ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

থ্রিডি প্রিন্টারেই কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ!

প্রকাশিত: ০৭:১০, ২৭ এপ্রিল ২০১৮

থ্রিডি প্রিন্টারেই কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ!

শরীরের কোন অঙ্গ বিকল হলে অনেক সময়ে দাতার খোঁজ পড়ে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় যোগান বড় কম। এবার থ্রিডি প্রিন্টারে কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ চলছে। জার্মানির এক স্টার্টআপ কোম্পানি সেই স্বপ্ন দেখছে। টেস্টটিউবে একটি বিন্দু আস্ত একটা যকৃত হয়ে উঠবে, এমনটাই হলো লক্ষ্য। লুৎস ক্লকে এই একটি লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছেন। একটি কোম্পানি খুলে তিনি কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি করতে চান। এভাবে তিনি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বাজারে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করতে চান। কিডনি ও যকৃতের মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিপুল চাহিদা রয়েছে, অথচ যথেষ্ট সংখ্যক দাতা নেই। এই পরিস্থিতি বদলাতে কী করতে হবে? লুৎস ক্লকে বলেন, ‘রোগী যেন তার নিজস্ব ট্রান্সপ্লান্ট পান। তিনি ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে গেলে তাঁর কোষ সংগ্রহ করে ল্যাবে তার নকল করে অসংখ্য কোষ তৈরি করা হবে। সেই কোষের খাঁচার মধ্যে নতুন অঙ্গ তৈরি হবে।’ নিজের তৈরি এই অরগ্যানিক-থ্রিডি প্রিন্টারে সেটা সম্ভব হবে। ড্রপারের মধ্যে কোষ ও অরগ্যানিক কালির মিশ্রণ ঘটে, যা আসলে এক ধরনের আঠা। জার্মানিতে অঙ্গের টিস্যু প্রিন্ট করার ক্ষেত্রে যারা সাফল্য পেয়েছে, এই টিম তাদের অন্যতম। লুৎস ক্লকে বলেন, ‘এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি আনাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এই প্রথম আমরা ফিজিওলজিকাল মডেল প্রিন্ট করতে পারছি। সেগুলি মানুষের অঙ্গের কাজ নকল করতে পারে।’ এই যকৃত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কৃত্রিম এই যকৃতের টিস্যুর নাম রাখা হয়েছে ‘লোবুলাস’। সেলব্রিক্স কোম্পানির টোবিয়াস গ্রিক্স বলেন, ‘‘এই একটি ‘লোবুলাস’ যকৃতের সব কাজ করতে পারে। বাস্তবে মানুষের শরীরে সেই যকৃত কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে, নানা পদার্থ দিয়ে আমি সেটি পরীক্ষা করে যাচাই করে নিতে পারি।” বায়োকেমিস্ট হিসেবে লুৎস ক্লকে বলেন, ‘ছোট এই মডেলগুলি বেশ কার্যকর ও প্রয়োগের যোগ্য হলেও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে আমরা এমন অঙ্গ তৈরি করতে পারব। বিনিয়োগকারী হিসেবে রাইনার ক্রিস্টিনে মনে করেন, এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রে বাইরের রূপ মূল বিষয় নয়, তার ভিতরটা অত্যন্ত জটিল। সে কারণে এমন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রিন্টিং-এর পর্যায়ে পৌঁছানো বিশাল এক চ্যালেঞ্জ।” এখনও প্রিন্টারে সম্পূর্ণ পরিণত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তবে কৃত্রিম ক্যানসার টিউমার এখনই হাসপাতালে বিক্রি করা হচ্ছে। আনেটে ক্যুংকেলে শিশু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ। সেলব্রিক্স কোম্পানির এই সৃষ্টির সাহায্যে তিনি ক্যানসার গবেষণার উন্নতি করতে পারছেন। ক্যানসার গবেষক আনেটে ক্যুংকেলে বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এমন এক থ্রিডি টিউমার মডেল সৃষ্টি করছি, যার সাহায্যে চিকিৎসার আগেই আমরা মূল্যবান তথ্য পাচ্ছি। যেমন সেই থ্রিডি কাঠামোয় প্রবেশ করতে পারে, এমন ইমিউন সেল চিহ্নিত করছি। কোন ইমিউন সেল হাসাপাতালে চিকিৎসার কাজে লাগানো যায়, এই মডেলের মাধ্যমে পাওয়া সেই জ্ঞানের ভিত্তিতে আমরা তা স্থির করত পারব। সূত্র : ডয়েচ ভেলে