ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

কোচ সাম্পাওলির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে ধোঁকা দেয়ার অভিযোগ

রাশিয়া বিশ্বকাপেই ‘হেক্সা’ জিতবে ব্রাজিল!

প্রকাশিত: ০৫:৩৪, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রাশিয়া বিশ্বকাপেই ‘হেক্সা’ জিতবে ব্রাজিল!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ছন্দময় এবং শৈল্পিক ফুটবলের পূজারী বলা হয় ব্রাজিলকে। এই দেশের ফুটবলারদের নয়ন জুড়ানো ফুটবল দেখেই অন্যরা তাদের অনুকরণ করতে থাকে। যুগে যুগে ব্রাজিলের অসম্ভব সব প্রতিভাবান ফুটবলারদের ক্যারিশমা বিশ্ব অবাক চোখে প্রত্যক্ষ করেছে। পেলে, গ্যারিঞ্জা, ভাঁভা, পেরেইরা, রোমারিও, বেবেতো, রোনাল্ডো, রোনাল্ডোনিহো, কাকা, রবিনহোর মতো ফুটবলার এসেছে দেশটিতে যুগে যুগে। এসব তারকাদের উদ্ভাসিত নৈপুণ্যে বরাবরই সাফল্য দেখিয়ে এসেছে ব্রাজিল। দেশটির সাফল্যে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, ব্রাজিল এবং ফুটবল একে অপরের পরিপূরক হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সাফল্যের পাশাপাশি বিশ্বের সেরা আয়োজন বিশ্বকাপেও সেরা দলের তকমা ব্রাজিলের। কেননা রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ী তারা। সাফল্যের পরিসংখ্যানে এমন অবস্থা এখন ব্রাজিল মানেই সেরা হওয়া। ‘দ্বিতীয়’ হওয়াটাকেও দেশটি ব্যর্থতা হিসেবে মনে করে। ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ দুইযুগ পর ১৯৯৪ সালে আবারও বিশ্বকাপ জেতে জাগো বনিতোরা। আধুনিক যুগে এসে এ সময় থেকেই মূলত দেশটি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত টানা তিন বিশ্বকাপে ১২ বছর বিস্ময়কর সাফল্য দেখায় ব্রাজিলিয়ানরা। এ সময়ের তিনটি বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই ফাইনালে খেলে ব্রাজিল এবং দু’টিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। এমন আকাশচুম্বী সাফল্যের পর ব্রাজিল দল যেন সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। এ কারণেই ২০০৬ বিশ্বকাপে ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে জার্মানি পাড়ি জমায় লুই ফিলিপ সোলারির দল। এ সময় রোনাল্ডিনহোরা এতটাই ফর্মের তুঙ্গে অবস্থান করছিলেন যে বিশ্বকাপ জয় করা নিয়ে কোন সংশয় ছিল না। কিন্তু চূড়ান্ত লড়াইয়ে খেই হারিয়ে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। এরপর ২০১০ ও ২০১৪ সালে নিজ দেশেও ব্যর্থ হয় সেলেসাওরা। টানা তিন বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়াতে চায় পেলের দেশ। এ লক্ষ্যে দুর্দান্ত ছন্দে আছে ব্রাজিল। ইতোমধ্যে সবার আগে মূলপর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে কোচ টিটের দল। দারুণ একটি দল পেয়েছেন তিনি। নেইমারকে সামনে রেখে ১৮/২০ জন একই মানের ফুটবলার পেয়েছেন ব্রাজিল কোচ। তাদের মধ্যে দারুণ সমন্বয়ও গড়ে উঠেছে। তাইতো আগামী বছর ঐতিহাসিক ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জিততে চায় ফুটবলপাগল দেশটি। দেশটির তারকা ডিফেন্ডার মার্সেলোও একই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মার্সেলোর পথচলা খুব একটা মসৃণ নয়, জাতীয় দলে বেশ কয়েকবার উপেক্ষিত হয়েছেন। তবে দারুণ ফর্মে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার রাশিয়া বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল বিশ্বে দেশকে শীর্ষে ফেরানোর স্বপ্ন বুনছেন। সাবেক কোচ কার্লোস দুঙ্গার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গত বছর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন মার্সেলো। খেলতে পারেননি কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই আসরে গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে ব্রাজিল। টানা ব্যর্থতার দায়ে চাকরি হারান দুঙ্গা, দায়িত্ব নেন টিটে। তার অধীনে মার্সেলোও ফিরে পান জায়গা, মাঝে দেশকে নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। নতুন কোচের অধীনে স্বরূপে ফেরা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বাছাইপর্ব পেরিয়ে প্রথম দল হিসেবে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সাক্ষাতকারে মার্সেলো বলেন, আমার শেষ একটি মিশন আছে। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল স্বমহিমায় ফিরতে যাচ্ছে। এটা লিখে রাখুন। আমি আপনাকে বলতে পারি, টিটে অসাধারণ একজন ব্যক্তি। তিনি দায়িত্ব নেয়ার সময় আমাকে ডেকে বলেছিলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না যে, আমি তোমাকে ডাকব কিন্তু যদি ডাকি তুমি কি জাতীয় দলের হয়ে খেলতে ইচ্ছুক?’ আমি বলি, প্রফেসর আপনি যে আমাকে ডাকছেন আমার জন্য এটাই অনেক আবেগের বিষয়।’ ‘ওই ফোন কল আমার জন্য সবকিছু ছিল। এই প্রথম আমি জাতীয় দলের কোচের একটি ফোন পেয়েছিলাম। আমি ১১ বছর ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলছি। আমি টিটের জন্য খুনও করতে পারি। ছোট্ট একটি সোনার ট্রফি আমার দাদার কেবিনেটে রাখতে আমি যতখানি পারি তার সবটুকু করব।’ এদিকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ভাগ্য ঝুলছে সুতার ওপর। হিসাব-নিকাশের বালাই না রেখে রাশিয়ার টিকেট কাটতে চাইলে জিততে হবে বাছাইপর্বের শেষ দুই ম্যাচেই। এমন পরিস্থিতিতে দলের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন অনেকেই। তবে মেসি-ডি মারিয়ার চেয়েও বেশিরভাগের ক্ষোভ কোচ জর্জ সাম্পাওলির ওপর। সাম্পাওলি নাকি আর্জেন্টাইনদের ধোঁকা দিচ্ছেন! এমন দাবি তুলেছেন ক্লডিও বর্গি। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য বর্গির দাবি, সাম্পাওলি ভাল কোচ হতে পারেন, কিন্তু ভাল মানুষ নন। এডগার্ডো বাউজার অধীনে ব্যর্থ হওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলের ভার তুলে দেয়া হয়েছে সাম্পাওলির কাঁধে। সেভিয়াতে লোভনীয় বেতন উপেক্ষা করে নিজে ক্ষতিপূরণ দিয়ে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নিয়েছেন সাম্পাওলি। কারণ তাঁর বহুদিনের স্বপ্ন আর্জেন্টিনার কোচ হওয়া। এমন আবেগই তো দেখতে চান আর্জেন্টিনার মানুষ। কিন্তু বর্গির দাবি, এসব কেবলই ছল না। তিনি বলেন, এদেশে অনেকেই অনেক কিছু বিক্রি করে, সেও আমাদের ধোঁকা দিচ্ছে। সে তিনটি ড্রোন ও চারটা ক্যামেরা বসিয়ে অনেককেই মুগ্ধ করেছে, কিন্তু এটাই আমাকে ভাবিয়েছে। সে ভাল কোচ কিন্তু মানুষ হিসেবে আমি তাকে পছন্দ করি না।