ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ছিলেন না সাকিব, তাসকিন, তাইজুল ও সৌম্য

ক্রিকেটারদের দৌড়ে সেরা নাহিদ-তানজিম

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৪৬, ২১ এপ্রিল ২০২৪

ক্রিকেটারদের দৌড়ে সেরা নাহিদ-তানজিম

প্রচণ্ড দাবদাহের মাঝে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিক ট্র্যাকে দৌড়াচ্ছেন মুশফিকুর রহিমসহ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা

সাধারণত জাতীয় দলের টানা ব্যস্ততার আগে ঘটা করে ফিটনেস টেস্ট করা হয়। সর্বশেষবার গত বছর এশিয়া কাপের আগে সেই টেস্ট দিয়েছিলেন পুলভুক্ত ৩২ ক্রিকেটার। এবার টানা ব্যস্ততায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ঘাস লম্বা হয়ে গেছে এবং সেজন্য নতুন স্ট্রেংন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ নাথান কিলির চাওয়াতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকে স্প্রিন্ট ও টাইম ট্রায়াল দিয়েছেন ৩৪ ক্রিকেটার।

টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০ দলে খেলবেন এমন সম্ভাব্য ৩৯ ক্রিকেটারের তালিকা করা হয় এই ট্রেনিংয়ের জন্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় সাকিব আল হাসান, টানা খেলার কারণে তাসকিন আহমেদ, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) থাকার জন্য মুস্তাফিজুর রহমান ও ইনজুরি থেকে সবেমাত্র সেরে ওঠায় সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম অংশ নেননি। পরীক্ষা দেওয়া ক্রিকেটারদের দুই গ্রুপ থেকে প্রথম হয়েছেন তরুণ দুই পেসার নাহিদ রানা ও তানজিম হাসান সাকিব। ক্রিকেটারদের এই স্প্রিন্ট পারফর্ম্যান্সে সন্তোষ জানিয়েছেন ফিজিওরা। 
ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে স্প্রিন্ট ও টাইম ট্রায়ালের জন্য ৩৫ ক্রিকেটার আসেন। ১৯ বছর পর আবার ক্রিকেটের নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক এই স্টেডিয়ামে কোনো ক্রিকেট কর্মকা- এটি। মূলত চলতি বছর আসন্ন আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার কথা মাথায় রেখে খেলোয়াড়দের ফিটনেসের অবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। আগামী ৭ মাসে বাংলাদেশ দল খেলবে ৮ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে এবং অন্তত ১৮ টি২০ ম্যাচ। যে কোনো এক সংস্করণে বিবেচিত হতে পারেন এমন ৩৫ ক্রিকেটার ছিলেন এই সেশনে।

নিয়মিত ক্রিকেটারদের মধ্যে আইপিএলে থাকায় মুস্তাফিজ, চোট থেকে ফেরার পথে থাকায় সৌম্য ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় সাকিব এবং গত সপ্তাহে পেশির টান লাগায় তাসকিন ও তাইজুল ছিলেন না। প্রথমে দুই দফায় ৪০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলে সদ্য যোগ দেওয়া স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ কিলির সঙ্গে বিসিবির দুই ট্রেনার মীর ইফতি খায়রুল ইসলাম ও তুষার কান্তি হাওলাদার ক্রিকেটারদের পর্যবেক্ষণ করেন। প্রয়োজনীয় তথ্য খাতায় টুকে রাখেন।

এরপর অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকে ১৬০০ মিটার দৌড় হয়েছে রিলে সিস্টেমে দুই ভাগে ক্রিকেটাররা বিভক্ত হন এবং ৪ঢ৪০০ মিটার দৌড়ে নাহিদ ও তানজিম প্রথম হন। তবে এই দৌড়ে যে উত্তীর্ণ-অনুত্তীর্ণ বা প্রথম-দ্বিতীয় হওয়াতে বাড়িত সুবিধা নেই। বিষয়টি নিয়ে ট্রেনার ইফতি বলেছেন, ‘অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক বেছে নেওয়ার কারণ আসলে টাইমিংয়ের একটা বিষয় আছে। আমরা আজ ১৬শ মিটার টাইম ট্রায়াল নিলাম। তাদের কার্ডিও ভাস্কুলার সিস্টেম কীভাবে কাজ করে, ওদের ক্যাপাসিটি কেমন।

স্প্রিন্ট টেস্ট নিলাম বুঝতে তারা কত দ্রুত এটা দেখতে। ৪০ মিটার স্প্রিন্ট যেটা ছিল প্রথম ২০ মিটারে কে কতটুকু গতিময়। সাধারণত এক-দুই মিটারের জন্য একটা রান আউট হয় বা এক-দুই সেন্টিমিটারের জন্য আমরা একটা চার বাঁচাতে পারি না। অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে যথাযথ টাইমিংটা পাব। কারণ ওভাবেই হিসাব করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝলাম খেলোয়াড়দের অবস্থাটা কেমন।

এটার মধ্যে পাস-ফেলের কিছু নেই। ডিপিএল গিয়েছে, বিপিএল গিয়েছে। এরপরে ওদের ফিটনেসের অবস্থা কি সেটা জানার জন্য। এটা জানার পর খেলোয়াড়দের কাকে কি অনুশীলন করাতে হবে এটা খুঁজে বের করব। ওদের জানিয়ে দেব, ওভাবে আমরা প্রয়োগ করব।’

×