ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

ডাক্তারদের ফি ও অনৈতিক বাণিজ্য

-

প্রকাশিত: ২০:২৯, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ডাক্তারদের ফি ও অনৈতিক বাণিজ্য

সম্পাদকীয়

রবিবার সংশ্লিষ্ট সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন যে, বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের ফি বেঁধে দেওয়ার জন্য শীঘ্রই একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই উদ্যোগ সফল হলে রোগীদের উপকার হবে, সন্দেহ নেই। অন্তত ফি নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটবে। কিন্তু এমন উদ্যোগের কথা সোয়া দু’বছর আগেও একবার শোনা গিয়েছিল।

২০২০ সালের নভেম্বরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকসমূহের সেবা বিষয়ে পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন,  বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ইচ্ছামতো ফি আদায় বন্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। সেবামূল্য বেঁধে হাসপাতালে চার্ট টানিয়ে দেওয়া হবে। যাহোক, দেরিতে হলেও যদি কাজ হয় তবে সেটাও স্বস্তিকর।

বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বাংলাদেশে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ছয় হাজার চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। এরপরও প্রতিবছর অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ বিদেশে চিকিৎসা নেন। এতে দ্বিমত পোষণের কোনো অবকাশ নেই যে, ডাক্তারদের ফি ও রোগীদের সময় দেওয়ার বিষয়টি একটি নিয়মের মধ্যে থাকাটাই সমীচীন। যদিও একটা নিয়ম বহাল রয়েছে। একজন অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক এবং মেডিক্যাল অফিসার যথাক্রমে ৮০০, ৭০০, ৫০০ ও ৩০০ টাকা ফি নেওয়ার কথা। সেটা কি ডাক্তাররা মানছেন? উত্তর নেতিবাচক।

বাস্তবতা হলো চাহিদা অনুযায়ী একজন ডাক্তার তার ফি নিজেই নির্ধারণ করছেন। কিংবা তিনি যে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে রোগী দেখছেন তারাই বিষয়টি ঠিক করে দিচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে আশাবাদ ব্যক্ত করে একবার বলেছিলেন যে, ‘আমরা এই মুহূর্তে সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে কাজ করছি। সেখানে সেবা পেলে প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়া কমবে।’ কথা ও কাজে যেমন পার্থক্য থাকে, তেমনি স্বপ্ন ও বাস্তবতার মধ্যেও মেরুদূর ব্যবধান। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে দেশের মানুষ সম্যক অবহিত রয়েছেন।

তারপরও আশার বাণী মন্দ নয়। পহেলা মার্চ থেকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা ডিউটি শেষে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার কথা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বাইরে যত ফি নেন, নিশ্চয়ই নিজের প্রতিষ্ঠানে প্র্যাকটিস করার সময় খরচ কমাবেন।’ এই বক্তব্য থেকে অবশ্য পরিষ্কার নয় যে, বেসরকারি হাসপাতালের মতো সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদেরও ফি বেঁধে দেওয়া হবে কিনা।
ডাক্তারদের ফি নিয়ে আলোচনা সরগরম রাখলে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে যারা মহাবাণিজ্য করেন, তাদের অনেক অনৈতিক বিষয়ই আড়ালে চলে যায়। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীদের একগাদা প্যাথলজি টেস্ট করানোর ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার জন্য ডাক্তারদের অনুপ্রাণিত করা হয়। বলা যায় এক অর্থে ডাক্তাররাও ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালের অমানবিক বাণিজ্যমুখিতার অংশ হয়ে পড়েছেন। এদিকটায় সরকারের কঠোর নজরদারি চালু হলে রোগীরাই উপকৃত হবেন। অহেতুক অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয়ভার থেকে তারা মুক্তি পাবেন। এছাড়াও ডাক্তারদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে রোগীদের আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তারা যথাযথ সময় দেবেন।

×