ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

আমিরাতের বিপক্ষেও পাওয়ার আছে অনেক কিছু

মোঃ মামুন রশীদ

প্রকাশিত: ০১:৫৮, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আমিরাতের বিপক্ষেও পাওয়ার আছে অনেক কিছু

.

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পরে দুবাই পৌঁছে বাংলাদেশ টি২০ দল। আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টি২০ সিরিজ খেলতে নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বে এই দলে আছেন সবমিলিয়ে ১৭ ক্রিকেটার। বাঁহাতি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান অনাপত্তি পত্র নিয়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (সিপিএল) টি২০ খেলছেন। তার অনুপস্থিতিতে ২ ম্যাচের এই সিরিজে সহঅধিনায়ক সোহানই দলকে নেতৃত্ব দেবেন। ২৫ ও ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার থেকেই সেজন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। সকালে উঠে অনেকেই জিমনেশিয়ামে হালকা ব্যায়াম করেছেন এবং সন্ধ্যায় মাঠে অনুশীলনও হয়েছে। আজ আরেকটা দিন মাঠের অনুশীলন করেই রবিবার প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশের বিপক্ষে ২ ম্যাচ হলেও এই সিরিজ থেকে অনেক ইতিবাচক প্রাপ্তি আছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে জয়ে ফেরার সুযোগ এবং বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি।

মাত্র কিছুদিন আগেই আরব আমিরাতে গিয়ে এশিয়া কাপ টি২০ আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায় বাংলাদেশ। অথচ এই মরুর দেশে সফরকারী বাংলাদেশ দল ব্যাপকহারে সমর্থন পেয়েছে। ভক্ত-সমর্থকরা বিমানবন্দর থেকে অভিনন্দন জানিয়ে অনুশীলনের সময়ও মাঠে ভিড় করেছেন। দুই ম্যাচেই বিপুল পরিমাণ দর্শক উপস্থিতি দেখা গেছে। কিন্তু দুই ম্যাচেই বাংলাদেশ হেরে যাওয়াতে তারা ভগ্ন হৃদয়ে অনেকেই আক্ষেপের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, আর খেলা দেখবেন না। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতেও দুবাইয়ে পৌঁছার পর ভক্ত-সমর্থকদের ভিড় ছিল বিমানবন্দরে। বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানাতে এসেছিলেন ভক্তরা। অর্থাৎ এবার আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টি২০ সিরিজেও অকুণ্ঠ সমর্থন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। হয়তো স্বাগতিকদের চেয়েও ম্যাচের দিন মাঠে বাংলাদেশের সমর্থকই বেশি থাকবেন- এমন সম্ভাবনাও আছে। সোহানরাও এই দুই ম্যাচে জিততে উন্মুখ হয়েই মাঠে নামবেন। কারণ দেশ ছাড়ার আগেও সোহান জানিয়েছেন, একমাত্র জয়ই পারে দলের চেহারা বদলে দিতে। টানা হারের বৃত্তে বন্দী হয়ে টি২০ দল হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থা বিপর্যস্ত। সেটাই বদলে যাওয়ার ব্যাপারে বলেছেন সোহান। গত মাসে জিম্বাবুইয়ে সফরে প্রথমবার টি২০ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার পর ইনজুরিতে ছিটকে যান তিনি। ১টি করে জয়-পরাজয় দেখেন।  
এবার আরব আমিরাতের বিপক্ষে শতভাগ জয় পাওয়ার আশা সোহানের। তখনও তিনি সিনিয়র কাউকে পাননি, এবারও পাচ্ছেন না। মুশফিকুর রহিম অবসরে গেছেন টি২০ থেকে আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বাদ পড়েছেন। তারা জিম্বাবুইয়ে সফরে ছিলেন বিশ্রামে। সাকিব তখনও ছিলেন ছুটিতে, এবারও আছেন। তাই আবার পরীক্ষা সোহানের অধিনায়কত্বের। সেটি অবশ্য বাংলাদেশ দলের জন্যই বেশ ইতিবাচক ব্যাপার। কারণ ৩৫ বছর বয়সী সাকিব এখন অধিনায়ক হলেও কতদিন তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। সহঅধিনায়ক হিসেবে সোহান এখন নিয়মিতভাবে মাঝে মাঝে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারলে তার অধিনায়কত্বে একটি দল ভালভাবে গুছিয়ে উঠবে এবং তারও এই দায়িত্বে অভ্যস্ততা তৈরি হবে। এখন দুর্বলতর আরব আমিরাতের মুখোমুখি হলেও জয় পাওয়া, সোহানের নেতৃত্বের অভ্যাস তৈরি হওয়া, সিনিয়রদের পরিবর্তে দল গুছিয়ে ওঠা অনেক বড় কিছু ইতিবাচক দিক। এছাড়া টানা ব্যর্থতার পর দলের মধ্যে উজ্জীবিত মনোভাব ফিরে আসা, আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা, ব্যাটার-বোলারদের ছন্দ ফিরে পাওয়ার দারুণ সুযোগ।