ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০২ অক্টোবর ২০২৩, ১৭ আশ্বিন ১৪৩০

বাংলাদেশী হতে চান দিয়াবাতে

রুমেল খান

প্রকাশিত: ২৩:৫৭, ৩১ মে ২০২৩

বাংলাদেশী হতে চান দিয়াবাতে

মোহামেডানের মালির ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতে

ফুটবলবিশ্বের অনেক দেশই নিজেদের জাতীয় দলকে শক্তিশালী করে সাফল্য কুড়িয়ে নিতে বিদেশী খেলোয়াড়দের নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে। ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, ইংল্যান্ড, স্পেনসহ বহু দেশই এটা করেছে ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়ম-কানুন মেনে। কিন্তু এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশ। যদিও জাতীয় দলের শক্তি বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ এ পথে হাঁটার চেষ্টা করে আসছে অনেক বছর ধরে। মাঝে অবশ্য বিকল্প একটি পন্থা অবলম্বনও করেছিল জাতীয় দলের সাবেক দুই ডাচ্ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ এবং রেনে কোস্টারের মাধ্যমে, সেই ২০১৩ সালে।

সেটি হলো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দক্ষ ও কুশলী ফুটবলার দলে নেয়া। সেজন্য ইন্টারনেটে এ জাতীয় বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয় বাফুফের তরফ থেকে। এর প্রেক্ষাপটে চার ফুটবলার যোগাযোগ করেন। এদের মধ্যে টিকে যান ডেনমার্কের জামাল ভুঁইয়া এবং ফিনল্যান্ডের তারিক কাজী। অনেক জটিলতার পর নাইজেরিয়ার এলিটা কিংসলে বাংলাদেশী নাগরিকত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলাতে সক্ষম হয় বাফুফে। তবে এলিটার বয়স হয়ে যাচ্ছে, জাতীয় দলের আক্রমণে দক্ষ আর কোন ফরোয়ার্ড নেই। কাজেই আরেকজন বিদেশীকে যদি বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে জাতীয় দলে খেলানো যায়, তাহলে নিশ্চয়ই মন্দ হয় না। 
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলছেন বেশ কজন বিদেশী ফুটবলার। এদের অনেকেই কয়েক মৌসুম ধরেই খেলছেন। তবে কেউই বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলার কথা বলেননি। কিন্তু একজন বলেছেন। তিনি সুলেমান দিয়াবাতে। মাত্র একদিন আগেই যিনি ফেডারেশন কাপের অবিস্মরণীয়-রোমাঞ্চকর ফাইনালে একাই হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের বিরুদ্ধে ফেডারেশন কাপে ১৪ বছর পরে এবং যেকোন পর্যায়ে ৯ বছর পর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে শিরোপা জেতাতে মুখ্য ভূমিকা পালন বরেন।

এই শিরোপা তিনি নিজের মা, পরিবার ও মোহামেডান সমর্থকদের প্রতি উৎসর্গ করেন। ৪৩ বছরের ফেডারেশন কাপের ইতিহাসে দিয়াবাতেই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি ফাইনালে সর্বোচ্চ ৪ গোল করেন (ক্যারিয়ারে এই প্রথম কোন ম্যাচে ৪ গোল করলেন দিয়াবাতে) শুধু তাই নয়, ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৮ গোল) ... তিনটি পুরস্কার একাই বগলদাবা করে আরেকটি কীর্তি গড়েন। 

আফ্রিকার দেশ মালির অধিবাসী দিয়াবাতে। জন্ম ২৩ মার্চ, ১৯৯১। ধর্ম-ইসলাম। উচ্চতা কাঁটায় কাঁটায় ৬ ফুট। জার্সি নম্বর ১০। মোহামেডানের অধিনায়ক কাম ফরোয়ার্ড। টানা পাঁচ মৌসুম ধরে খেলছেন ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ খ্যাত মোহামেডানে। ৭৬ ম্যাচ খেলে করেছেন ৫৬ গোল। এর মধ্যে লিগেই করেছেন ৪৪ গোল। এর আগে খেলেছেন ভিয়েতনামের কান থু এফসি (২০১০-২০১৪) এবং লং আন এফসি (২০১৫)-তে। গত মৌসুমে দিয়াবাতে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা (২১ গোল)। সেবার মোহামেডান লিগে হয়েছিল পঞ্চম। চলতি মৌসুমে মোহামেডান আছে চারে এবং ১২ গোল করে দিয়াবাতে আছেন টপ গোলস্কোরারদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে। মোহামেডান কোচ আলফাজ আহমেদের ‘তুরুপের তাস’ দিয়াবাতের চাওয়া লাল-সবুজের জার্সিতে খেলা।

এ প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারলে খুশি হবো।’ ফিফার নিয়ম হচ্ছে কোন দেশের হয়ে টানা ৫ বছর লিগে খেললে এবং এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অন্য ক্লাব বা দেশের হয়ে না খেললেই সেই দেশের নাগরিকত্ব লাভের জন্য আবেদন করা যাবে। এই দুটি শর্তই পূরণ করা হয়ে গেছে দিয়াবাতের। এজন্য তার চাওয়া বাফুফে থেকে যেন তাকে প্রস্তাব দেয়া হয়। 
ব্রাজিলিয়ান সাবেক তারকা ফুটবলার কাকার ভক্ত দিয়াবাতে নিজ দেশ মালির (ফিফা র‌্যাঙ্কিং ৫৩) হয়ে খেলবেন, সেই আশা সুদূর পরাহত। তাছাড় বয়সটাও হয়ে গেছে ৩২। এই বয়সে নিজ দেশের হয়ে খেলার জন্য ডাক পাবেন, এই আশা করেন না দিয়াবাতে। কিন্তু তার তো সুযোগ আছে বাংলাদেশের হয়ে খেলার। তাছাড়া মোহামেডানের হয়ে খেলার সুবাদে এই দেশের মানুষ, সংস্কৃতিসহ সবকিছুকেই ভালোবেসে ফেলেছেন তিনি। কাজেই এলিটার পর তাকে জাতীয় দলে ডাকা যেতেই পারে, আর তা হলে দক্ষ স্ট্রাইকার ও গোল সংকটে ভোগা জাতীয় দল যে তাতে উপকৃতই হবে, এটা এখন বাফুফে সময়মতো বুঝতে পারলেই হয়!