ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

বাংলাদেশের অদম্য কাণ্ডারি

ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বাংলাদেশের অদম্য কাণ্ডারি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘শ্রেষ্ঠ নেতা সে-ই হয়, যার অধীনে কোনো কিছু অর্জিত হলে তার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষই ভাবে যে, তারা সবাই মিলে কাজটি করেছে।’- পদ্মা সেতু দিয়ে মানুষ যখন পদ্মা পাড়ি দেয়, তখন মানুষের মনে শেখ হাসিনা থাকেন সত্যি, তবে যিনি তাকে মানুষ হিসেবে পছন্দ করেন না, তিনিও মনে মনে তাকে ধন্যবাদ দিয়েই পার হন। সবার চোখেমুখে একটি আস্থার ভাব থাকে। এটা আমার সেতু। এটা আমাদের টাকায় বানানো সেতু। বাংলাদেশে এমন বহু বিচিত্র বিষয় আছে, যা নিয়ে এদেশের মানুষ গর্ব অনুভব করে। নিজের জিনিস বলে কেমন আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।

তারও মনে হয়, আমি পারি, আমি পারব, আমরা পরব। এই আত্মবিশ্বাসে আত্মবিশ্বাসী হতে শিখিয়েছেন শেখ হাসিনা। নেতাকে সব সময়ই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়। ভয় করলে চলে না। বহু দেশ, বহু দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব এমনকি বাংলাদেশেরও একদল মানুষ বিশ্বাস করতে চায়নি যে, নিজেদের টাকায় পদ্মা  সেতু করা সম্ভব। শেখ হাসিনা সেটি করে দেখিয়েছেন। এটি জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে রাখার স্মারক বিশ্বে।
স্বাধীন জাতি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারা, এটি সহজ বিষয় নয়। আমরা বহু বছর আগে থেকেই কমবেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছি। বিশেষ করে যখন আমরা বুঝলাম, আমরা আমাদের গর্ভধারিণী মাকে মা বলে ডাকতে পারব না। তখন আর পাশের বাসার হিন্দু মানুষটি হিন্দু থাকেনি। মুসলমান মুসলমান থাকেনি। আমরা এক হয়ে গেছি। আমরা বুঝতে পারলাম দ্বিজাতিতত্ত্বের মরণ ছোবল। দেশ ভাগের বহু আগে থেকেই আমাদের মধ্যে যে জাতিগত লড়াইয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল ইংরেজরা, তার রেশ তখনো শেষ হয়ে যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় আরও বেশি বুঝতে পারলাম যে, আমাদের এক হওয়া কতটা জরুরি। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যখন আলাদা করে হত্যা করা হচ্ছিল তখন। আর এই সময়টা শেষ হয় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে। 
১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এদেশের মানুষের আর নিজের বলে কিছু থাকেনি। তারা জিয়া-এরশাদের দেশের মানুষ বলে পরিচয় দিয়ে নিজেকে নিরাপদ ভেবেছে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অস্থির পরিবেশ কাটতে শুরু করে। মানুষের মনের জড়তা চলে যেতে শুরু করেছিল। না, এই দেশটা আমার। অথচ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কার্যকারণসূত্রে জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যাওয়া তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশেই আসতে দেওয়া হয়নি। সেই মানুষটিই আজকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির সমৃদ্ধির রূপকার। 
চারবারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন  নেসার জ্যেষ্ঠ সন্তান (৫ সন্তানের মধ্যে)। প্রকৃতপক্ষে প্রারম্ভিক পরিচয়ের জন্য আর কিছু জানার প্রয়োজন হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় ১৯৬৭ সালে এম এ ওয়াাজেদ মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ড. ওয়াজেদ মিয়া ৯ মে, ২০০৯ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের সংসারে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নামে দুই সন্তান রয়েছেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী গ্রেপ্তারের সময় তিনি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর রোডের বাসায় পিতার পাশেই ছিলেন। শেখ মুজিবের গ্রেপ্তারের পর তিনি মায়ের সঙ্গে ভাই-বোনদের নিয়ে বসবাস করতে থাকেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের হাল ধরেন ১৯৮১ সালে। মূলত ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বেঁচে যাওয়া দুই বোনের মধ্যে শেখ হাসিনা দলের হাল ধরেন এবং ১৯৮১ সালে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসেন। এখন পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্ব পলন করছেন। আসলে তিনি আওয়ামী লীগেরই হাল ধরতে চেয়েছেনÑ বিষয়টি এমন নয়, তিনি আসলে বাংলাদেশের হাল ধরতে চেয়েছেন। যে হাল ধরতে দেখেছিলেন নিজের ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি সে সুযোগ প্রথমবার পান ১৯৯৬ সালে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জেতার পর প্রকৃতপক্ষে তিনি বাংলাদেশের চেহারা বদলে দিতে সক্ষম হয়েছেন। এখন বাংলাদেশের যে প্রান্তেই মানুষ যান, সেই প্রান্তেই দেখে শেখ হাসিনার দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকা-। যেসব আগে ছিল না। ফলে বাপ-দাদার কাছে যে গরুর গাড়ির বরযাত্রার গল্প শুনে আমরা বড় হয়েছি, সেগুলোর জায়গা হয়েছে জাদুঘরে।
২০১৬ সালের ১৩ জুন মিসরের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্যারিশম্যাটিক লিডার আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, তাঁর প্রতি বাংলাদেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও আস্থা রয়েছে। ক্যারিশম্যাটিক শব্দটি বারবার তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে। শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত ও পরিচিত। ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ২০২০ সালে তাঁর অবস্থান ছিল ৩৯তম। তিনি বিশ্ব নারী নেত্রী পরিষদের একজন সদস্য, যা বর্তমান ও প্রাক্তন নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীদের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। ব্রিকস, জি-২০ সম্মেলন এর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশেও বিশ্বনেতাদের অনেকেই এসেছেন। এর মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ও রাশিয়ার প্রথম কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর উল্লেখযোগ্য। ভারতের প্রধানমন্ত্রী, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট, মোহাম্মদ বিন সালমান বা প্রিন্স সালমান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদাবান করে।

একজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরেকটি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ হবে– এটিই স্বাভাবিক। বিষয়টি কিন্তু মর্যাদার। প্রত্যেক নেতাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারা ও উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে, সেই প্রত্যাশাও করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাজারো প্রচেষ্টা, ত্যাগ তিতিক্ষার পর দেশের রাজনীতিতে একজন সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর ও সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু দেশের রতœ নয়, তিনি বিশ্বরতœ। তিনি বাঙালি জাতির চেতনার প্রতীক। আমাদের অহংকার। যার অপ্রতিরোধ্য পথ চলায় বাংলাদেশ আজ ছুটে চলছে উন্নয়নের মহাসড়কে। শেখ হাসিনা মানেই উন্নয়নের জয়জয়কার। বাংলাদেশের আস্থার প্রতীক। আমাদের সকলের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধী দলে অবস্থানকালে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন ও নেতৃত্বশূন্য করতে বেশ কয়েকবার মরণ আঘাত চালায় ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে শুধু তাঁকেই নয়, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল বিএনপি-জামায়াত। এরপর ২০০৮ সালে ফের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নেন।

ডিজিটাল বিপ্লব ঘটানোই সরকারের লক্ষ্য ছিল না, এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিই ছিল মূল লক্ষ্য। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত  করে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। সর্বশেষ, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ৭ জানুয়ারি ২০১৯ শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বর্তমানে এবার বাংলাদেশ মূলত স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। 
বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত। বহু কথিত তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পার্বত্য শান্তিচুক্তি, ভারতের সঙ্গে ছিটমহল সমস্যার সমাধান ও সমুদ্র বিজয় এসেছে শেখ হাসিনা সরকারের হাত ধরেই। বঙ্গবন্ধুকন্যা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না।’ ‘আশ্রয়ণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি ভূমিহীন-গৃহহীন ছিন্নমূল মানুষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের আওতায় এনেছেন। পদ্মা সেতুর সুফল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ পাচ্ছে। রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়েসহ আরও অনেক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। মেট্রোরেল ও এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ের সৃবিধা এখন পাচ্ছে ঢাকার মানুষ। দেশের আইটি খাতের নতুন সম্ভাবনা যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা তাঁর চতুর্থ মেয়াদও যে সফলতার সঙ্গে শেষ করবেন, তা হলফ করে বলা যায়। 
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে উদ্ভাসিত ও আলোকিত নাগরিক এবং সুশিক্ষিত ও আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন করেছে সরকার। উচ্চ শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে প্রতিটি জেলায়। ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হয়েছে সুুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে। বর্তমান হিসেবে শেখ হাসিনা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নারীনেত্রী। সামনে আরেকটি সংসদ নির্বাচন। বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চয়ই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা দেখতে চাইবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন, যার সংখ্যা অর্ধশতাধিক।
শেখ হাসিনা ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় ৭ম স্থানে ছিলেন। তার আগে এবং পশ্চাতে ছিলেন যথাক্রমে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যালেন জনসন সার্লেফ এবং আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জোহানা সিগার্ডার্ডটির। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউইয়র্ক টাইমস সাময়িকী বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নারী নেতৃত্বের ১২জনের নাম নির্বাচিত করে। ২০১০ সালে উক্ত সাময়িকীর অনলাইন জরিপে তিনি বিশ্বের সেরা দশ ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে ছিলেন ৬ষ্ঠ স্থানে। ঐ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানির সে সময়ের চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের পেছনেই ছিলেন এবং ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করেছিলেন।
শেখ হাসিনাকে মানুষ কতটা ভালবাসে তা বোঝা যায় মানুষের কর্মকাণ্ডে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কেউ বিরাট আকৃতির নৌকা বানিয়ে শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে নিয়ে আসে ধানমণ্ডি অথবা গণভবনে বা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে। কেউ তাঁর জন্য, তাঁর থাকার জন্য, তাঁকে একটি বাড়ি উপহার দেওয়ার জন্য নিজের সব জমানো টাকা খরচ করে। এটা তো জমানো টাকা নয়, জমানো ভালবাসা। কেউবা তাঁর নামেই জমি কিনে রেজিস্ট্রি করে রাখে।Ñআজ এই মহান মানুষটির জন্মদিন। শুভ জন্মদিন।

লেখক : অধ্যাপক, সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি);
পরিচালক, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) 

×