২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশ-ভারত জিততে মরিয়া দু’দলই


বাংলাদেশ-ভারত জিততে মরিয়া দু’দলই

মিথুন আশরাফ, ব্যাঙ্গালুরু থেকে ॥ একদল অনুশীলনই করল না। দলটি হচ্ছে- বাংলাদেশ। আরেকদলের ক্রিকেটাররা অনুশীলনে কী সিরিয়াস। দলটি হচ্ছে- ভারত। বোঝাই যাচ্ছে, বাংলাদেশকে কতটা আমলে নিয়েছে ভারত। আজ যে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের ম্যাচ রয়েছে। ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের এ ম্যাচটিতে ভারতকে জিততে হবে। না হলে যে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন এখানেই শেষ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের অবস্থা তাহলে কী? সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন তারা ছেড়েই দিয়েছে। তবে হাতে যে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ আছে। যে কোন একটি দলকে হারানোর টার্গেট আছে। সেই টার্গেট আজ ভারতের বিপক্ষেও আছে। যদি জয় মিলে যায়। তাহলে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণ না হলেও, অন্তত বিশ্বকাপে একটি জয়ত মিলবে। দলের এমন বেহাল দশায় সেটিই কম কিসের। দুই দলই সেই জয় পেতে মরিয়া হয়ে আছে।

বাংলাদেশ কী পারবে আজ ভারতকে হারিয়ে দিতে? ভারতই কী বাংলাদেশকে জিততে দেবে? এমন প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসছে। এ প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশ কিংবা ভারতের কোন ক্রিকেটারই ঠিকমতো দিতে পারলেন না। বাংলাদেশ দলের হয়ে স্টেডিয়ামে শুধু আসলেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে। আর ভারতের সব ক্রিকেটারই মাঠে উপস্থিত হলেন। অনুশীলন করলেন। শুরুটা করলেন ফুটবল খেলে। যেখানে তারকা ক্রিকেটারদের মধ্যে বিরাট কোহলি ও যুবরাজ সিং এক দলে থাকলেন। বাকি সব তারকা ক্রিকেটার থাকলেন আরেক দলে। যেন কোহলি ও যুবরাজকে একটি জুটি করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে যে এ জুটিই জয় এনে দিয়েছিল ভারতকে। বাংলাদেশের বিপক্ষেও সেই রকম ভাবনাই কী আছে ভারতের?

সংবাদ সম্মেলনে আসলে আশিষ নেহরা। তিনি বলে দিলেন, ‘বাংলাদেশ ভাল দল। সম্প্রতি অনেক ভাল খেলছে। এশিয়া কাপে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও ভাল ফল দেখিয়েছে। তাই তো ফাইনালে খেলেছে। দলটিকে সমীহ করতেই হবে। তবে আমরা এখন অন্য কোন কিছু নিয়ে ভাবছি না। আমাদের কাছে এখন প্রতি ম্যাচই হচ্ছে ‘নকআউট’। জিততেই হবে। সেমিফাইনালে জেতে হলে এর বিকল্পও নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষেও জেতা ছাড়া উপায় নেই।’

এখন পয়েন্ট তালিকাতে যে অবস্থা, তাতে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন শেষই বলা চলে। বাকি থাকা দুটি ম্যাচেও যদি জিতে বাংলাদেশ, তাহলেও যে সেমিফাইনাল খেলা হবে, তাও অনিশ্চিত। বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান তাই সেমিফাইনালের স্বপ্নে বসবাস করতে রাজি নন। তাই লক্ষ্য, ‘অংকের হিসেবে এখনও সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা আছে। তবে বাস্তবতা সবারই জানা আছে। স্বপ্ন যে সেমিফাইনাল খেলা ছিল, তাও ঠিক। কিন্তু এখনও আগের মতোই ম্যাচ বাই ম্যাচ টার্গেট নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। টি২০তে আসলে ম্যাচ বাই ম্যাচই হিসেব করতে হয়। ভারত অনেক শক্তিশালী দল। ব্যাটিংয়ে বিশ্বের সেরা দল তারা। সেই দলের সঙ্গে এখন ভাল ফল যদি বের করা যায়, সেটিই অনেক বড় প্রাপ্তি হবে।’ সেই প্রাপ্তিই কী অর্জন করতে পারবে বাংলাদেশ। সবার মনে শান্তি আসবে, এমন খেলা খেলতে পারলেও তো হয়। যেমনটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছে। সাকিব আজকের ম্যাচটি নিয়ে বলেছেন, ‘যার যার ব্যক্তিগত প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেইসব ভুলগুলো আমরা করেছি ওটাতো অবশ্যই ঠিক করার চেষ্টা করতে হবে। আমার কাছে মনে হয় এটাই একমাত্র উপায়, ম্যাচে ভাল খেলার। এটা ঠিক করতে পারলে আমার মনে হয় আমাদের আরও ভাল পারফর্মেন্স হওয়া সম্ভব।’ দলের অবস্থা এখন খুবই খারাপ। তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানিকে হারিয়ে বিপদে দল। এর মধ্যে তামিম ইকবাল পেটের পীড়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেননি। তাও দল যথেষ্ট ভাল খেলেছে। দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সাকিব সিনিয়র। আবার ব্যাঙ্গালুরু আইপিএলের সুবাদে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। সাকিব কী ক্রিকেটারদের কোনভাবে উৎসাহিত করেন? প্রশ্নটি সাকিবের কাছেও গেল। উত্তর মিলল, ‘এখানে সবাই ম্যাচুরড। এখানে উৎসাহীত করার কোন কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। সবচেয়ে বড় উৎসাহের জায়গা আপনি আপনার দেশের জন্য খেলছেন। এটাই তো বড় উৎসাহ। আপনার মাঠে নামা মানে দেশের জন্য কিছু একটা করার সুযোগ। একজন খেলোয়াড় সেভাবেই চেষ্টা করবে।’

