ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

শারাপোভার অবসরে গ্ল্যামারহীন টেনিস

আয়ান আব্রাজ

প্রকাশিত: ০০:১৬, ১ মার্চ ২০২৩

শারাপোভার অবসরে গ্ল্যামারহীন টেনিস

বিশ্ব মাতানো রাশিয়ার জনপ্রিয় টেনিস তারকা মারিয়া শারাপোভা

যুগে যুগে অসংখ্য গ্ল্যামারগার্ল দেখেছেন বিশ্ব টেনিস দুনিয়ার ভক্ত-অনুরাগীরা। আনা কুর্নিকোভা, এলেনা দেমেন্তিয়েভা, ড্যানিয়েলা হান্তুচোভা, মারিয়া কিরিলেঙ্কো, আনা ইভানোভিচ, ক্যারোলিন ওজনিয়াকি, মারিয়া শারাপোভা তাদের মধ্যে অন্যতম। যারা প্রত্যেকেই টেনিসকে বিদায় বলে দিয়েছেন। তবে র‌্যাকেট তুলে রাখার পরও ভক্ত-অনুরাগীরা যার নিয়মিতই খোঁজ-খবর রাখেন তিনি হলেন মারিয়া শারাপোভা। কোর্টে দারুণ সফল এই রাশিয়ান টেনিসের সাবেক এই তারকা কোর্টের বাইরেও তার রূপে-গুণে মুগ্ধ-বিমোহিত করেছেন ভক্ত-অনুরাগীদের। 
মারিয়া শারাপোভার বর্তমান বয়স ৩৫ বছর। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ৩২ বছর বয়সেই টেনিস কোর্ট থেকে অবসরের ঘোষণাদেন পাঁচটি গ্র্যান্ডস্লামের মালিক। বিদায় বেলায় তার টেনিস ক্যারিয়ারকেই প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন মাশা। তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার গোটা যাত্রাপথে পেরোতে হয়েছে অসংখ্য উপত্যকা, নিতে হয়েচে বহু ঘুরপথ, কিন্তু শিখর থেকে যে দৃশ্য উপভোগ করেছি, তা অভূতপূর্ব। টেনিসই আমাকে বিশ্বদর্শন করিয়েছে। আমি যে কী দিয়ে তৈরি, তা বুঝিয়েছে টেনিসই।’

টেনিসকে বিদায়ের পর খুব বেশিদিন একা থাকেননি মারিয়া শারাপোভা। সে বছরের ডিসেম্বরেই ব্রিটিশ ব্যবসায়ী আলেকজান্ডার গিলকেসের সঙ্গে বাগদান সেরে ফেলেন তিনি। গত বছরের জুলাইয়ে মাতৃত্বের স্বাদও পেয়ে যান রাশিয়ান টেনিসের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। পুত্র সন্তানের মা হন তিনি। ছেলের নাম রাখেন থিয়োডর। তবে বিয়ের আগে নানান সময়ে প্রেমের গুঞ্জনও ছিল তার নিয়মিত সঙ্গী। এই তালিকায় সর্বশেষ ছিল বুলগেরিয়ার টেনিস তারকা গ্রিগর দিমিত্রোভের নামও।

কিন্তু শেষবেলায় আলেকজান্ডার গিলকেসের সঙ্গেই শুরু করেন জীবনের নতুন অধ্যায়। গত বছরের একটি জরিপের ভিত্তিতে জানা যায় মারিয়া শারাপোভার রয়েছে ২১০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি। মার্কিন মুলুকে রয়েছে তার দুটি বাড়ি। ক্যালিফোর্নিয়ায় (৪.১ মিলিয়ন ডলার) ও ফ্লোরিডায় (১.২ মিলিয়ন ডলার) তার বিলাসবহুল ভিলা রয়েছে। শারাপোভার গ্যারেজে পর্শে পানামেরা জিটিএস ও বক্সস্টার স্পাইডারের মতো বহুমূল্যের গাড়ি শোভা পায়।  
বিশ্ব টেনিসে তার শুরুটা হয়েছিল চমকপ্রদ। ২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বাজিমাত করেছিলেন তিনি। সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে উইম্বলডন খেতাব জিতে নিয়েছিলেন শারাপোভা। তার ঠিক দুই বছর পর ইউএস ওপেনেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও শেষ হাসি হাসেন মাশা। কিন্তু এমন দুর্দান্ত শুরুর পরেও পাঁচটির বেশি গ্র্যান্ডস্লাম জিততে পারেননি শারাপোভা। তার প্রধান কারণ ছিল সেরেনা উইলিয়ামসের দাপট।

