ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

শাবাশ মশা!

প্রকাশিত: ০৩:৪৩, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

শাবাশ মশা!

মশা মারতে কামান দাগার কথা বহুল প্রচলিত। কিন্তু কামানের গোলার গতিতে ছুটে চলার ক্ষমতা রাখে যে আকাশযান তাকে যদি কুপোকাত করে মশা তাহলে! ঘটনাটি কিছুটা সেরকমই বটে। উড্ডয়ন-উন্মুখ বিমানের গতি থামিয়ে তাকে ‘ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়নে’ বাধ্য করেছে মশককুল। আর সেটা আমাদের দেশের প্রধান বিমানবন্দরেই। সম্ভবত এটি একটি বিশ্বরেকর্ড। এমন ঘটনার কথা এর আগে কেউ শুনেছে বলে জানা যায় না। দীর্ঘদিন পাখির আক্রমণ থেকে মোটামুটি নিরাপদে ছিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। তাতে পাইলটরা কিছুদিন শান্তিতে থাকলেও এবার বেঁকে বসেছে মশা। পাখির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মশারাও যেন একযোগে আক্রমণে নেমেছে। যে কারণে বৃহস্পতিবার রাতে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের শিকার হয়। মাঝরাতে ওই ফ্লাইটে অসংখ্য মশা ঢুকে পড়ায় যাত্রীরা চেঁচামেচি ও হট্টগোল শুরু করে দেন। মশার উৎপাতে রাত দেড়টায় চলন্ত ফ্লাইটটিকে রানওয়ের মুখে থামিয়ে দিতে বাধ্য হন পাইলট। পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা চলে মশক নিধন অভিযান। এ সময় যাত্রীদের সবাইকে বিমান থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। বিমানবন্দরের চারদিকে আবাসিক এলাকা। সঙ্গে রয়েছে দু’পাশের জঙ্গল ও জলাশয়, যা মশার নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র। এ বিশাল ও উন্মুক্ত এলাকার মশা নিধন করা খুবই কঠিন কাজ। তারপরও এ বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আপাত দৃষ্টিতে হাসির উদ্রেককারী ঘটনা মনে হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে করুণ রস ও নিদারুণ বিরক্তি। মশা কিনা করতে পারে! ক্ষুদ্র প্রাণী সৃষ্টির সেরা জীবের প্রাণ ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলতে পারে। গত বর্ষা মৌসুমের কথা কারও ভোলার তো নয়, বিশেষ করে ঢাকাবাসীর হাড়ে হাড়ে জমা রয়েছে সেই দুঃসহ স্মৃতি। এর আগে ডেঙ্গু রোগের কারণে ভয়ঙ্কর জীব হয়ে উঠেছিল মশা। গত বছর হয়ে উঠল চিকুনগুনিয়া রোগের শক্তিধর বাহক। ঢাকার প্রতিটি পরিবার না হলেও প্রতি তিনটি পরিবারের মধ্যে কেউ না কেউ ওই অবাক করা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। আর পরিবারের একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া মানে পরিবারের অন্য কারও একই রোগে সংক্রমিত হওয়ার মহা ঝুঁকি তৈরি হয়। অবাক করা ব্যাধি বলার কারণ হলোÑ এতে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহের প্রতিটি অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা তৈরি হয়, সে সোজা হয়ে হাঁটতে পারে না। সবচেয়ে বড় কথা এই রোগ ও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর অল্প কয়েক দিনে ভাল হয়ে গেলেও তিন থেকে ছয় মাস, অনেক সময় পুরো এক বছর রোগী দেহের ব্যথা-বেদনায় ভুগে থাকে। যা হোক, ভাগ্যিস মশা বিমানকে ‘ভূপতিত’ করে রেখেছিল অনেকটা সময়। আর সেই সুবাদে সংবাদটি বিশেষ গুরুত্বসহকারে পরিবেশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। এতে একটা লাভ হতে পারে বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। মশক নিধন যে সংস্থাটির দায়িত্ব ওই ঘটনার পর তারা নড়েচড়ে বসতে পারে। এবার শুরু হোক মশক নিধন। শুধু বিমানবন্দর এলাকার আশপাশে নয়, গোটা রাজধানীতেই। আগেভাগে ডেংগু ও চিকুনগুনিয়ার প্রতিরোধ কার্যক্রমে গতি আসুক। শাবাশ মশা, তোমরা আক্রমণ না শানালে সিটি কর্পোরেশনের কর্তাব্যক্তিদের ঘুম ভাঙ্গার যে সম্ভাবনাই ছিল না।