ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩০

ডলার কারসাজি

প্রকাশিত: ২০:৩৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ডলার কারসাজি

.

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণার চেয়ে বেশি দামে আমদানিকারকের কাছে ডলার বিক্রি করায় বেসরকারি খাতের ১০টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে এসব ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে জরিমানা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পদক্ষেপ গ্রহণের পর ডলার নিয়ে কারসাজি রোধে এসব ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের হুঁশিয়ারি দিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো রকম নিয়ম ভঙ্গ করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১০৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হবে, এমনটাই বলেছেন গভর্নর। আমাদের প্রত্যাশা গভর্নর তার সিদ্ধান্তে অটল থেকে ডলার কারসাজি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

দেশবাসীর স্মরণে রয়েছে, গত বছর কেনাবেচায় মাত্রাতিরিক্ত   মুনাফা করে ডলারের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলার অভিযোগ উঠেছিল দেশী-বিদেশী ছয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে। এগুলোর ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে ২৫ টাকা বেশিতে অর্থাৎ ১২০ টাকায় খোলাবাজারে কিনতে হচ্ছিল ডলার। দেশের ইতিহাসে সেটি ছিল নজিরবিহীন। শুধু ব্যাংক নয়, খোলাবাজারে ডলারের অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানি এক্সচেঞ্জ হাউসের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছিল। অর্থাৎ ডলার বাজার নিয়ে যারাই নয়ছয় করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সরকার ডলার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সক্রিয় পদক্ষেপই গ্রহণ করেছিল। ডলারের ওপর চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধ, ২৭টি পণ্য আমদানিতে ব্যাংকঋণ বন্ধ এবং ব্যাংকগুলোর খরচ কমাতে গাড়ি কেনা বন্ধসহ নানা পদক্ষেপও নিয়েছে সরকার। দীর্ঘ সময় ধরে চলা করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ^ অর্থনীতি বদলে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করছে, নিত্যপণ্যের দাম চলে যাচ্ছে হাতের নাগালের বাইরে। হঠাৎ আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় টান পড়েছে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ফলে ডলারের বাজার কিছুকাল যাবতই অস্থির।

মার্কিন ডলার বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা, বাংলাদেশে এটি পাউন্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার রেকর্ডও সৃষ্টি করেছিল। ডলার বর্তমান বিশ্বের প্রধানরিজার্ভ মুদ্রা মোট আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রায় ৯০ শতাংশ মার্কিন ডলারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এক হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় দশমিক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের কাগুজে ধাতব মুদ্রা ছড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য মার্কিন ডলার প্রায় অপরিহার্য মুদ্রা। আমদানি ব্যয় মেটানো, দেশের আর্থিক বিপর্যয় মোকাবেলা, স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন রোধ, মুদ্রানীতি শক্তিশালীকরণ, বাজেট বাস্তবায়ন, বৃহৎ প্রকল্পে অর্থের জোগানসহ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করতে ধরনের রিজার্ভ হাতে রাখে যে কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আমরা আগেও বলেছি প্রবাসী আয়ের দেশমুখী অভিযাত্রা বেগবান করার লক্ষ্যে সুচিন্তিত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। ডলারের সংরক্ষণ সরবরাহ বাড়াতে সব দিকই খতিয়ে দেখার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে ডলার কারসাজি বন্ধ করতে হবে শক্ত হাতে।