মার্কিন টেনিস তারকার পাওয়ার টেনিসের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি রুশ সুন্দরী। কোর্টে যত বারই দুইজনের সাক্ষাৎ হয়েছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শেষ হাসি হেসেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। যে কারণে তার নামের পাশে যোগ করতে পারেননি পাঁচটির বেশি গ্র্যান্ডস্লাম। টেনিস কোর্টে ফ্ল্যাট গ্রাউন্ডস্ট্রোকের জন্য বিখ্যাত ছিলেন মারিয়া শারাপোভা। মডেল হিসেবেও খ্যাতির শীর্ষে ছিলেন তিনি। র‌্যাম্পে আগুন ধরাতেন এই রুশ সুন্দরী। কিন্তু টেনিসে সাফল্যের পাশাপাশি তার রয়েছে এক কলক্সিক্ষত অধ্যায়ও। ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে ডোপ নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছিল।

শেষ পর্যন্ত দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ১৫ মাসের জন্য নির্বাসিতও হয়েছিলেন শারাপোভা। নির্বাসন কাটিয়ে কোর্টেও ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু যখন কোর্টে ফিরলেন, তখন তার খেলায় আর আগের সেই ধার ছিল না। যে কারণে ৩২ বছর বয়সেই টেনিসকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলেন বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এই নাম্বার ওয়ান তারকা। শারাপোভা অবসর নেওয়ায় গ্ল্যামার হারায় টেনিসও! 
কেননা, তারপর তেমন কোন গ্ল্যামারগার্লকে দেখেনি বিশ্ব টেনিস। যদিওবা ইউজেনি বাউচার্ড, ডোমিনিকা সিবুলকোভা, বিয়াঙ্কা আন্দ্রেস্কু কিংবা এমা রাদুকানুর মতো তারুণ প্রতিভাবান সুন্দরীরা আশা জাগিয়েছিলেন দারুণভাবে। কিন্তু সেই আশা যেন সত্যি হয়ে ফুটেনি এখনো। ইউজেনি বাউচার্ড, ডোমিনিকা চিবুলকোভা মেজর কোনো শিরোপা না জিতলেও শুরুর দিকে টেনিস কোর্টে দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন বেশ ভালোভাবেই। সেইসঙ্গে তাদের রূপে-গুণে ছিল বাড়তি আবেদনও। কিন্তু খুব অল্প সময়ের ব্যবধানেই টেনিস থেকে হারিয়ে যান এই দুই তারকা।

অন্যদিকে, বিয়াঙ্কা আন্দ্রেস্কু আর এমা রাদুকানু উভয়েই পেয়েছেন গ্ল্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ। দুজনেই আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইউএস ওপেনে। তবে অভিষেক মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার পর অবশ্য আর কোনো আসরে সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি তারা। কিন্তু কানাডার আন্দ্রেস্কু আর গ্রেট ব্রিটেনের এমা রাদুকানু উভয় তারকাই টেনিস কোর্টে স্বরূপে ফেরার জন্য চেষ্টা করছেন। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে দাপটও দেখাতে পারেন বিশ্ব টেনিসে। কিন্তু শারাপোভার মতো কোর্টের পাশাপাশি কোর্টের বাইরেও যে গ্ল্যামার ছড়িয়েছেন তা কি পারবেন তারা? ভক্ত-অনুরাগীদের অপেক্ষা এখন সেটাই দেখার।

×