ভারতকেও হারানো সম্ভব। যদি সবচেয়ে বড় ভুল শুধরানো যায়। সেটি কী? পাওয়ার প্লেতে বেশি রান করা। যেটিতে দুর্বল রয়ে গেছে বাংলাদেশ। সেটি ভালভাবেই মনে করিয়ে দিলেন সাকিব, ‘আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে ৬ ওভারের ব্যাটিংটা। এটা যদি উন্নতি করতে পারি। আমরা অনেক ভাল সাইড হবে কালকের (আজকের) ম্যাচে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমরা প্রথম ৬ ওভারে ৩০-৩১ রান যোগ করি। অন্যরা সেখানে ৫০-৬০ রান যোগ করে। এখানেই আসলে পার্থক্য হয়ে যায়।’

সেমিফাইনাল স্বপ্ন নিয়ে সাকিব বলেন, ‘গাণিতিকভাবে সম্ভব। আমরা সবাই জানি এখন বাস্তবতা কি। খুবই কঠিন। তার থেকে বড় কথা হচ্ছে, আমরা কালকের (আজকের) ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করছি। এরপরই আমরা আমাদের পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করব। হয়ত নির্দিষ্ট একটি টার্গেট দলগুলোর থাকেই। তবে আমার মনে হয় এই সব ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি দলই একটি করে ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করে। সবাই ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করে।’

অন্য দলগুলোর বিপক্ষেই আক্রমণাত্মক, আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। সেখানে ভারত প্রতিপক্ষ হলে যেন সেই আগ্রাসন বেশি করে ধরা পড়ে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই আগ্রাসনটাই যেন চোখে পড়েনি। সাকিব সেই আগ্রাসনের কথা বলতে গিয়ে জানান, ‘আবেগ খুব একটা প্রভাব ফেলে বলে মনে হয় না মাঠে। আমরা আগে থেকে অনেক আগ্রাসী। আমাদের খেলার ধরনটা পরিবর্তন হয়েছে। আগে থেকে অনেক ইতিবাচক চিন্তা করছি আমরা। আগ্রাসী খেলতেও পছন্দ করি। বিশেষ করে আমাদের কিছু তরুণ ক্রিকেটার আছে, ওরা শটস খেলতে পছন্দ করে, আক্রমণ করতে পছন্দ করে। বোলিংয়েও। সেইসব দিক থেকে আমাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ চেঞ্জ হয়েছে। এটা আমাদের ক্রিকেটর জন্যই অনেক ভাল। বেশিরভাগ ম্যাচেই হয়ে আসছে আমরা শুরুতে সাফল্য পাই। তখন বডি ল্যাঙ্গুয়েজটা ইতিবাচক থাকছে। গত ম্যাচে ৫-৬ ওভার আমরা উইকেট পাইনি। বডি ল্যাঙ্গুয়েজটা সবার একটু ভিন্ন হয়ে উঠেছিল।’ আজও কী সেই রকম ভিন্নতা মিলবে, না আগ্রাসন ভাব ক্রিকেটারদের মধ্যে দেখা যাবে? তা দেখা গেলেই ভাল। না হলে যে হারের আগেই হেরে যাবে বাংলাদেশ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: