা কৃষি পরিবারে নাই বললেও চলে। কারণ প্রতি মৌসুমে ফসলের বীজ প্যাকেটজাত হয়ে বাজারের বিপণন হয়।  তবে হাঁস, মুরগি পালন, গরু ছাগল পালন; গরুর দুধ দোহন, গরু মোটাতাজাকরণ, হাঁস-মুরগির ডিম ফোটানো, বসতবাড়িতে শাক-সবজি, ফল-ফুল চাষ, শীতল পাটি তৈরি, জ্যাম জেলি আচার, স্যুপ আমসত্ত্ব তালসত্ত্ব, আলুর কলার চিপস, চানাচুর তৈরি, ছাদ বাগান পরিচর্চা, জ্বালানি সংগ্রহ, কৃষি বনায়ন, সামাজিক বনায়নের সবগুলোতেই গ্রামের নারীরা সম্পৃক্ত। গ্রামের সাঁওতাল, উঁড়াও, গারোসহ নৃগোষ্ঠীর নারীরা মাঠে কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে।  শ্রম শক্তির মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নারী কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত। কর্মক্ষম নারীদের মধ্যে কৃষি কাজে সবচেয়ে বেশি নারী নিয়োজিত আছেন। যা দিন দিন আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাপক তরুণী নিজেকে আধুনিক কৃষিতে আত্মনিয়োগ করছেন। পাশাপাশি এ দেশে তৈরি হচ্ছে উল্লেখযোগ্য কৃষি নারী উদ্যোক্তা।