ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

সাফের আগে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে চান সাবিনা

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৫৮, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

সাফের আগে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে চান সাবিনা

সাবিনা খাতুন

ছয় বছর পর দ্বিতীয় মোকাবিলায় অনায়াস জয়। তাতে ১২ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মধুর প্রতিশোধ নিয়ে অপার চিত্তসুখ লাভের অনুভূতি। বলা হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কথা। ২০২৩ সালটা মোটেও ভালো যায়নি তাদের। এ বছর ষষ্ঠ ম্যাচ খেলে শুক্রবারই তারা দর্শন করেছে প্রথম জয়ের মুখ। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ৩-০ গোলে হারিয়েছে সিঙ্গাপুরকে, যাদের কাছে অর্ধযুগ আগে ওই একই স্কোরলাইনে পরাভূত হয়েছিল তারা। 

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন কথা বলেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লাস্ট সাফের পর ওভাবে অত ম্যাচ খেলা হয়নি আমাদের। সেপ্টেম্বরে এশিয়ান গেমসে গিয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছি। তাছাড়া ওভাবে কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি।’ বাফুফের আগেই ঘোষণা দেয়া ছিল- দর্শকরা বিনামূল্যে কমলাপুর স্টেডিয়ামে এসে খেলা উপভোগ করতে পারবে। তারা ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অকুণ্ঠ সমর্থন জুগিয়ে গেছেন। এটা আলোড়িত করেছে সাবিনাকে, ‘মাঠে যদি খেলা থাকে, তাহলে প্লেয়ারদের খেলার মান অটোমেটিক্যালি বাড়ে।

আমি যেটা ফিল করেছিলাম পার্সোনালি নেপালের সঙ্গে কিছুদিন আগে যে দুটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছিলাম, তাতে বোঝা গিয়েছিল আমাদের একটু ছন্দপতন হয়েছে। ওটার পরে আমার মনে হয় যে ব্যাপারটা ওভারকাম হয়েছে। গতকালকেও প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলাম আমি আশাবাদী বাংলাদেশের মানুষ মাঠে আসলে তারা সবাই আনন্দ নিয়েই বাসায় ফিরে যাবে।’ 
সাবিনাকে যখন খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেয়া হচ্ছিল, তখন দর্শকরা তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়। সাবিনার সামনে দর্শকদের একটা বল পড়ে ছিল। সেটা উঠিয়ে আবার গ্যালারিতে ছুড়ে মারেন নাম্বার টেন। এ প্রসঙ্গে সাবিনার ভাষ্য, ‘এরকম ভালোবাসা আমরা বরাবরই পেয়ে থাকি। আবারও অনেকদিন পরে পেলাম। এগুলো আসলে প্লেয়ারদের এক্সট্রা একটা এনার্জি দেয়। দর্শকরা মাঠে এসে যখন সাপোর্ট দেয় এবং তাদের এই আশাটাকে যখন আমরা আনন্দের মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে পারি, সেটাই আসলে আমাদের সার্থকর্তা। আমার মনে হয় যে দর্শক তো আসেই ভালো খেলা দেখতে। এবং সাফের পর যে ব্যাপারটা হয়েছে- মানুষের আশা অনেক বেড়েছে। তাই সেখানে আমাদের অনেক কেয়ারফুল থাকতে হয়। বিশেষ করে তাদের মনটা যেন না ভাঙে।’ 
শুক্রবার ম্যাচ শুরুর ৩ মিনিটের মধ্যেই প্রথম গোল পাওয়ার পরই কি বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটা অনেক সহজ হয়ে যায়? সাবিনার উত্তর, ‘দুদলই পরস্পরের জন্য অপরিচিত ছিল। আমরা সিঙ্গাপুরের সঙ্গে খেলেছি সেই ২০১৭ সালে। তবে আমার মনে হয় যে ওই সময়ের কোনো প্লেয়ারই এই টিমে নেই। একমাত্র আমারই অভিজ্ঞতা আছে ওদের সঙ্গে খেলার, দলের বাকি কারোর নেই। তাই বলা যেতে পারে, দুপক্ষেরই কেউ কাউকে চেনে না। সেক্ষেত্রে হতে পারে আমাদের সম্পর্কে ওদের নলেজ ওরকম ছিল না। আমাদের বেলাতেও তাই। প্রথম গোলটা হয়েছে কর্নার থেকে। যে সময় টোটালি ওরা অপ্রস্তুত ছিল। আমাদের যে ট্যাকটিক্সটা ছিল, সেটা আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি। আসলে ওরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমরা গোল করার সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ফেলি।’ 
দুদলের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে সাবিনা বলেন, ‘ওরা ফিজিক্যালি আমাদের চেয়ে অনেক ভালো। কিছু কিছু সময় দেখা গেছে মনিকা এবং মারিয়ার কাছ থেকে ওরা বল কেড়ে নিয়েছে ট্যাকল করে। তবে টেকনিক্যালি আমরা ওদের চেয়ে এগিয়ে ছিলাম, সেটাই আমরা কাজে লাগিয়েছি। প্রথমার্ধের চেয়ে দ্বিতীয়ার্ধেই ওরা ট্রাই করেছিল আমাদের ওপর বেশি প্রেশার দিতে। বাট ওভারঅল আমরা সেটা ওভারকাম করতে পেরেছি।’ ৪ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ। ওই ম্যাচে কি আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করছে বাংলাদেশ? ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’ সাবিনার জবাব।

আগামী অক্টোবরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। সিঙ্গাপুর-ম্যাচ দিয়েই কি সেই আসরের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল? ‘প্রস্তুতির ব্যাপারে বলব আমি পার্সোনালি আরও অনেক বেশি ম্যাচ চাই। ভারত-নেপাল আরও বেশি প্রস্তুতি নিয়ে আসবে। ডেফিনেটলি এবার আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে খেলাটা। সেক্ষেত্রে বলতে গেলে কন্টিনিউয়াসলি ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ খেলার কোনো বিকল্প নেই। তাই এটা আমাদের দাবি যে আরও বেশি বেশি ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেওয়া হোক। কিরণ আপা (বাফুফের নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারপারসন মাহফুজা আক্তার কিরণ) বলছিলেন তারা এ ব্যাপারে ট্রাই করছেন যেন আরও কয়েকটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচের ব্যবস্থা করা যায়।’ সাবিনার সর্বশেষ জবাব।

×