ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

বাংলাদেশে লেগ স্পিনারের কদর নেই

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৩০, ১১ জুন ২০২৪

বাংলাদেশে লেগ স্পিনারের কদর নেই

বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই জাত চিনিয়েছেন টাইগার লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন

দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশের কোচ হয়ে আসার পর থেকেই চান্দিকা হাতুরুসিংহের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় একজন লেগস্পিনারকে পাওয়া। সেজন্য একটা অদৃশ্য প্রজেক্টও শুরু করেন তখন যারা উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় লেগস্পিনার রয়েছে তাদের নিয়ে। এর মধ্যে রিশাদ হোসেনকে তার বেশ মনে ধরে। মূলত হাতুরুর হাত ধরেই এখন রিশাদ বাংলাদেশ দলের হয়ে টি২০ বিশ^কাপও খেলছেন।

এমনকি এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম জয়ের নায়কও হয়েছেন তিনি ৩ উইকেট নিয়ে। আর সে কারণেই এবার বাংলাদেশে লেগস্পিনারের কদর না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাতুরু। রবিবার নিউইয়র্কের ক্যান্টিয়াগ পার্কে অনুশীলনের পর তিনি হতাশার সঙ্গেই বলেছেন যে, লেগস্পিনারের মূল্য বোঝে না কেউ বাংলাদেশে। এই সময় তিনি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। রানখরায় ভোগা সৌম্য সরকার ও অফফর্মে থাকা সব ব্যাটারদের জন্যই রানে ফেরার কৌশলটা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
রিশাদ দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য এনে দিচ্ছেন বাংলাদেশ দলকে। লঙ্কানদের বিপক্ষে বিশ^কাপের প্রথম ম্যাচেই ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে প্রথমবার টি২০তে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে হাতুরু বলেছেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, আমাদের জন্য দলে লেগ স্পিনার নেওয়া কিছুটা চ্যালেঞ্জের।

আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। এটাই মূলত আমাদের সংস্কৃতি। আমরা এর (লেগ স্পিনার) মূল্য বুঝি না। আমার মতে, আমরা এখন দল হিসেবে লেগ স্পিনের মূল্যটা বুঝতে পারছি। দলের ভেতরে আমরা তাকে সমর্থন করছি।’ কারণ লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম দুই ওভারে ১৬ রান দিলেও রিশাদকে আবার বোলিংয়ে এনেই সাফল্য পেয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৮ টি২০ খেলে রিশাদ মাত্র ৭.০৫ ইকোনমিতে ১৮ উইকেট নিয়েছেন।

হাতুরু বলেছেন, ‘সবশেষ ম্যাচে এটিই (রিশাদের বোলিং) সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক ছিল। কারণ আমরা এখন প্রায় এক বছর ধরে তাকে সমর্থন করছি। আমরা জানতাম, সে আমাদের ম্যাচ জেতাবে। আর ওই ম্যাচটি জেতানো, খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই খুবই সন্তোষজনক ছিল (রিশাদের পারফর্ম্যান্স)।’
এ সময় অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহর প্রতিও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন হাতুরুসিংহে। তিনি বলেছেন, ‘আমি সবসময়ই তার খেলা শেষ করে আসতে পারার সক্ষমতায় মুগ্ধ। এজন্যই সে এমন জায়গায় ব্যাট করছে। তার অনেক অভিজ্ঞতা আছে, যখন দল চাপে থাকে তখন মাঠের মধ্যে সবচেয়ে সুস্থির থাকাদের একজন সে। তার ভূমিকাটা সে ভালো জানে।’ ৩৮ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে বড় ম্যাচের পারফর্মার মনে করেন হাতুরু।

তাকে নিয়ে বেশ মুগ্ধতা ঝরেছে প্রধান কোচের কণ্ঠে। তিনি বলেছেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত। কারণ ইনিংসের মাঝখানে আমি তাকে বলেছিলাম, তার কাছে একটা জিনিসই চাই যেন সে শেষ অবধি ব্যাটিং করে। এরপর যা হওয়ার হোক, সে সেটা করেছে। আর এটা প্রথমবার না যখন সে এমন করল। রিয়াদ বড় ম্যাচের পারফর্মার। বেশির ভাগ বিশ্বকাপেই আমাদের জন্য ভালো কিছু করেছে।’ হাতুরুর অত্যন্ত প্রিয় পাত্র সৌম্য।

নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার পর এ বাঁহাতিকে আবার দলে ফিরিয়েছেন তিনি। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলার পর আর সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। 
তবে দলের অন্য অনেকেই ফর্মহীন। সৌম্যসহ তাদের নিয়ে হাতুরু বলেছেন, ‘শুধু সৌম্য না, আমরা সবার সঙ্গেই কথা বলছি। আমরা তাদের খেলা, শক্তির জায়গাগুলো, প্রতিপক্ষ, তারা কী চায়- সবকিছু নিয়েই কথা হয়। কিন্তু এরপর মাঠে গেলে, ওখানে শুধু তারাই থাকে।

তাদের নিজেদের খেলাটা বুঝতে হবে আর কি অনুভব করছে সেটাও। এখানে টেকনিক্যাল কোনো ব্যাপার নেই। আপনাকে কেবল গিয়ে নিজের শক্তির জায়গা চিন্তা করে খেলতে হবে। যে কোনো ব্যাটারের জন্যই এটাই বার্তা।’

×