ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

ঝড়ো সেঞ্চুরিতে এভিনের ফেরা

প্রকাশিত: ১২:০০, ২৯ জানুয়ারি ২০১৯

ঝড়ো সেঞ্চুরিতে এভিনের ফেরা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ২০১৫ সালে প্রথমবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি২০ খেলতে এসেছিলেন এভিন লুইস। তরুণ এ বাঁহাতি ওপেনারকে তখনও কেউ সেভাবে চিনতেন না। কিন্তু সেই লুইসই বাজিমাত করেছিলেন। সেবারের তৃতীয় আসরে একমাত্র সেঞ্চুরিটি হাঁকিয়েছিলেন এ বাঁহাতি ওপেনার বরিশাল বুলসের হয়ে খেলে। এবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে তেমন সুবিধা করতে পারছিলেন না। ৪ ম্যাচে চিরচেনা লুইসকে দেখা যায়নি। এরপর ইনজুরির কারণে ৪ ম্যাচ খেলা হয়নি। অবশেষে সোমবার তিনি একাদশে ফিরেই হাঁকালেন আরেকটি বিপিএল সেঞ্চুরি। টি২০ ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিটি হাঁকিয়ে তিনি ৪৯ বলে ৫ চার, ১০ ছক্কায় ১০৯ রানে অপরাজিত থেকেছেন। তার এমন টর্নেডো ইনিংসের কারণেই বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবার কুমিল্লা দুই শতাধিক রান পেরিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ পায়। ২৩ বছর বয়সে বিপিএল খেলতে এসেই ঝড়ো সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সবার নজর কাড়েন লুইস। ওই বছর বিপিএলে দারুণ নৈপুণ্যের কারণে তিন মাস পরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে লুইসের। তারপর থেকেই ক্যারিবীয় জার্সিতে ওয়ানডে ও টি২০ ম্যাচগুলোয় যাওয়া-আসার মধ্যেই আছেন দারুণ বিধ্বংসী এ ওপেনার। ক্রিস গেইলকে আইডল মনে করা লুইস বিভিন্ন সময়েই দেখিয়েছেন তার ব্যাটিং তা-বের নমুনা। আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচেই করেছেন দুটি সেঞ্চুরি। লুইস থেমে থাকেননি। ঝড়ের গতিতে এগিয়ে চলেছেন বর্তমানে ২৭ বছর বয়সী লুইস। তবে এবার বিপিএলে তেমন সুবিধা করতে পারছিলেন না। আগের চার ম্যাচে করেছিলেন- ৫, ৮, ২৮ ও ৩৮*। চিরচেনা লুইসকে যেন চেনাই যাচ্ছিল না। কুমিল্লাও তাদের বিশ্বাস ও আস্থার সঠিক মূল্যটা পাচ্ছিল না। এরপর ইনজুরিতে পড়েন লুইস। চার ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। ততদিনে কুমিল্লা দারুণ সময়ে ফিরেছে। আর লুইসের পছন্দের মাঠ সাগরিকাতে ম্যাচগুলো এসেছে। এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই তিনি বিপিএলের আগের সেঞ্চুরিটি করেছিলেন। এবারও সেখানেই নামলেন সোমবার আসরের দুর্বলতম দল খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে। আর ঝলসে উঠলেন। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনজুরি থেকে ফেরা লুইস দারুণ শুরু এনে দেন কুমিল্লাকে। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৭ রান তুলে ফেলে তারা। তবে লুইসের চেয়ে অনেকটাই ধীর ছিলেন তামিম। অবশ্য তখনও লুইসের ঝড়টা জোরালো হয়নি তেমন। অষ্টম ওভারে খুলনার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বোলিংয়ে এসে ব্রেক থ্রু দেন। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে ২৯ বলে ৩ চার, ১ ছয়ে ২৫ রান করা তামিমকে এবং পরের বলে এনামুল হক বিজয়কে (০) সাজঘরে ফেরান তিনি। প্রতিপক্ষের জোড়া আঘাতে কিছুটা ধীর হয়ে যায় কুমিল্লার রান তোলার গতি। ১১ ওভারে রান ওঠে ২ উইকেটে ৮৩। লুইসের সঙ্গে অধিনায়ক ইমরুল কায়েস বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ব্যাট চালিয়ে যাচ্ছিলেন। রিয়াদের চতুর্থ এবং ইনিংসের ১২তম ওভারে এ দু’জন ব্যাট হাতে ঝলসে ওঠেন। ওই ওভারে ১৭ রান তুলে নিয়ে কুমিল্লার দলীয় সংগ্রহ ১০০তে নিয়ে যান তারা। এরপর আর থামানো যায়নি ঝড়। লুইস-ইমরুল ব্যাট হাতে তা-ব চালাতে থাকেন। ডেভিড উইজের ১৩তম ওভারেও ১৭ রান তুলে নেন তারা। লুইস ৩১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ততক্ষণে মাত্র দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। কিন্তু এরপরই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। চলতি বিপিএলে প্রথমবার নামা ডানহাতি পেসার সাদ্দাম হোসেনের ওপর ১৪তম ওভারে টর্নেডো বইয়ে দেন লুইস। চারটি ছক্কাসহ তুলে নেন ২৮ রান। টানা এই তিনটি ওভারে ৬২ রান তুলে নেয়াতেই বিশাল সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায় কুমিল্লা। আর লুইসও এগিয়ে যান সেঞ্চুরির দিকে। ১৫তম ওভারে ইমরুলকে তুলে নেন খুলনার পেসার শরীফুল ইসলাম। ফলে মাত্র ৪২ বলে ওঠা ৯৭ রানের ঝড়ো তৃতীয় উইকেট জুটির সমাপ্তি ঘটে। ইমরুল ২১ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৩৯ রান করেছিলেন। এরপর ১৬তম ওভারে কার্লোস ব্রেথওয়েটের বলে থিসারা পেরেরা (৪ বলে ১১) ও শহীদ আফ্রিদি (২ বলে ১) ব্যর্থ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে লুইসের বিধ্বংসী মনোভাব কমেনি এতে। তিনি ব্যাট চালিয়ে গেছেন ঝড়ের বেগে। তার সঙ্গে যোগ দিয়ে শামসুর রহমানও ঝড় তোলেন। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে সাদ্দামকে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে শতক পূর্ণ করেন লুইস। ফিফটি করেছিলেন ৩১ বলে, শতক পেতে খেলেছেন ৪৭ বল। অর্থাৎ পরবর্তী ৫০ রান পেয়েছেন লুইস মাত্র ১৬ বলে, হাঁকিয়েছেন আরও ৮ ছক্কা। এর আগে লুইস ২০১৫ সালের তৃতীয় বিপিএল আসরে এই ভেন্যুতেই বরিশাল বুলসের হয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ১ ডিসেম্বরে ৬৫ বলে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। সেবারের ইনিংসে ছিল ৭ চার, ৬ ছক্কা। এদিন আরও ভয়ানক হয়ে ওঠা লুইস শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪৯ বলে ৫ চার, ১০ ছক্কায় ১০৯ রানে। বিপিএলে একাধিক সেঞ্চুরি শুধু ছিল গেইলের। তিনি ৫ শতক হাঁকিয়েছেন। আর লুইসের হলো ২টি।